১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৯:১০:৩৩ অপরাহ্ন


বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনঃস্থাপনের দায় ভারতের
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনঃস্থাপনের দায় ভারতের বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় পতাকা


দক্ষিণ এশিয়ার দুই উন্নয়শীল অর্থনীতির দেশ ভারত এবং বাংলাদেশের স্বার্থেই দুদেশের মধ্যে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে প্রায় তিন দিক পরিবেষ্টিত করে রাখা এশিয়ার পরাশক্তি ভারত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের পরীক্ষিত বন্ধু দেশ হলেও কালের বিবর্তনে ভারতের দাদাগিরি মনোভাবের কারণে দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন ক্ষয়িষ্ণু হয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। স্বাধীনতা প্রজন্মের অন্যতম সচেতন বাংলাদেশি হিসাবে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের এক চেটিয়া প্রভাব বিস্তারের কৌশলের প্রতিবাদ করে আসছি। একসময় তৎকালীন ইউএসএইড উদ্যোগের সার্ক এনার্জি গ্রিড স্থাপনের বিষয়ে আলোচনাকালে ভারতের বন্ধুদের একচোখা কৌশল পরিহার করে সার্বভৌম সমতার প্রতি সম্মান রেখে আলোচনা অব্যাহত রাখতে অবস্থান নিয়েছি। 

সমর্থন ছিল ভারত ছাড়া বাকি দেশগুলোর। ঢাকা, দিল্লি, কলম্বো, কাঠমুন্ডু এমনকি পরবর্তী সময়ে ইয়াঙ্গুন এমনকি ব্যাংককে নানা আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে বচসা হয়েছে ভারত প্রতিনিধিদের সঙ্গে। মূলত ভারতের উদার নীতির অভাবে ভেস্তে গেছে সার্ক গ্যাস বিদ্যুৎ নেট ওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ। ২০০৫ থেকে প্রবাসী হওয়ার কারণে এবং সার্ক নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতার উদ্যোগ স্থবির হয়ে আছে। এগোয়নি বিবিআইএন জ্বালানি করিডোরের উদ্যোগ। বর্তমান বাস্তবতায় কবে উত্তর আমেরিকা, পূর্ব এবং পচিম ইউরোপের আদলে দক্ষিণ এশিয়া জ্বালানি বিদ্যুৎ করিডোর। কিন্তু এটুকু বাস্তব সম্পৃক্ততা থেকেই বলছি এখানে মূল দায় ভারতের। প্রশ্ন করি দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর সীমান্ত জুড়ে কেন কাঁটাতারের বেড়া? কেন ঝুলে আছে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন ব্যাবস্থাপনা? কেন চলছে সীমান্ত হত্যা?

একসময় রেল, সড়ক, নৌপথ যোগাযোগ উন্মুক্ত থাকলেও নানা ভূরাজনৈতিক ঘটনা এবং দুর্ঘটনার পরিণতিতে অবাধ যোগাযোগ পরিকল্পনা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। অথচ দুটি দেশ আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে সমতার ভিত্তিতে অবাধ যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি বিদ্যুৎ সহযোগিতা করলে উপকৃত হতো দুদেশের কোটি কোটি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী। কিন্তু উভয় দেশের কিছু উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডে দুদেশের পারস্পরিক আস্থা এখন শূন্যের কোঠায়। এমনকি কিছু উগ্র রাজনৈতিক দল উসকে দিচ্ছে সংঘাতের। 

অবিলম্বে সচেতন মহলের সংযোগে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি উষ্ণ করা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উভয় দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা। উভয় দেশকেই অবশ্য পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। আবারও সার্ককে সক্রিয় করে জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ পানি বণ্টন, যোগাযোগ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে শীর্ষ পর্যায়সহ সব পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা শুরু করা উচিত। আর এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা অবশ্যই নিতে হবে ভারতকে। নেবো সবকিছু কিন্তু বণ্টন করবো না সমতার ভিত্তিতে, এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে এ কথাগুলো ভারতের বেলায় বেশ প্রযোজ্য হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন