১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০২:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০১-২০২৫
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের মামলা ডোনাল্ড ট্রাম্প


যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে এসিএলইউ অব নিউ হ্যাম্পশায়ার, এসিএলইউ অব মেইন, এসিএলইউ অব ম্যাসাচুসেটস, এশিয়ান ল’ ককাস, স্টেট ডেমোক্রেসি ডিফেন্ডার্স ফান্ড, এবং লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডএর পক্ষে গত ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার ফেডারেল কোর্টে মামলা দায়ের করেছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। এ মামলার পক্ষে যুক্ত হয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার ইন্দোনেশিয়ান কমিউনিটি সাপোর্ট, লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনস (লুলাক), এবং মেক দ্য রোড নিউ ইয়র্ক। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই নির্বাহী আদেশ সংবিধান, কংগ্রেসের ইচ্ছা এবং দীর্ঘদিনের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করছে। মামলার অন্যতম ভুক্তভোগী নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি ইন্দোনেশিয়ান দম্পতি, যারা ২০২৩ সালে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। এই দম্পতির সন্তান জন্ম নিলে, ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী, শিশুটিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না এবং তাকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে।

জন্মগত নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে সুরক্ষিত। এই সংশোধনী ১৮৬৮ সালে গৃহীত হয় এবং নিশ্চিত করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই নাগরিক। ১৮৯৮ সালের ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওয়াং কিম আরক মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করে যে, অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তানরাও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।

এসিএলইউর নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি ডি. রোমেরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা শুধু অসাংবিধানিক নয়, এটি আমেরিকার মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিরোধী। জন্মগত নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী এবং গতিশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছে। এই আদেশ ইতিহাসের এক গুরুতর ভুল পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া মানুষদের একটি স্থায়ী অবমাননাকর শ্রেণিতে পরিণত করবে। আমরা এই আক্রমণকে চ্যালেঞ্জ করব এবং আত্মবিশ্বাসী যে আমরা জয়ী হব।

এসিএলইউর অভিবাসী অধিকার প্রকল্পের উপ-পরিচালক কোডি ওফসি বলেন, জন্মগত নাগরিকত্ব আমাদের সংবিধানে সুরক্ষিত এবং এটি আমেরিকার মূল মূল্যবোধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই অধিকার অস্বীকার করা আইনত অবৈধ, নির্মম, এবং আমাদের জাতীয় নীতির বিরোধী। মেক দ্য রোড নিউ ইয়র্ক-এর সহ-নির্বাহী পরিচালক থিও ওশিরো বলেন, জন্মগত নাগরিকত্ব আমাদের গণতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি। এই আদেশ আমাদের কমিউনিটির মূল্যবোধ এবং ন্যায্যতার মৌলিক ধারণার বিরুদ্ধে একটি আঘাত। এশিয়ান ল’ ককাসের নির্বাহী পরিচালক আরতি কোহলি বলেন, যদি আপনি এখানে জন্মগ্রহণ করেন, তবে আপনি নাগরিক। এটাই নিয়ম। কোনো রাজনীতিবিদ, এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও, এই অধিকার কেড়ে নিতে পারেন না। এ আদেশ সংবিধান, মূল্যবোধ এবং ইতিহাসের সরাসরি বিরোধী। এলডিএফ-এর থারগুড মার্শাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক কার্লা ম্যাকান্ডার্স বলেন, এই নির্বাহী আদেশ ১৪তম সংশোধনীকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে পুনর্লিখনের চেষ্টা করছে, যা বহুজাতীয় গণতন্ত্রের ধারণার বিরুদ্ধে। এ মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আইন, মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।

শেয়ার করুন