০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার সাবেক এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট আতিকুল ইসলাম


প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কুইন্সের এক অভিবাসী নারী ও তার পরিবারকে নির্বাসনের ভয় দেখানোর অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট আতিকুল ইসলাম ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই নারী ও তার পরিবারকে একটি অভিবাসন কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।

৩০ বছর বয়সী আতিকুল ইসলাম গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিন ফেডারেল আদালতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে একক অপরাধে দোষ স্বীকার করেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা বা অনুযায়ী তার সম্ভাব্য সাজা শূন্য থেকে ছয় মাসের মধ্যে হতে পারে।

আদালতে আতিকুল ইসলাম স্বীকার করেন, তিনি নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আইসের নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের একজন পরিচালকের পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৯ মার্চ প্রথমে নিজের পরিচয় থেকেই নারীকে আইসের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। এক বার্তায় আতিকুল ইসলাম ওই নারীকে বলেন, আইস তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে যাবে এবং তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তিনি আরো জানান, তিনি নিজেই আইসকে ফোন করবেন। এরপর অন্য একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করে নিজেকে জেমস ডব্লিউ. অ্যান্ডারসন নামে আইসের কর্মকর্তা পরিচয় দেন।

প্রসিকিউটরদের মতে, ওই ভুয়া আইস কর্মকর্তা পরিচয়ে পাঠানো বার্তায় নারী ও তার পরিবারকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির একটি আইস কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আরো আইনি ব্যবস্থা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুইন্সে বসবাসকারী ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিবাসী। অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউ এস অ্যাটর্নি রাসেল নোবেল আদালতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটির পেছনে ছিল ইসলামের ব্যক্তিগত প্রতিশোধের উদ্দেশ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই নারী ইসলামের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করার সময় ইসলাম বলেন, তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজেকে আইসের একজন ফেডারেল ফিল্ড অফিস ডিরেক্টর হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই বার্তা পাঠিয়েছিলেন। শুনানির সময় নাভার থাকার কারণে তার পা কাঁপছিল বলে আদালতকক্ষের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আতিকুল ইসলাম ২০১৮ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হন। তিনি ব্রুকলিনে বেড়ে ওঠেন এবং জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে এনওয়াইপিডি ঘটনাটি জানতে পারার পর বিভাগের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হয়। এনওয়াইপিডির একজন মুখপাত্র জানান, পুলিশ বিভাগটি কথিত অসদাচরণের বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।

দোষ স্বীকারের অংশ হিসেবে ইসলামকে এনওয়াইপিডি থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তিনি গত সপ্তাহে চাকরি ছেড়ে দেন। অপরাধটি গুরুতর পর্যায়ের হওয়ায় তার ভবিষ্যতে আগ্নেয়াস্ত্র রাখাও আইনত নিষিদ্ধ হবে। ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকারের পর আতিকুল ইসলাম এখন একজন দণ্ডিত অপরাধী। তার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ মার্চ ২০২৭।

ইসলামের আইনজীবী জন আরলিয়া আদালতে জানান, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলাম ওই নারীকে ক্ষমা চেয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে আইনজীবীও স্বীকার করেন, ওই ক্ষমা চাওয়া তার কর্মকাণ্ডকে বৈধ করে না। ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বরে অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে ২৫ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্ত ছিলেন। তার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৪ মার্চ। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য করেননি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে, যখন দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছিল। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধীদের আইস এজেন্ট সাজার ঘটনাও কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রুকলিনেও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইস এজেন্ট সাজার অভিযোগ ওঠে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫১ বছর বয়সী এক হিস্পানিক নারীকে মারধর, ছিনতাই এবং ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে। এরপর চলতি মাসের শুরুতে এফবিআই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিজেদের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানানোর আহ্বান জানিয়ে একটি সতর্কতা জারি করে। এতে চলতি বছরে আইস কর্মকর্তা সেজে অপরাধ সংঘটনের পাঁচটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার প্রত্যাশা রয়েছে। ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কোনো কর্মকর্তা ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বা নির্বাসনের ভয় ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন