১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ১৮ অক্টোবর মাইর শুরু হয়েছে কেবল, আসল মারই তো শুরুই হয়নি সাবওয়ে স্টেশন ঠান্ডা রাখতে নতুন পরিকল্পনা শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শতবর্ষী চেম্বারস স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সংস্কারে বড় প্রকল্প মুসলিম হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি, অভিযোগ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর হিজাব পরা নারীকে হামলার অভিযোগ : জোনাথন স্ট্রিপের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের মামলা ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্কের অগ্রণী গবেষক এস্পোসিতোর মৃত্যু মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভিনসেন্ট তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের


টেড ক্রুজের শুনানিতে মুসলিমবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
টেড ক্রুজের শুনানিতে মুসলিমবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ


মিশিগানের ডেমোক্র‍্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে আবদুল এল সায়েদের জয়ের পেছনে মুসলিম ব্রাদারহুডের কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের একটি শুনানি করেছেন টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। তবে ক্রুজের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে ডেমোক্র‍্যাটদের পাশাপাশি তার নিজ দলের কোনো সদস্যও উপস্থিত হননি। ফলে শুনানিটি কার্যত এক ব্যক্তির বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিনেট জুডিশিয়ারি সাবকমিটির এ শুনানিতে ক্রুজ দাবি করেন, মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল এল সায়েদের উত্থানের পেছনে একটি বৃহত্তর সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে। তার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মুসলিম ব্রাদারহুড এবং যুক্তরাষ্ট্রে এর কথিত প্রভাব। এল সায়েদ মিশিগানের ডেমোক্রে‍টিক সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে এখন সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তিনি জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্রুজের শুনানিতে ডেমোক্র‍্যাটিক সদস্যরা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করে এটিকে মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করে তৈরি করা একটি পলিটিক্যাল ক্রিপশো বলে অভিহিত করেন। তাদের অভিযোগ, শুনানিটির উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নিরপেক্ষ আলোচনা নয়, বরং মুসলিমবিরোধী ভীতি ও সন্দেহ উসকে দেওয়া।

শুনানিতে ক্রুজ ডেমোক্র‍্যাট সদস্যদের অনুপস্থিতির দিকে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু সমালোচকদের কাছে আরো উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, তার নিজ দলের সাবকমিটির কোনো সদস্যও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে শুনানিতে কার্যত একমাত্র আইনপ্রণেতা হিসেবে ক্রুজই বক্তব্য দেন। ক্রুজ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বিস্তৃত। তিনি এ প্রসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে বিভিন্ন মুসলিম ও নাগরিক সংগঠনের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে।

এল সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। ডানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী বহু বছর ধরেই তার পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযোগ তুলে আসছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণের শক্তি ও ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

ক্রুজ এর আগেও মুসলিম ব্রাদারহুডকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি প্রস্তাবিত আইনে মুসলিম ব্রাদারহুডকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস বা কায়ার ক্রুজের শুনানির তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, রাজনৈতিক লাভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও সন্দেহ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই শুনানিটি আয়োজন করা হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো ধর্মীয় পরিচয়, নাগরিক অধিকার কার্যক্রম বা সামাজিক যোগাযোগকে একা সন্দেহের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তোলে।

অন্যদিকে ক্রুজের সমর্থকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক ও প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত ও নজরদারি প্রয়োজন। তাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন আরো রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে। এল সায়েদ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি শুধু মিশিগানের প্রথম মুসলিম সিনেটরই নন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার দৃষ্টান্তও স্থাপন করবেন। ফলে তার প্রার্থিতা ঘিরে ধর্মীয় পরিচয়, মুসলিমবিরোধী রাজনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিতর্ক আগামী নির্বাচনী প্রচারে আরো তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টেড ক্রুজের এ শুনানির মাধ্যমে মিশিগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচন এখন জাতীয় পর্যায়ের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। তবে শুনানিতে উত্থাপিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে এল সায়েদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সম্পর্ক কতটা প্রমাণিত, সেটিই এখন বিতর্কের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

শেয়ার করুন