টিউলিপ সিদ্দিক
ব্রিটিশ সাবেক মন্ত্রী ও লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের খালা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবারের আরো দুই সদস্যকে পৃথক দুর্নীতির মামলায় ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের একটি আদালত।
এ রায় ঘোষণার পর অন্যায্য বলে কঠোর সমালোচনা করেছে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টি। রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে লেবার পার্টি। অনুপস্থিতিতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া আসামিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টিউলিপের সাজার জবাবে লেবার পার্টির একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য তাকে কখনো জানানো হয়নি। টিউলিপের আইনজীবী টিম বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও এটি করা হয়েছে। যে কোনো অভিযোগের মুখোমুখি যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে তাকে সর্বদা আইনি প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার প্রদান করা উচিত। যেহেতু এ মামলায় তা ঘটেনি, তাই আমরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারি না।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় টিউলিপ এই প্রক্রিয়াটিকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং প্রহসনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি একেবারেই হতবাক-বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ আমার সম্পর্কে দেড় বছর ধরে বিদ্বেষপূর্ণ অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার পরেও আমার সঙ্গে এখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর নীতিশাস্ত্র উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস বলেছেন যে, তিনি অন্যায্যতার প্রমাণ শনাক্ত করতে পারেননি । তবে এটি ‘দুঃখজনক’ যে সিদ্দিক এই সংযোগের ‘সম্ভাব্য সুনাম ঝুঁকি’ সম্পর্কে আরো সতর্ক ছিলেন না।
গত বছরের শেষের দিকে দুর্নীতির অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিককে দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে একটি জমি দখলের অভিযোগে তার খালাকে ‘তার বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করতে প্রভাবিত করার জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।