১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩১:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ১৮ অক্টোবর মাইর শুরু হয়েছে কেবল, আসল মারই তো শুরুই হয়নি সাবওয়ে স্টেশন ঠান্ডা রাখতে নতুন পরিকল্পনা শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শতবর্ষী চেম্বারস স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সংস্কারে বড় প্রকল্প মুসলিম হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি, অভিযোগ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর হিজাব পরা নারীকে হামলার অভিযোগ : জোনাথন স্ট্রিপের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের মামলা ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্কের অগ্রণী গবেষক এস্পোসিতোর মৃত্যু মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভিনসেন্ট তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের


দিল্লিতে বসে ঢালাওভাবে অডিও বার্তার সুযোগ হারাচ্ছেন হাসিনা
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
দিল্লিতে বসে ঢালাওভাবে অডিও বার্তার সুযোগ হারাচ্ছেন হাসিনা শেখ হাসিনা


দিল্লিতে বসে ঢালাওভাবে অডিও বার্তা দিতে আর সুযোগ পাচ্ছেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পাশাপাশি ওই দেশ থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতি কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগারের সুযোগও তিনি হারাচ্ছেন। এসব তথ্য পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্র থেকে। 

ভারতের দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য দেওয়া ও মতবিনিময়ের ঘটনার জেরে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে তীব্র টানাপোড়েন ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার একে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে এ ধরনের আয়োজনের সাথে তাদের সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনকি এ প্রসঙ্গে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে মুখও খুলেছেন। এতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা কিছু বলেছেন, ভারত সরকার তা অনুমোদন করে না। এর পাশাপাশি কিছু নতুন কূটনৈতিক ভাষা-ও ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা যায় দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত (ডিউলি কনস্টিটিউটেড) সরকারের বিরুদ্ধে, তা ভারত সরকার অনুমোদন করে না।

এদিকে এই ধরনের পরিস্থিতিতে কথা উঠেছে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে। গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে,দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে মারাত্মক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়াটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। 

অন্যদিকে এতোসব শঙ্কার মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত ১০ আগস্ট সোমবার সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ভারতের নবনিযুক্ত এই হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে অনেক ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এমনকি আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ প্রশ্নেও। তবে এমুহূর্তে সেটি প্রকাশ্যে না এলেও অন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ে ভারত সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ পাওয়ার নিশ্চয়তার আশ্বাস মিলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ইস্যু হচ্ছে ভারতের দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘন ঘন অডিবার্তা প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা আর যেনো ঢালাওভাবে বক্তব্য দিতে না পারেন এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরের রাজনীতি নিয়ে আর কথা না বলেন-সে বিষয়টি ভারত গুরুত্ব সহকারে নেবে বলে তাকে জানানো হয়েছে। 

এবিষয়টি পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে এক বৈঠকে ত্রিবেদীকে তিনি পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে-নির্বাহী, আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগ। বলা হয়েছে যে শেখ হাসিনা বিচার বিভাগ থেকে দন্ডপ্রাপ্ত। কিন্তু তিনি (শেখ হাসিনা) ৫ আগস্ট বাংলাদেশের বিচার বিভাগ তথা রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় ‘রাষ্ট্রের কাঠামোর প্রতি সব দেশ শ্রদ্ধাশীল হোক’। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে আন্ডারমাইন (খাটো) করার কিছু আর করবে না।

জণগণ আর চায় ভারতের ওই ভূমিকা

এদিকে ঢাকা বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে আলাদা বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠকে উঠে আসে দু-দেশের জনগণের সাথে আরও বন্ধুদ্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়। এতে ভারতকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে বাংলাদেশের মানুষ দেড় যুগ ধরে গণতন্ত্র পায়নি। ভোটারবিহীন নির্বাচন দেখতে দেখতে জনগণ অতিষ্ঠ্য। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা সেই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে ভারত দেড়যুগ নিরব ছিল। এনিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতের ব্যাপারে অনেক ক্ষোভ। এখনো যদি সে-ই ফ্যাসিবাসী সরকারের পক্ষে ভারত গুণর্কীতন গায় তাহলে বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সেক্ষেত্রে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তারেক রহমানের সরকারও ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির ব্যাপারে বেকায়দা পড়বে। তা-ই ভারতে বসে শেখ হাসিনা ফের কোনো ধরনের বাংলাদেশে সরকার বিরোধী প্রচারণা করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের পক্ষে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা কষ্টকর হবে। সেজন্য অবশ্যই শেষ হাসিনার অডিও বা ভিডিও ভাষণ প্রচারে ভারতের সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ করতেই হবে। জানা গেছে, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বিষয়টির গুরত্ব দিয়েছেন। এদিকে শেখ হাসিনার বিষয়টি যে একধরনের সুরাহা হয়ে গেছে তা গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে। গত ১৭ বছর যেভাবে সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ‘বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না।’ পাশাপাশি তিনি জানালেন যে, আর প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ভারতে যেতে পারেন।’

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, ভারত বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। এক্ষেত্রে ভারতের এই ধরনের অবস্থানে তা-র আভাসও মিলেছে। কূটনৈতিক পর্যায়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সাথে ঢালাও ভাবে সর্বস্থরের নেতাকর্মীরা যেনো যোগাযোগ বা সরাসরি সাক্ষাৎ এ সুযোগ না পান সেব্যাপারেও ভারত সরকার কঠোরতা দেখাবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে। এমন আভাসের পরিপেক্ষেতেই সোমবার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে; আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’ তবে বৈঠকে একটি সূত্র জানায় যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দন্ডিত শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যার্পণে ঢাকার আহবানে খুব একটা সাড়া মেলেনি। কিন্তু ভারতে গ্রেপ্তার শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত প্রত্যার্পণে ভারত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে বৈঠকের ওই সূত্র জানায়।

শেয়ার করুন