০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৩:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


পোর্ট থেকে বিদেশে পাচারের আগেই ৬০৩ চোরাই গাড়ি জব্দ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
পোর্ট থেকে বিদেশে পাচারের আগেই ৬০৩ চোরাই গাড়ি জব্দ নিউ জার্সি পোর্ট


নিউ জার্সির পোর্ট নিউয়ার্ক দিয়ে বিদেশে পাচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে চুরি হওয়া ৬০৩টি গাড়ি জব্দ করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। ২০২৬ অর্থবছরে আটক করা এসব গাড়ির মোট মূল্য ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি। এই চোরাই গাড়িগুলো বিভিন্ন অপরাধী চক্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করে কনটেইনারে ভরে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে রফতানির আগেই গাড়িগুলো আটক করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, চোরাই গাড়ি বিদেশে পাঠানো বন্ধ করার পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।

এই ৬০৩টি গাড়ির মধ্যে প্রায় ১৫০টি নিউ জার্সি থেকে চুরি হয়েছিল। বাকি গাড়িগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আরো ২৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া থেকে চুরি করা হয়। অন্তত একটি গাড়ি কানাডা থেকে চুরি হয়ে এসেছিল বলে এইচএসআই নিউ জার্সি জানিয়েছে।

আটক গাড়িগুলোর অনেকগুলোই ছিল উচ্চমূল্যের। এর মধ্যে ২ লাখ ডলারের বেশি দামের পোর্শে এবং ৯০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ডজ র‌্যাম ট্রাকও রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চোরাই বিলাসবহুল এসইউভিগুলোর একটি বড় অংশ পশ্চিম আফ্রিকার উদ্দেশ্যে পাঠানোর কথা ছিল। অন্যদিকে সাধারণ সেডান গাড়িগুলোর গন্তব্য ছিল ডমিনিকান রিপাবলিক।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের নিউ জার্সির বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ মাইক ম্যাককার্থি বলেন, বিদেশে চোরাই গাড়ি পাঠানো বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকিয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে প্রকৃত ভুক্তভোগী পরিবার, কর্মজীবী মানুষ এবং ছোট ব্যবসা।

সিবিপির নিউইয়র্ক ফিল্ড অপারেশনের পরিচালক ফ্রান্সিস রুশো বলেন, বিদেশে চোরাই গাড়ি পাচার বন্ধ করার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধী নেটওয়ার্কের হাতে এসব গাড়ি পৌঁছানো ঠেকানো হচ্ছে। সিবিপির নিউয়ার্ক পোর্টের পরিচালক তেনাভেল থমাস বলেন, চোরাই গাড়ির এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে আমেরিকান ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে এটি দেশের সীমান্ত ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পোর্ট নিউয়ার্কে চোরাই গাড়ি শনাক্ত ও পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গাড়ি শনাক্ত বা পাচার ঠেকাতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে গাড়ি চুরি ঠেকাতে মালিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হাডসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রধান প্যাটারসন পাস্তুর বলেন, গাড়ির ভেতরে চাবি বা চাবির ফব রাখা উচিত নয়। গাড়ির দরজা সব সময় লক করে রাখতে, জানালা বন্ধ রাখতে এবং সম্ভব হলে পর্যাপ্ত আলোযুক্ত স্থানে গাড়ি পার্ক করতে তিনি পরামর্শ দেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, চুরি হওয়া গাড়িগুলো বিদেশে পাচার হলে তা শুধু গাড়ির মালিকদের আর্থিক ক্ষতিই করে না, বরং আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর অর্থের উৎসও শক্তিশালী করে। পোর্ট নিউয়ার্ক থেকে শত শত চোরাই গাড়ি বিদেশে যাওয়ার আগে আটক করার মাধ্যমে সেই পাচার ঠেকানো হয়েছে।

শেয়ার করুন