গত ১৭ মার্চ ব্রুকলিনের একটি সাবওয়ে স্টেশনে ২০ বছর বয়সী এক মুসলিম নারীকে হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের একটি সাবওয়েতে একজন মুসলিম নারীকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী হামলার ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মুসলিম নারীকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী ওই নারী ১৭ মার্চ সকাল প্রায় ১০টা ৫০ মিনিটে সানসেট পার্ক এলাকার নাইনথ অ্যাভিনিউ সাবওয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হামলাকারী একই বেঞ্চে বসে হঠাৎ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজিত মন্তব্য শুরু করে এবং শহরে “সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে” বলে অভিযোগ তোলে।
এরপর সে ওই নারীকে সন্ত্রাসী বলে অপমান করে এবং ইসলামবিদ্বেষী গালাগালি দেয়। একপর্যায়ে হামলাকারী তাকে জোর করে ধরে ম্যানহাটনমুখী ডি ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেয়। পুলিশ জানায়, হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নারীর হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলে, ফলে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী হামলার সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ভুক্তভোগী নারীকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হননি। তবে ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত করছে এনওয়াইপিডি হেট ক্রাইমস টাস্ক ফোর্স, যা বিশেষভাবে বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা তদন্ত করে থাকে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি হেট ক্রাইম হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার পুলিশ সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করেছে, যাতে কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারলে তথ্য দিতে পারে। তার গায়ের রং হালকা এবং ঘটনার সময় সে কালো-সাদা জ্যাকেট, গাঢ় রঙের প্যান্ট এবং কালো জুতা পরা ছিল।
এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস-এর নিউ ইয়র্ক শাখা ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাশের বলেন, এই ধরনের মুসলিমবিরোধী হামলা প্রমাণ করে যে বিদ্বেষ এখনো বাস্তব এবং বিপজ্জনক। কারও ধর্ম বা পরিচয়ের কারণে তাকে টার্গেট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংস্থাটি প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে গণপরিবহনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং কারও কাছে এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকলে ক্রাইম স্টপার্স-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।