১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৬:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


২০২৪ সালে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ভিসা ইস্যু ২৯ হাজার ১৪১
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৭-২০২৫
২০২৪ সালে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ভিসা ইস্যু ২৯ হাজার ১৪১ ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস


২০২৪ অর্থবছরের শুরুতে বাংলাদেশে চলমান ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবরোধ ও কারফিউয়ের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াতেও স্পষ্টভাবে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিপুলসংখ্যক ভিসা সাক্ষাৎকার বাতিল বা পুনঃনির্ধারিত করতে হয়, যার ফলে হাজার হাজার আবেদনকারী ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা জটিলতার মুখে পড়েন। এ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা অনুমোদনে বাংলাদেশিদের অগ্রগতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ভিসা অনুমোদনের হার, আবেদনকারীর সংখ্যা এবং প্রক্রিয়াজনিত চ্যালেঞ্জ সব মিলিয়ে ২০২৪ বছরে যুক্তরাষ্ট্রগামী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোরতা থাকলেও বেশির ভাগ ক্যাটাগরিতে অনুমোদনের হার ইতিবাচক ছিল।

সবচেয়ে বেশি ভিসা ইস্যু হয়েছে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে দেওয়া বি ১/বি২ ক্যাটাগরির ভিসা, যার আওতায় প্রায় ২৯ হাজার ১৪১ জন বাংলাদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। অনুমোদনের হার ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ। তবে ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবরোধ ও কারফিউয়ের কারণে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রায় ১০ হাজার সাক্ষাৎকার বাতিল বা পুনর্নির্ধারিত হয়েছিল, যা ভিসা প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করে দেয়। অনেক আবেদন বিলম্বের কারণে বাতিল হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনেও ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। যদিও আগের তুলনায় অনুমোদনের হার কিছুটা কমেছে, মাসিক ভিত্তিতে গড়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই ভিসা পেয়েছেন। ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ৮ হাজার ১৮ জন শিক্ষার্থী এফ-১ ভিসা পেয়েছিলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক ও দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সুপার ফ্রাইডে নামের দ্রুততর ইন্টারভিউ প্রোগ্রামটি বাতিল হওয়ায় বহু শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এইচ-১ বি ভিসা প্রাপ্তির হার ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে ৩৩০ জনের বেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন এ ভিসার মাধ্যমে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য স্থানান্তরযোগ্য এল-১ ভিসাতেও অনুমোদনের হার ছিল উচ্চ মাসিক গড়ে ৪ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি এ ভিসা লাভ করেছেন।

নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী শামসুদ্দিন বশির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেতে এখন কেবল যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দূতাবাসের কার্যক্রম স্বচ্ছ হওয়াও বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক আবেদনকারী দীর্ঘদিন ইন্টারভিউয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন, যার ফলে তাদের উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা কিংবা পরিবার পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা গ্রহণ প্রবণতা এখনো শক্তিশালী ও আশাব্যঞ্জক।

ভ্রমণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নেওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান চাহিদা এ পরিসংখ্যানে স্পষ্ট। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাক্ষাৎকার বাতিল এবং ইন্টারভিউ জটিলতা কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকে মন্থর করেছে। তবুও ভিসা ইস্যুর এই চিত্র বাংলাদেশের নাগরিকদের বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং অভিবাসনের পথকে আরো সুগম করেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়, তবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন ও ভ্রমণ আরো বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন