০৬ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:৪১:১৩ পূর্বাহ্ন


সংকটের পূর্বাভাস চারিদিক থেকে
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৮-২০২৬
সংকটের পূর্বাভাস চারিদিক থেকে


মাত্র পাঁচ মাস সময়ে ৫ বছর মেয়াদে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার মূল্যায়ন করা মোটেও সমীচীন না। তবে বাংলাদেশের মতো বহুধাবিভক্ত সামাজিক পরিবেশে এবং অসহিষ্ণু সহমর্মিতাবিহীন অবস্থায় ২০২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে শঙ্কা জাগছে সরকার কি অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক হয়ে সবকিছুতে তাল গোল পাকিয়ে ফেলছে? এমনিতেই ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান দিয়ে শুরু করা জেন জির আন্দোলনের পটভূমিতে মেটিকুলাস ডিজাইন করে ক্ষমতায় এসে ড. ইউনূস সরকার ১৮ মাস সময়ে দেশকে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে ধ্বংসের দুয়ার প্রান্তে রেখে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা বিরোধীদের অভয়রণ্যে পরিণত করেছিল।

মব সন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার প্রচেষ্টায় হিংস্র আচরণ করছিল মৌলবাদী গোষ্ঠী। তরুণ সমাজের একটি গোষ্ঠীর পাশাপাশি একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরাও মেতে উঠেছিল অবাধ লুটপাট আর চাঁদাবাজিতে। ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি, দ্রবমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। অনেকটা মেটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হিসাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংস্কার আর পুনঃগঠনের বাস্তব কার্যক্রম উপেক্ষিত ছিল। অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী আঁতাতের নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতা গ্রহণ করে বিএনপি নেতৃত্বের জোট সরকার। ১৭ বছর নির্বাসনে থাকা তারেক জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত হয় সরকার। ৫ মাসের কার্যকালে সরকার মৌলিক সংস্কার দূরের কথা গতানুগতিক রাজনৈতিক দুর্বলতা থেকেই বেরোতে পারেনি। অর্থনীতি এখনো বিপাকে, দুর্বিসহ জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে দেশ, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেই, সর্বোপরি আগের সরকারের ধারাবাহিকতায় স্বজনপ্রীতি দুর্নীতির করালগ্রাসে দেশ, পরমত সহিষ্ণুতার ছিটেফোঁটা নেই, পার্লামেন্ট এবং রাজপথে বিরোধী দল যৌক্তিক বা অযৌতিকভাবে আন্দোলন করছে। নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। এমনিতেই দ্রবমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেয়ালে পিঠ থেকে আছে সাধারণ জনসাধারণের। এমন অবস্থায় তীব্র গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্পবাণিজ্য জনজীবন অচল হয়ে পড়ার পরিস্থিতি। সচেতন মানুষ ঈশান কোণে মেঘ দেখতে পারছে। পাঁচ মাস সময়ে সরকারের তরফ থেকে এমন কিছু পরিকল্পক বা প্রস্তুতি দৃশ্যমান হয়নি যে, অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় সংকট ইউনুস সরকার রেখে গেছে নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা বাণিজ্য চুক্তি করে। দেশের সার্বভৌমত্ব বিনাশী বহুমুখী ক্ষতিকারক এই চুক্তি তারেক জিয়া সরকার না পারছে গিলতে না পারছে উগড়ে ফেলতে। ধীরে ধীরে আগ্রাসী অজগরের মত বাংলাদেশকে গিলে ফেলার উপক্রম হয়েছে। তীব্র জ্বালানি সংকটের সময়ে অত্যধিক মূল্য দিয়ে জ্বালানি কিনছে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অচিরেই খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি ক্রয় এখন পরিকল্পনাধীন। জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা। বন্ধ হয়েছে অনেক শিল্প, বৈদেশিক বাণিজ্যে পড়েছে অশুভ প্রভাব। বহু শ্রমিক চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে। সহসাই গ্যাস বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে সে আলামত দেখা যাচ্ছে না। 

সরকারের উচিত রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে কঠিন সংকটের সময়ে দলমতনির্বিশেষে সবার সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে সংকট উত্তরণের চেষ্টা করা। দেশ পরিচালনায় আমলানির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য লোকদের মেধার ভিত্তিতে যথাযথ স্থানে পদায়ন করে সরকার পরিচালনা। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করা। দেশের মানুষ এখনো সহনশীল আছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি চলমান থাকলে রাজপথ কিন্তু উত্তপ্ত হতে পারে। আশা করি সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সরকারপ্রধানকে সৎ পরামর্শ দেবে। বিএনপিতে এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে অনেক সচেতন মানুষ আছে, সরকার পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ত করে শাসনব্যবস্থা গতিশীল করার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন