০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ০২:৫০:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি বিশ্ব কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারো বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ভিসা : দুইবারের বেশি দূতাবাসে যেতে হবে না অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বড়রা এ প্রজন্মকে হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ : তারেক রহমানের ‘না’ সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত আশ্রয় আবেদন বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের নিউ জার্সির আইস ডিটেনশন সেন্টারে অমানবিক আচরণের অভিযোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি


গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
গ্রিনকার্ডের আবেদন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অপব্যাখ্যার পর পুনঃব্যাখ্যা, মামলার প্রস্তুতি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ


গত ২৯ মে এক পুনঃনির্দেশিকায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অধিকাংশ ইমিগ্র্যান্ট যারা আমেরিকায় গ্রিনকার্ডের আবেদন করেছে, তাদের অ্যাডজাস্টমেন্টের জন্য স্বদেশে বা তৃতীয় কোনো দেশে ফেরত যেতে হবে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করে।

ইতঃপূর্বে গত ২০ মে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এক পলিসি মেমোরেন্ডামে বলেছিল যে, আইএনএ সেকশন ২৪৫-এর বর্ণনা মতে, গ্রিনকার্ডের আবেদন হচ্ছে প্রশাসনিক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত এমন এক প্রক্রিয়া যারা কখনো সে এখতিয়ারকে অমান্য করে না। কাজেই এ বিষয়টা কোনো ধরনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে না হলেও, সবাইকে যে স্বদেশে ফেরত গিয়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে আসতে হবে তা-ও নয়।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তার নতুন ব্যাখ্যায় বলেছে যে, গ্রিনকার্ড পেতে সবাইকে স্বদেশে ফেরত যেতে হবে না। অনেকের মতে হোমল্যান্ড সিকিউিরিটি তার প্রাথমিক বর্ণনা থেকে সরে এসেছে। তখন বলা হয়েছিল দেশে গিয়ে আবেদনকারীদের গ্রীনকার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখন বলা হচ্ছে এ রকম কোনো পলিসি পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু কোনো কোনো ব্যক্তিকে স্বদেশে গিয়ে তা পেতে হবে। 

যদিও দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্র্যান্টদের এ দেশে থেকে গ্রিনকার্ড লাভের জন্য অপেক্ষা করতে হবে এ নীতি চলে আসছিল। ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে যাদের মামলা ‘ব্যতিক্রমী’ বা কোনো কারণে স্থগিত আছে, তাদের স্বদেশে ফেরত যেতে হবে। 

কিন্তু গত শুক্রবার হোমল্যান্ড সিকিরিউরিটি বলেছে, এ ব্যবস্থা সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য নয়। আর তা ইমিগ্রেশন অফিসারের ব্যক্তিগত কর্তৃত্বাধীন অর্থাৎ অফিসার কাউকেও গ্রিনকার্ডের জন্য আমেরিকার বাইরে প্রেরণ করবে কি না তা নির্ভর করবে। অফিসারদের হাতে দীর্ঘদিন ধরে এ এখতিয়ার ছিল। তা নতুন কিছু নয়। 

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ডের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন যে, এ নির্দেশনা মূলত অফিসারদের কর্তৃত্ব সম্পর্কে সচেতন করে দেওয়া। যা প্রতি মামলার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। মুখপাত্র অবশ্য তাতে তার নাম সংযোজন করেনি। তবে মুখপাত্র এসব ইমিগ্র্যান্ট প্রত্যাশীদের কথা বলেছেন। যারা ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও (আসার সময় এয়ারপোর্টে ইস্যুকৃত আই৯৪-তে যে মেয়াদ দেওয়া হয়েছে) স্বদেশে ফেরত যায়নি অথবা যেসব দেশ থেকে আগত নাগরিকরা বেহিসাবিভাবে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ হিসেবে বা ব্যক্তিগত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। এ বর্ণনা প্রথম বর্ণনার চেয়ে অনেক পরিবর্তিত তবে এতেও সংশয় থাকার কথা উঠেছে। এ বর্ণনায় কে বা কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা যথার্থভাবে বোধগম্য নাও হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউিরিটি বিভাগের অনেকে তাতে সংশয় প্রকাশ করেছে। 

কোনো কোনো ইমিগ্রেশন আইনজ্ঞ জানিয়েছে, তাদের ক্লায়েন্টদের ইমিগ্রেশন অফিসাররা জিজ্ঞেস করেছেন, কেন তারা গ্রিনকার্ড চান এ আমেরিকায় বসে। দেশে গিয়ে আবেদন করতে কি তাদের কোনো ধরনের অসুবিধা আছে?

