১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৬:৪২:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


গ্রীষ্মের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে কি
খন্দকার সালেক
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৪-২০২৫
গ্রীষ্মের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে কি


গত মার্চ মাসে রোজা এবং নিবিড় সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ চাহিদা ১৪০০০-১৫০০০ মেগাওয়াট সীমিত থাকায় ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় গ্যাস এবং কয়লা আমদানির অর্থ জোগান দেওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। এই সাফল্যের জন্য বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সাধুবাদ পেতেই পারে। কিন্তু গ্রীষ্মের সূচনায় তাপমাত্রা বেড়ে চাহিদা যখনি ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখনি টানপড়েন শুরু হচ্ছে। কয়েকদফা সহনীয় মাত্রায় বিদ্যুৎ লোডশেডিং হয়েছে। জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বারবার বলছেন এবারের গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। লোডশেডিং সীমিত থাকবে এবং সেটি হলে নগরে-শহরে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। তবে তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে মাঠপর্যায়ে কাজ করা প্রাক্তন অভিজ্ঞ পেশাদারদের দেখা যাচ্ছে না। 

সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ চাহিদা ১৭৫০০০-১৮০০০ মেগাওয়াট হতে পারে। দেশের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের অধিক। সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যবস্থা ১৮ হাজার মেগাওয়াট সরবরাহের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সংকট প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গ্যাস সরবরাহ সংকটে ১১ হাজার মেগাওয়াট গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়। সেটি করতে হলেও দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি ১ হাজার এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কয়লা থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট, আমদানি থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এরপরও পিক সময়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের অধিক ফার্নেস অয়েলভিত্তিক উৎপাদন থাকলে ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা মেটানো যাবে। তীব্র গরমের সময় হিট ওয়েভ হলে ১৫০০-২০০০ মেগাওয়াট ঘাটতি এড়ানো যাবে না। এর বাইরে কারিগরি ত্রুটি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকবেই। 

বিদ্যুৎ উপদেষ্টা জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরের সঠিক রোগ ধরতে পেরেছেন। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘরে বসে না থেকে নিরন্তর চেষ্টা করছেন। সচিব, করপোরেশন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত তাগাদা দিচ্ছেন। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিপুল বকেয়ার বড় অংশ পরিশোধ করেছেন। বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে। এখন জরুরি সুষ্ঠু ডিমান্ড ম্যানেজমেন্ট, কৃচ্ছ্রতা নিবিড়ভাবে মনিটরিং। জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকট থেকে শিল্পকে মুক্ত রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে পরিকল্পিত লোডশেডিং করতে হবে। এই বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল এবং দেশবাসী সরকারকে সহায়তা করা জরুরি। সরকারকে নিজস্ব জ্বালানি কয়লা এবং গ্যাস আহরণ এবং উত্তোলনের জন্য যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। জ্বালানি বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতেই হবে।

শেয়ার করুন