টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমানের দেয়া সাক্ষাৎকার বেশ আলোচনায়
গত সপ্তাহে গুলশানের ‘বাগানবিলাস ও গাঁদাফুল’ সজ্জিত বাড়ির আঙিনায় বসে তারেক রহমান যে সাক্ষাৎকার এশিয়া অঞ্চলের টাইম ম্যাগাজিনে দিয়েছেন তা বস্তুত পরিবেশিত হয়েছে একটি যুক্তির কষ্টিপাথরে বিচার করে। এটা কোনো সাক্ষাৎকার নয়, বরং লেখককে তার সংবাদ বিশ্লেষণে যেসব কথা জিজ্ঞেস করতে হয়েছে তাই তিনি জিজ্ঞেস করেছেন। এ টাইম ম্যাগাজিনে পরিবেশিত ‘বাংলাদেশের অমিতব্যয়ী সন্তান’ শীর্ষক যা ইংরেজিতে ‘এক্সক্লুসিভ বাংলাদেশেজ প্রডিগাল সন’ হিসেবে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, তার রচনা করেছেন টাইম ম্যাগাজিনের এডিটর অ্যাট লার্জ চার্লি ক্যামবেল। লেখক তার নিজস্ব ভাষ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী হিসেবে বিশেষায়িত করা ছাড়া নিবন্ধটিতে তেমন কোন বিষয়ের অবতারণা করেননি যা তারেক রহমানকে উজ্জ্বল দেশনায়ক হিসেবে তুলে ধরতে পারে। কারণ যেভাবে তা পরিবেশিত হয়েছে তাতে শেরে বাংলা একে ফজলুল হককে ১৯৫৪ সালের ব্রিটিশ পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে যেভাবে পচানো হয়েছিল তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। টাইমের নিবন্ধটি সেরকম একটি প্রয়াস বলে ধরে নেওয়া যায়। অথচ বাংলাদেশের নতুন করে তারেক বন্ধনার সংবাদপত্রগুলো যেভাবে তার অনুবাদ করেছে বিশেষ বিশেষ অংশটুকু তা টাইম ম্যাগাজিনের ১১ পৃষ্ঠার নিবন্ধ থেকে উৎকলিত মাত্র। তারেক রহমান চোখ ছল ছল অবস্থায় তার মায়ের কথা বলেছেন। নিবন্ধে বলা হয় তারেক জিয়া ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিজেকে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ারের শুরুর পর্যায়ের এরিস্টোক্রেজী ও নতুন বিপ্লবীদের চিত্রিত করেছেন। নিবন্ধে বলা হয় বাংলাদেশে যুবক বেকারত্ব ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ বাংলাদেশের কাজের জগতে প্রবেশ করে। এই অবস্থায় তারেক রহমান তার থলেতে নিয়ে এসেছেন প্রধানত পারিবারিক উত্তরাধিকার। বেগম জিয় ও লিবারেশন হিরু জিয়াউর রহমানের সন্তান তিনি, বর্তমান বয়স ৬০ বছর আর বাংলাদেশের রাজনীতির দুই শিবিরের মধ্যে এক শিবিরের অধিপতি অন্যদিকে যেভাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ‘ফাউন্ডিং প্রেসিডেন্ট’ শেখ মুজিবের উত্তরসূরী। তার সমর্থকদের মধ্যে তারেক রহমান এক নির্যাতিত ব্যক্তি বলে চিহ্নিত। বাংলাদেশে এক মতামত জরিপে তার সমর্থক ৭০ শতাংশ আর জামায়াতের সমর্থক ১৯ শতাংশ বলে প্রচার করা হয়। ব্যঙ্গ করে নিবন্ধে বলা হয় তার সমালোচকদের কাছে তিনি একজন ‘চরিত্রহীন রাজকুমার’। আর বিশ্ববিদ্যালয় ড্রপ আউট হিসেবে তার যোগ্যতা হচ্ছে দুর্ভাগ্যবশত তার জন্ম যে ঘরে। তবে তারেক বলেন, তার জাতিকে তিনি রক্ষা করতে পারবেন। তা তার পিতামাতার সন্তান হিসেবে নয়। বরং তা তার প্রতি দলের সমর্থকদের কারণে। সে কারণে তিনি আজ দেশে। তবে বিএনপির ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বিএনপির সময়কালকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চারবার সাব্যস্ত করেছে। যারা বাংলাদেশের বর্তমান সংস্কার নিয়ে চিন্তা করেন তারা মনে করে ১৪০০ লোক নিহত হয়েছে হাসিনাকে বিতাড়নের জন্য যা আরেকজন ‘আত্মসেবায় নিয়োজিত বাচ্চা পয়দা করবে।’ এই নিবন্ধটি যেভাবে বাংলাদেশের পত্রিকায় আংশিক অনুবাদ করা হয়েছে তা বস্তুত স্তাবকতা। সেই অনুবাদের চেয়ে কোন অনুবাদই না করা শ্রেয় ছিল। তবে বিএনপি, যদি যেসব বিষয় নিয়ে নিবন্ধটিতে নেতিবাচক ধারণা দেওয়া হয়েছে দলটি সম্পর্কে, তার প্রতিবাদ না করে তাহলে বিশ্বে বিএনপির ভাবমূর্তি ধূলিস্যাৎ হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে দলের চাই দলপতিকে লেপটে দেওয়া হয়েছে বেশি।
এছাড়া বাংলাদেশের মিডিয়াজগত থেকেও তার প্রতিবাদ হওয়া উচিত যদি তারা নিবজেদের সৎ দাবি করে। নিবন্ধে বলা হয়েছে মিডিয়া হাসিনার সে সময়ের এবং তার বিরোধীদের এ সময়ে স্তাবকতা করে। এরপর হেন কোন নেতিবাচক শব্দ নেই যা তারেক রহমানের ক্ষেত্রে কায়দা করে ব্যবহার করা হয়নি।