দেশ রিপোর্ট: বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র—দুই মহাদেশজুড়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লাইভ পারফরম্যান্সে দর্শক মাতানোর পর এবার নিজের মৌলিক সঙ্গীত নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন প্রখ্যাত ড্রামার, গায়ক ও কম্পোজার নাফিজ আল আমিন। গত ২২ মে ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম একক ইপি ‘বেশি জস!’। এরপর ১০ জুলাই ২০২৬ মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন একক গান ‘বাংলাদেশ ২.০’। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ দিকে সমস্ত প্রধান ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং প্রিমিয়াম এলপি ভিনাইল-এ প্রকাশিত হবে তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও অ্যালবাম।
তাল, লয় এবং যুগান্তকারী সব কোলাবোরেশনের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস
সঙ্গীতজগতে নাফিজ আল আমিন কোনো নতুন নাম নন। বাংলাদেশের অল্টারনেটিভ রক মিউজিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। ২০১২ সাল থেকে তিনি কিংবদন্তি ব্যান্ড আর্বোভাইরাস-এর স্থায়ী ড্রামার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি দেশজুড়ে অসংখ্য কনসার্ট ও ট্যুরে অংশ নিয়েছেন। এ সময় তিনি এলিটা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস, জ্যাজি চপস্টিকস, জাদু ট্রিও এবং রাস্টি র্যাম্বলার্স-এর মতো জনপ্রিয় লাইভ অ্যাক্টের সঙ্গে ড্রামসে পারফর্ম করেছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত নাফিজ সেখানকার রক মিউজিক দৃশ্যেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি বর্তমানে অরল্যান্ডোভিত্তিক জনপ্রিয় পাংক রক ব্যান্ড দ্য মিল্ক ব্যান্ডিটস এবং টার্ন সিগন্যাল-এর ড্রামার হিসেবে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। সম্প্রতি তিনি ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফুড অ্যান্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ জনপ্রিয় মিউজিক্যাল প্রজেক্ট টেপডেক অরল্যান্ডো-এর সঙ্গে ড্রামসে লাইভ পারফর্ম করে প্রশংসা অর্জন করেন।
দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে নাফিজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীর সঙ্গেও কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কিংবদন্তি গিটারিস্ট সেথ পান্ডুরাঙ্গা ব্লামবার্গ, যিনি আইক টার্নার এবং পণ্ডিত রবি শঙ্কর-এর সঙ্গে গিটার বাজিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বখ্যাত ডেথ মেটাল ব্যান্ড অবিচুয়ারি-এর গিটারিস্ট কেন অ্যান্ড্রুজ-এর সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন।
দুই মহাদেশের মঞ্চে তৈরি হওয়া এক অনন্য সুরের ছাপ
‘বেশি জস!’ ইপির গানগুলো দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে নাফিজের ডায়েরি এবং ব্যক্তিগত ভাবনায় জমা থাকলেও, সেগুলোর চূড়ান্ত সাউন্ড তৈরি হয়েছে মূলত বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা থেকে।
গত চার বছরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক সফর ও কনসার্ট করেছেন। এই সময় বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি শিল্পী শাফিন আহমেদ (মাইলস), বালাম এবং হাবিব ওয়াহিদ-এর সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গীতচিন্তাকে নতুন মাত্রা দেয়।
বড় বড় কনসার্টে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, রক, জ্যাজ এবং পাংক ড্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা নাফিজকে দুই দশকের পুরোনো কম্পোজিশনগুলো নতুনভাবে সাজানোর অনুপ্রেরণা জোগায়। দেশে থাকা তাঁর নিজস্ব মিউজিশিয়ান নেটওয়ার্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিমের সঙ্গে দূর থেকে সমন্বয় করে তিনি সেই পুরোনো ভাবনাগুলোকে আধুনিক অল্টারনেটিভ সাউন্ডে রূপ দিয়েছেন।
ইপি থেকে ২০২৬-এর আসন্ন এলপি: সঙ্গীতের বিবর্তন
‘বেশি জস!’ ইপিতে রয়েছে পাঁচটি গান। গত ২২ মে মুক্তি পাওয়া এই ইপিতে অল্টারনেটিভ সাউন্ড, শক্তিশালী প্রোডাকশন এবং দীর্ঘদিনের স্টেজ পারফরম্যান্সের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে।অন্যদিকে, ১০ জুলাই প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ২.০’ একটি স্টেডিয়াম-রেডি অ্যান্থেম, যা নতুন প্রজন্মের অদম্য ও প্রগতিশীল চিন্তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে পারফর্ম করার সময় দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে পাওয়া শক্তি ও অনুপ্রেরণা এই গানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
নাফিজ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষের দিকে তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও অ্যালবাম বিশ্বের সব প্রধান ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংগ্রাহক ও সংগীতপ্রেমীদের জন্য অ্যালবামটি প্রিমিয়াম এলপি ভিনাইল আকারেও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
নাফিজ আল আমিন একজন আধুনিক ও স্বাধীন সঙ্গীতশিল্পী, প্রযোজক এবং মাল্টি-ইনস্ট্রুমেন্টালিস্ট। আর্বোভাইরাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাংক রক ব্যান্ডগুলোর একজন প্রখ্যাত ড্রামার হিসেবে তিনি সুপরিচিত। র-অল্টারনেটিভ টেক্সচার, লাইভ পারফরম্যান্সের উচ্চমাত্রার এনার্জি এবং আধুনিক প্রোডাকশনের সমন্বয়ে তিনি নিজের স্বতন্ত্র সঙ্গীতশৈলী গড়ে তুলেছেন, যা তাঁকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত অঙ্গনে একটি শক্তিশালী পরিচিতি এনে দিয়েছে।
বর্তমানে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, ইউটিউব-সহ সব প্রধান ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ‘বেশি জস!’ এবং ‘বাংলাদেশ ২.০’ শোনা যাচ্ছে। এ বছরের শেষ দিকে প্রকাশিত হতে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম এবং এলপি ভিনাইল সংস্করণের প্রি-অর্ডার সংক্রান্ত ঘোষণা শিগগিরই দেওয়া হবে।