১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০১:০২:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ড : টাইরেস হাসপিলের ৪০ বছর কারাদণ্ড
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৯-২০২৪
ফাহিম সালেহ হত্যাকাণ্ড : টাইরেস হাসপিলের ৪০ বছর কারাদণ্ড অভিযুক্ত টাইরেস ও ফাহিম সালেহ


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণ ফাহিম সালেহর হত্যাকারী টাইরেস হাসপিলকে (২৫) ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। টাইরেস ফাহিমের সাবেক সহকারী ছিলেন। ফাহিম সালেহ বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নাইজেরিয়াভিত্তিক মোটরবাইক স্টার্টআপ ‘গোকাদা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। 

২০২০ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের অ্যাপার্টমেন্টে ফাহিম সালেহর মরদেহ পাওয়া যায়। ৩৩ বছর বয়সী ফাহিম সালেহর হত্যাকারী টাইরেস হাসপিলের বিরুদ্ধে হত্যা ও লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এরপরই নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের জুরি টাইরেস হাসপিলকে ৪০ বছর কারাভোগের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে চুরির সমুদয় অর্থ কোম্পানিকে ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারক ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন এল ব্র্যাগ জুনিয়র এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য হাসপিল ফাহিমের ৪ লাখ ডলার চুরি করেন। বিষয়টি ফাহিম বুঝতে পারলে হাসপিলকে দ্বিতীয়বার সুযোগও দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি আড়াল করতে টাইরেস ফাহিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। শুধু তাই নয়, ইলেকট্রিক করাত দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করে দেন ফাহিমের দেহ। ফাহিমের চাচাতো ভাই অ্যাপার্টমেন্টে এসে তার ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মরদেহ দেখতে পান। কয়েকদিন পর পুলিশ হাসপিলকে গ্রেফতার করে। 

আইনজীবী ব্র্যাগ জানান, যদিও আজকের সাজা সালেহকে ফিরিয়ে আনবে না, তবে আমি আশা করি এই রায় তার পরিবারের বেদনাকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে। বিচারে প্রমাণিত ফাহিম সালেহ ২০১৮ সালের মে মাসে তার উদ্যোক্তা সহকারী হিসেবে হাসপিলকে নিয়োগ করেছিলেন। হাসপিল কোম্পানির আর্থিক দিকটা সামলাতেন। যেখানে তিনি ফাহিমের আর্থিক রেকর্ডগুলো অ্যাক্সেস পেয়েছিলেন। তিনি দুটি আলাদা অত্যাধুনিক স্কিম ব্যবহার করে ফাহিমের কোম্পানি থেকে চুরি করছিলেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাসপিল অন্য নাম ব্যবহার করে একটি পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রথম স্কিম শুরু করেছিল, যা ব্যবসার অন্যান্য আর্থিক লেনদেন নকল করে জাল স্টেটমেন্ট তৈরি করার সময় সেই অ্যাকাউন্টে তহবিল জমা করেন। 

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে হাসপিল একটি দ্বিতীয় আর্থিক স্কিম তৈরি করেছিল যেখানে তিনি একটি কর্পোরেট সত্তা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আরো অর্থ চুরি করতে শুরু করেন। 

প্রসিকিউটররা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফাহিম সালেহর কাছ থেকে নগদ অর্থ চুরি করছিলেন হাসপিল। বিষয়টি ফাহিম বুঝতে পারলে হাসপিলকে মামলা থেকে বাঁচাতে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য দুই বছর সময় দেন। কিন্তু হাসপিল তখনও ফাহিমের কোম্পানি থেকে টাকা চুরি করে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি ফাহিম জেনে গেলে ভয় থেকে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২০ সালের ১৩ই জুলাই ফাহিম সালেহকে হত্যা করেন টাইরেস হাসপিল।

শেয়ার করুন