০৬ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:২৭:০৬ পূর্বাহ্ন


সার্জিও গোরের সফর কি বার্তা পেলো বাংলাদেশ?
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৮-২০২৬
সার্জিও গোরের সফর কি বার্তা পেলো বাংলাদেশ? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গোর


যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাংলাদেশ সফর ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। কোনো দেশের সরকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে এসে দেশের প্রধানমন্ত্রী, সরকার এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা করা কূটনৈতিক কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হয়। সেসব সভা বা আলোচনা স্বাভাবিক কূটনৈতিক কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হয়। কিন্তু সার্জিও গোরের সম্প্রতি শেষ হওয়া সফরে ঢাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ আর আলোচনা ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি চিন্তা করুন চীন সরকারের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি যদি যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইরান বা রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করতো। 

বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ এবং ভূরাজনীতির নানা কারণে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। বিশেষত জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় অধিক মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি এবং খাদ্যপণ্য আমদানির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চীনের দিকে ঝুঁকে পড়া নিয়ে ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎবেগের বিস্ময়গুলো আলোচনায় আছে। ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের বাংলাদেশ সফর কূটনৈতিক মহলে গভীর আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

দুটি স্বাধীন দেশ পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে, সে আলোচনায় পারস্পরিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হবে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কেন কি উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঢাকায় বিশেষ আলোচনা সভায় মিলিত হলেন সে বিষয়ে বাংলাদেশের জনসাধারণ জানার অধিকার রাখে। বিষয়টি এমন না যে, একটি ভোজসভায় মার্কিন প্রতিনিধি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকার করেছে। 

২০২৪ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনে মার্কিন ডিপ স্টেটের পৃষ্ঠপোষকতা বা ইন্ধন ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন স্বার্থরক্ষায় দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নসাপেক্ষ করেছে বলে অনেকের ধারণা। বিশেষ করে ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করে দেশকে কঠিন সমস্যায় ফেলে গেছে অনির্বাচিত সরকার। সে চুক্তি নির্বাচিত সরকার জাতীয় সংসদে এনে আলোচনা দূরের কথা সে চুক্তি বাস্তবায়নে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এটি গেল বাণিজ্যিক বা কৌশলগত বিষয় একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যখন আলোচনা বিতর্ক তুঙ্গে তখন মার্কিন দূতের বাংলাদেশ সফর এবং ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ পর্যালোচনা দাবি করে। আশা করি বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে অবস্থান সুস্পষ্ট করবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে সুদৃঢ় হোক, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করুক সেটি কামনা করি। কিন্তু কোনো কিছু যেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে না হয়। বিশ্বপরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশ যেন দীক্ষা গ্রহণ করে।

শেয়ার করুন