অনুষ্ঠানে কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রার্থীরা
সেলিম-আলী প্যানেল গত নির্বাচনের সময় ভবনসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেসব প্রতিশ্রুতির একটিও বাস্তবায়ন করেনি। সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে এখন আবার নতুন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীদের সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আর যারা কবরের অর্থ এনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বা অন্য অনুষ্ঠানে ব্যয় করে, তাদের পক্ষে আর যাই হোক কোনো সমাজ বা কম্যুনিটির কল্যাণ হতে পারে না। তা ছাড়া কবরের অর্থ কেন ফেরত আনা হলো? কবরের অর্থ ফেরত এনে বাংলাদেশ সোসাইটির, তথা সাধারণ প্রবাসীদের কেন ক্ষতি করা হলো? বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কমিটি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, অন্য কোনো কমিটি সোসাইটির ফান্ড থেকে এতো অর্থ খরচ করেনি। তারা কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে নামে প্রবাসীদের সঙ্গে তামাশা করেছে। যে হিসাব দিয়েছে, তাতে কোনো সিপিএর স্বাক্ষর ছিল না, এমনকি ব্যাংক স্টেটমেন্টও ছিল না। বলা চলে শুভঙ্করের ফাঁকি। বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তাদের অডিট করে হিসাব দিতে হবে। গত ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সমর্থনে আয়োজিত বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক সদস্য এডভোকেট জামাল আহমেদ জনির সভাপতিত্বে এবং বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সভাপতি ইউনূস সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক সদস্য ও বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক কামাল, সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী দুলাল বেহেদু, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুরুল আলম হারুন, সহ-সভাপতি মামুন মিয়াজি, রাজনীতিবিদ মাওলানা অলিউল্যাহ আতিকুর রহমান, রাজনীতিবিদ সাঈদর রহমান সাঈদ, হাজী আবু তাহের, সাবেক ভিপি জহিরুল ইসলাম মোল্লা, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ শতকত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ আলম সরকার, ইয়ার আহমেদ পাটোয়ারি, বদরুল হক আজাদ, কাজী তোফায়েল ইসলাম, কুনু-ফিরোজ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সদস্য সচিব বাবুল চৌধুরী, জাকির হোসেন, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, শামসুদ্দীন শামীম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের (একাংশের) সভাপতি মইনুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, কবি রেজাউল করিম, শাহীন রহমান সানি, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা নাদের এ আইয়ুব, মোহাম্মদ কে ভূঁইয়া, শাপলা ওয়েলফেয়ারের সভাপতি মোস্তফা রিপন, সাবেক সভাপতি ওয়াসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, শেখ ফারুকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মিজান, কামরুল ইসলাম, খায়রুল ইসলামসহ সব প্রার্থী। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জানান, এই প্যানেলের বৃহত্তর কুমিল্লার ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। যে কারণ কুমিল্লাবাসীর সর্বস্তরের লোকজনের সরব উপস্থিতি ছিল।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গে জড়িত। সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলাম এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলাম। কিন্তু বর্তমান কমিটির মতো এতো কাণ্ডজ্ঞানহীন কমিটি দেখিনি। আমার মতে, এ কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ। গত নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল তার একটিও পালন করেনি। উল্টো ভবন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে রসিকতা করেছে। যারা অতীতের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, তারা আগামী দিনে কী করবে আপনারাই ভালো জানেন। তিনি বলেন, কুনু-ফিরোজ প্যানেল যোগ্য এবং পরীক্ষিত প্যানেল। তিনি আরো বলেন, এ কমিটি সংবাদ সম্মেলনের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে। নিজেরা একটি হিসাব দিয়েছে, সিপিএর স্বাক্ষর নেই, এমনকি ব্যাংক স্টেটমেন্টও ছিল না।
আজমল হোসেন কুনু এবং ফিরোজ আহমেদ তাদের প্যানেলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুদিত দেবো তা আপনাদের নিয়েই পালন করবো।
কাজী তোফায়েল ইসলাম বলেন, কবরের অর্থ কেন ফেরত আনা হলো? কবরের অর্থ ফেরত এনে বাংলাদেশ সোসাইটির তথা সাধারণ প্রবাসীদের কেন ক্ষতি করা হলো? বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কমিটি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, অন্য কোন কমিটি সোসাইটির ফান্ড থেকে এত অর্থ খরচ করেনি। তারা কিছুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে নামে প্রবাসীদের সঙ্গে তামাশা করেছে। আবার তারা গঠনতন্ত্র লংঘন করে নির্বাচন চলাকালীন ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। কিন্তু অডিট করে হিসাব দেয়নি। আমরা অডিট করা রিপোর্ট চাই। তিনি আরো বলেন, গত নির্বাচনের সময় আমি তাদের প্যানেলের সদস্য সচিব ছিলাম, তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার একটিও বাস্তবায়ন করেনি, এখনো তারা মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে।
মইনুল ইসলাম বলেন, যারা কবরের অর্থ এনে পূর্তি করে, অনুষ্ঠানে খরচ করে তাদের পক্ষে আর ডাই হোক কম্যুনিটির কল্যাণ করা সম্ভব নয়।
অন্য বক্তারা এ প্যানেলকে সেরা প্যানেল হিসেবে অভিহিত করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
লোকে লোকারণ্য অডিটোরিয়ামে প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনি। এ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন—সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি দুলাল বেহেদু, সহ-সভাপতি আবুল কালাম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।