১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০১:০৪:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


জানুয়ারিকে মুসলিম-আমেরিকান হেরিটেজ মাস করার প্রস্তাব সিনিটে
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০১-২০২৫
জানুয়ারিকে মুসলিম-আমেরিকান হেরিটেজ মাস করার প্রস্তাব সিনিটে ইউএস কংগ্রেস


ইউএস সিনেটর কোরি বুকার (ডি-এনজে) এবং কংগ্রেসম্যান আন্দ্রে কারসন (ডি-আইএন) জানুয়ারিকে মুসলিম-আমেরিকান হেরিটেজ মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউএস সিনেটে তাদের সহকর্মীদের নিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এ প্রস্তাবটি ২৩ জানুয়ারি উত্থাপন করা হয়। এটি মুসলিম-আমেরিকানদের অসাধারণ অবদান এবং অর্জনগুলোকে স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এ প্রস্তাবে মুসলিম-আমেরিকানদের বিভিন্ন খাতে চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, ধর্মীয় নেতা, ক্রীড়াবিদ, সরকারি কর্মীসহ অসাধারণ অবদান তুলে ধরা হয়েছে, যারা আমেরিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি, মুসলিম-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে চলমান ধর্মীয় বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এবং এটি জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন করতে সাংস্কৃতিকভাবে উপযুক্ত শিক্ষা, নীতি এবং প্রচারণার গুরুত্বও উল্লেখ করেছে। এছাড়াও এ প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে মুসলিম-আমেরিকানদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান যেমন-এল-হাজ মালিক এল-শাবাজ, ইমাম ওয়ারিথ ডিন মোহাম্মদ, মুহাম্মদ আলী, ইবতিহাজ মুহাম্মদসহ আমেরিকান সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম ব্যক্তিত্বদের কথা। এছাড়া ৭৭টি দেশের মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং এই মুসলিম জনগণের মধ্যে শ্বেত, কৃষ্ণ, আরব এবং এশিয়ান বর্ণের বৈচিত্র্য বিদ্যমান।

কংগ্রেসম্যান কোরি বুকার বলেন, মুসলিম-আমেরিকানরা আমেরিকান জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে, এবং আমি গর্বিত যে আমি জানুয়ারিকে মুসলিম-আমেরিকান হেরিটেজ মাস হিসেবে ঘোষণা করার জন্য এই প্রস্তাবটি পেশ করছি। বর্তমানে, তিন মিলিয়নেরও বেশি মুসলিম যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এ প্রস্তাবটি তাদের অসাধারণ প্রভাবকে সম্মান জানায় এবং তাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য উদ্্যাপন করে। কংগ্রেসম্যান আন্দ্রে কারসন বলেন, ইসলামোফোবিয়া অজ্ঞতার মধ্যে বেড়ে ওঠে। আমেরিকান জনগণ প্রায়ই মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের মুখোমুখি হয়, কিন্তু মুসলিম-আমেরিকানরা আমাদের কমিউনিটির মূল্যবান সদস্য। মুসলিম নায়কদের গল্প শেয়ার করে আমরা স্টেরিওটাইপ ভেঙে দিতে পারি এবং সব ধর্মের মানুষকে আমাদের মধ্যে অভিন্ন মূল্যবোধ আবিষ্কার করতে উৎ্সাহিত করতে পারি। সিনেটর ডিক ডারবিন বলেন, আমাদের দেশ মুসলিম-আমেরিকানদের অবদান এবং অর্জনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে, তবে আমরা ভুলে যেতে পারি না যে, মুসলিম-আমেরিকানরা তাদের পরিচয়ের কারণে এখনো বৈষম্য এবং হুমকির মুখোমুখি হয়। আমি আশা করি, এ প্রস্তাবটি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের সমর্থনে আবারও আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে।

সিনেটর কিম বলেন, আমি মুসলিম-আমেরিকান হেরিটেজ মাস উদযাপন করছি, কারণ জানুয়ারি মাসে আমরা আমাদের জাতির মুসলিম-আমেরিকান কমিউনিটিগুলোর উন্নয়নকে উজ্জীবিত করতে চাই। আমাদের দেশের বিভিন্ন কণ্ঠস্বর, ঐতিহ্য এবং গল্প আমাদের পরিচিতি তৈরি করে এবং আমাদের জাতীয় ক্যানভাসে যুক্ত হয়।

এ প্রস্তাবটির সহ-স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হন শীর্ষ ডেমোক্রেটিক মার্কিন সিনেটররা, যেমন রিচার্ড ব্লুমেনথাল (ডি-সিট), ডিক ডারবিন (ডি-আইএল), টিম কেইন (ডি-ভিএ), অ্যান্ডি কিম (ডি-এনজে), অ্যামি ক্লোবুচার (ডি-মিএন), ক্রিস মারফি (ডি-সিট), প্যাটি মারে (ডি-ওয়এ), এ্যালেক্স প্যাডিলা (ডি-সিএ), ক্রিস ভ্যান হলেন (ডি-মডি) এবং পিটার ওয়েলচ (ডি-ভিটি)। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রাশিদা তলাইব (ডি-মিআই), ইলহান ওমর (ডি-মএন) এবং লতিফাহ সাইমন (ডি-সিএ) এই প্রস্তাবের সহ-স্পন্সর হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনগণের সংখ্যা বর্তমানে ৩৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি এবং সশস্ত্র বাহিনীতে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মুসলিম কর্মরত আছেন। মুসলিম-আমেরিকান জনগণের বৃদ্ধি এবং এ জনগণের বৈচিত্র্যই জাতির শক্তি বৃদ্ধি করছে। মুসলিম-আমেরিকান হেরিটেজ মাস হিসেবে জানুয়ারিকে চিহ্নিত করার প্রস্তাবটি মুসলিম-আমেরিকানদের অসাধারণ অবদান ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ প্রস্তাবটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য উদ্্যাপনই নয়, বরং মুসলিম-আমেরিকানদের প্রতি চলমান ধর্মীয় বৈষম্য এবং অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায়। এতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুসলিম-আমেরিকানরা আমেরিকার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ সমাজে একতা, সহনশীলতা এবং বৈচিত্র্যের মূল্যায়নকে উজ্জীবিত করে। আশা করা যায়, এ প্রস্তাবটি মুসলিম-আমেরিকানদের আরো গভীরভাবে সম্মানিত করবে এবং তাদের অবদানকে জাতির উন্নয়নের সঙ্গে আরো দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করবে।

শেয়ার করুন