এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি (লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিংসাপেক্ষ) অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কেন এবং কী কারণে এ সিদ্ধান্ত?
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলিট ফোর্স হিসেবে কাজ করলেও নানা সময়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে দেশ-বিদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাহিনীটি সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি উঠে আসছিল। এ সংস্কারের অংশ হিসেবে সামরিক ও বেসামরিক একাধিক বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত কমান্ড কাঠামোর বদলে পুরো ইউনিটটিকে প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নাম, নিজস্ব পোশাক, প্রতীক ও পতাকা ব্যবহারের মাধ্যমে বাহিনীটির ভাবমূর্তি পুনঃসংগঠন ও কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই আইন প্রণয়নের মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত ‘এসআরবি আইন, ২০২৬’-এর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সম্পূর্ণ পুলিশি কাঠামোর অধীনে আনয়ন:
প্রচলিত র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ইউনিট ‘এসআরবি’কে সরাসরি পুলিশ বাহিনীর বিশেষায়িত কাঠামোয় পরিচালনা করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নাগরিকদের আনা অভিযোগ এবং ব্যাটালিয়নের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বাধীন ও বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
সম্পদ ও জনবল হস্তান্তর:
র্যাবের বিদ্যমান সব জনবল, প্রশাসনিক আদেশ, অর্পিত ক্ষমতা, সুবিধা, তহবিল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, আর্থিক হিসাব ও রেকর্ডপত্র সরাসরি নতুন প্রতিষ্ঠিত এসআরবির কাছে হস্তান্তরিত হবে।
নতুন বিধিমালা ও কার্যধারা: এসআরবির জন্য নতুন বিধিমালা চূড়ান্তভাবে প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার নিয়মনীতি প্রয়োজনীয় অভিযোজন (ধফধঢ়ঃধঃরড়হ) ও পরিমার্জন সহকারে কার্যকর থাকবে।