১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০১:০৪:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


আদালতেই অভিবাসীদের গ্রেফতার : আইনি প্রক্রিয়াও নিরাপদ নয়
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৬-২০২৫
আদালতেই অভিবাসীদের গ্রেফতার : আইনি প্রক্রিয়াও নিরাপদ নয় ম্যানহাটনে ২০ বছর বয়সী স্কুলছাত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ


যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসনের বৈধ আবেদনকারীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা আইনি প্রক্রিয়াগুলো এখন সংকটাপন্ন। দেশজুড়ে আদালত প্রাঙ্গণে বসানো হয়েছে ‘আইস ড্র্যাগনেট’। আদালতে নিয়ম মেনে হাজির হওয়া অভিবাসীদের হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্য আদালতের ভবনের ভেতরেই। ইমিগ্র্যান্ট অধিকার কর্মীরা বলছেন, অনেক সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মৌখিক আবেদনে বিচারকরা মামলা শুনানি বন্ধ করে দিচ্ছেন, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী লিখিত আবেদন জমা দেওয়া এবং আসামিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। আমেরিকান ইমিগ্রেশন ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র পরিচালক গ্রেগরি চেন জানান, কিছু বিচারক লিখিত নোটিশ ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে মামলা খারিজ করছেন, যেন এটি আদালত নয়, বরং এক ধরনের পুলিশি অভিযান।

বিলি বোচ, আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির একজন পর্যবেক্ষক জানান, পরিবারের সদস্যরা যারা স্বজনদের আইনি শুনানিতে সহযোগিতা করতে এসেছিলেন, তারা দেখেছেন কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কের ছায়ায় ঢেকে যায়। শুনানি শেষে তারা খুশি ছিল, কিন্তু হঠাৎ স্বজনকে হাতকড়া পরে নিয়ে যাওয়া হয়। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের শুনানি উন্মুক্ত থাকার কথা, কিন্তু সম্প্রতি কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন অফিসাররা আদালতের কক্ষ খালি করে দিচ্ছেন। সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও দর্শকদের হুমকির অভিযোগও উঠেছে। নিউইয়র্ক, মায়ামি, সান ফ্রান্সিসকো, সান আন্তোনিওসহ বিভিন্ন শহরে গ্রেফতারের সময় বিক্ষোভ দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে।

গ্রেগরি চেন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন অনেক অভিবাসনের আইনি পথ বন্ধ করে দিয়েছে। যেমন- প্যারোল, আশ্রয় আবেদন বা পারিবারিক পুনর্মিলন। এখন এসব মাধ্যমে যারা এসেছেন, তাদেরই অপরাধী বানানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এই গ্রেফতার শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং করদাতাদের অর্থ এবং বিচারব্যবস্থার মর্যাদাও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সহকারী সচিব ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন অভিযানের ন্যায়সংগতা ব্যাখ্যা করে বলেন, যাদের বৈধ দাবি থাকবে, তারা আদালতে শুনানির মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু যাদের বৈধতা প্রমাণ হবে না, তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো হবে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা অভিযোগ করছেন, আদালত ও অভিবাসন অফিসারদের মধ্যে এমন ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের জন্য হুমকি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই পরিস্থিতি আরো মানুষকে আইনসংগত অধিকার উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে।

শেয়ার করুন