ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) অভিবাসন আবেদন ও পিটিশনের জট আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। নতুন সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউএসসিআইএসের পেন্ডিং মামলার সংখ্যা রেকর্ড ১ কোটি ২১ লাখে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৭.২ শতাংশ বেশি। ইউএসসিআইএসের ডেটাসেট অনুযায়ী, ২০১৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সংস্থাটির পেন্ডিং মামলা ছিল মাত্র ৩০ লাখের কিছু বেশি। এক দশক পর সেই সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ২১ লাখে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে সংস্থাটির জমে থাকা মামলার পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ব্যাকলগ বাড়ছে এমন সময়ে যখন ইউএসসিআইএসে নতুন আবেদন আসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন ফাইলিং বা রিসিপ্ট ৪৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে ইউএসসিআইএস যে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করেছে, সেই সংখ্যাও ৪৪.৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে নতুন কাজ কমলেও পুরোনো মামলার জট কমেনি।
২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউএসসিআইএস প্রায় ১৫ লাখ আবেদন ও পিটিশন নিষ্পত্তি করেছে। এটি টানা অষ্টম প্রান্তিকে নিষ্পত্তি কমার ঘটনা। তুলনায় ২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংস্থাটি ৩৩ লাখ আবেদন ও পিটিশন সম্পন্ন করেছিল। সর্বশেষ প্রান্তিকের দ্বিগুণেরও বেশি। ব্যাকলগ পরিষ্কার করতে প্রয়োজনীয় আনুমানিক সময়ও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেখানে ব্যাকলগ পরিষ্কার করতে আনুমানিক ১২.৫ মাস লাগতো, ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ২৪.১ মাসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রয়োজনীয় সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শুধু ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যেই এটি ১৮.৬ মাস থেকে ২৪.১ মাসে, প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
কিছু নির্দিষ্ট অভিবাসন ক্যাটাগরিতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের আবেদনকারীদের আই-৭৬৫ ওয়ার্ক অথরাইজেশন মামলার পেন্ডিং সংখ্যা এক বছরে ২০৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার, যা ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেড়ে ৫ লাখ ৮৫ হাজারে পৌঁছায়।
শরণার্থীদের গ্রিনকার্ড বা অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের আই-৪৮৫ মামলার ব্যাকলগও এক বছরে ১৯০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এইচ-১বি, এল-১ ও ও-১সহ বিভিন্ন ননইমিগ্র্যান্ট কর্মীর আই-১২৯ পিটিশনের পেন্ডিং মামলা ৯০ শতাংশ বেড়ে ৬৩ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজারে উঠেছে। অথচ এই ক্যাটাগরিতে নতুন ফাইলিং কমেছে ১ শতাংশেরও কম এবং অনুমোদনের হার ৮৯.২ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৮৯.৬ শতাংশ হয়েছে। শুধু ব্যাকলগ নয়, কিছু ক্যাটাগরিতে অনুমোদনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিউবান নাগরিকদের আই-৪৮৫ অনুমোদনের হার ৯৭.২ শতাংশ থেকে ৫২.৬ শতাংশে নেমেছে। শরণার্থীদের ক্ষেত্রে অনুমোদন ৯৭.৪ শতাংশ থেকে ৬৬.১ শতাংশে কমেছে।
অসাধারণ দক্ষতার কর্মীদের আই-১৪০ ইবি-১ ই১১ ক্যাটাগরিতে অনুমোদনের হার ৭২.৭ শতাংশ থেকে ৪১.৭ শতাংশে নেমেছে। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা ইবি-২ এনআইডব্লিউ পিটিশনে অনুমোদনের হার ৬৭.৩ শতাংশ থেকে ৪৮.১ শতাংশে কমেছে। প্যারোল-ইন-প্লেসের আই-১৩১ আবেদনেও অনুমোদনের হার ৭৮.৬ শতাংশ থেকে ৫৪.৫ শতাংশে নেমেছে। তবে সব ক্ষেত্রে অবস্থা নেতিবাচক নয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক আই-৪৮৫ অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস মামলার অনুমোদন ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে যেখানে ২১ হাজার ৯২৪টি মামলা অনুমোদিত হয়েছিল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪১ হাজার ৯৭৯টিতে পৌঁছেছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার বার্ষিক সীমা। ২০২৬ অর্থবছরে কর্মসংস্থানভিত্তিক মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৭টি অভিবাসন ভিসা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৩১৭টি ভিসা ২০২৫ অর্থবছরে অব্যবহৃত পরিবারভিত্তিক ভিসা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে।
অর্থবছর শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। ফলে ইউএসসিআইএস এবং পররাষ্ট্র দফতরকে বছরের শেষ হওয়ার আগে যোগ্য কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনগুলো প্রক্রিয়া করে ভিসা ইস্যু করতে হবে। কারণ কোনো অর্থবছরের অব্যবহৃত কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা সাধারণত পরবর্তী অর্থবছরে বহন করা যায় না। এতে সময়মতো মামলা নিষ্পত্তি না হলে ভিসা নম্বর ব্যবহারের সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ইউএসসিআইএস নিজেও প্রতি প্রান্তিক ও অর্থবছর অনুযায়ী আবেদন ও পিটিশনের রিসিভড, অ্যাপ্রুভড, ডিনাইড, পেন্ডিং এবং প্রসেসিং টাইম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। সামগ্রিক চিত্র হলো, নতুন আবেদন ৪৫ শতাংশ কমেছে, কিন্তু ব্যাকলগ বেড়ে রেকর্ড ১ কোটি ২১ লাখে পৌঁছেছে এবং মামলার নিষ্পত্তির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে গ্রিনকার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, পরিবারভিত্তিক আবেদন, কর্মসংস্থানভিত্তিক পিটিশনসহ বিভিন্ন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা লাখ লাখ আবেদনকারীকে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।