মিস সারাহ পিয়ার্স নামে এক সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা যিনি এখন বার্ডওয়ে নামে এক সেন্টার লেফট গ্রুপের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন, তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়ে বর্তমান প্রশাসন তা সাফ করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসন ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে শক ও দুঃখ দিতে চায়, আর তাই করতে একটা কাণ্ড ঘটিয়ে থাকে, আর যা দেশের জন্য ভালো তা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে। ইমিগ্রেশন আইনজ্ঞরা বলেছেন, তারা বিষয়টা নিয়ে মামলা করবেন। তবে তার আগে তারা সবচেয়ে ভালো যা তার চর্চা করতে চায়। যাতে মানুষের কষ্ট লাগব হয় এবং আবার অনেক আইনজ্ঞ আছে তারা বিষয়টাকে ব্যবহার করে গ্রিনকার্ডের আবেদনে অহেতুক অতিরিক্ত পয়সা কামাতে চায়। সেজন্য তারা তা নিয়ে প্রতিবাদের চেয়ে মানুষকে ভয় দেখায় বেশি।

তাতে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক বেঞ্জামিন জনসন বলেছেন, বিষয়টা সত্যিকার অর্থে কি তা না জানলে তা নিয়ে মামলা করলে তা আরো কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ বিষয়টা কোর্টে চ্যালেঞ্জ করতে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা কি তা বলার সময় এখনো আসেনি। 

অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও প্রথম যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নিয়োগকারীরাও এতে অনেক সমস্যায় পড়েছে। ২০২৪ সালে ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৮ লাখ ২০ হাজার কার্ড অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়েছিল। তারা সবাই আমেরিকায় বসবাস করে আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে অনেকেই নিয়োগকর্তার মাধ্যমে এইচ ওয়ান-বি বা এইচ২বির মাধ্যমে করেছিল অথবা পারিবারিক সূত্রে আবেদন করেছিল। গ্রিনকার্ড থেকে সময় মতো সিটিজেনশিপের আবেদন না করলে সময়সাপেক্ষ তা রিনিউ বা নবায়ন করতে হয়। গ্রিনকার্ড পেলে পরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।

গত কয়েক দশক ধরে অনেকে নন ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় এসে বিয়ের মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে গ্রিনকার্ডের আবেদন করে অনেক দিন এ দেশে অবস্থান করে। পরে তাদের স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করা হয় এবং তাদের গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু এসব গ্রিনকার্ডের জন্য দেশে ফেরতে যেতে হলে দেখা যাবে স্বদেশে ভিসা অফিসার তাদের গ্রিনকার্ড আবেদন বাতিল করছে। অবশ্য তাদের আবেদন বাতিল করার কর্তৃত্ব রয়েছে ভিসা অফিসারদের। আর তা যদি হয় দেখা দেবে নতুন ঝঞ্ঝাট। এদিকে ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ করার পর কেউ দেশে গেলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য স্বদেশে অবস্থান করতে হয়। তবে অ্যাসাইলামের ক্ষেত্রে গ্রিনকার্ডের আবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। যারা অ্যাসাইলাম পেয়েছে, তাদের আবেদন করতে দেশে যেতে হবে না। পারিবারিক একীভূতকরণও তাদের ক্ষেত্রে ভিন্নপথ অনুসরণ করা হয়।

বর্তমান প্রশাসন কীভাবেস সমঝোতা করে আইনে পরিবর্তন এনে পথ চলতে হয় তার প্র্যাকটিস মোটেও করছে না। তাই রুল ওলটপালট করে অনেককে ব্যতিব্যস্ততার মধ্যে ফেলে দিয়েছে ইমিগ্র্যান্টদের। অনেক আইনজ্ঞ এ নিয়ে টু পাইস কামাচ্ছে। আবার অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

শেয়ার করুন