০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা লোগো ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ২৮ দিন বাকি। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকানরা ভোটারদের কাছে অপরাধ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসনকে আবারও প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের দৌড়ে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

রিপাবলিকান প্রচারণার মূল বক্তব্য, দেশে অপরাধ কমলেও ডেমোক্র্যাটরা জননিরাপত্তার প্রশ্নে দুর্বল। সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রিপাবলিকানরা বিশেষ করে মধ্যপন্থী ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে। সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ বন্ধ, ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান এবং অপরাধে অভিযুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলোকে রিপাবলিকানরা তাদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। দলটির নেতারা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু অভিবাসন প্রশ্ন নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার বিষয়ও।

ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য রিপাবলিকানদের এই প্রচারণাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, অপরাধ কমে আসার বাস্তব পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও রিপাবলিকানরা ভোটারদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে অপরাধ ও অভিবাসন ইস্যুকে অতিরঞ্জিত করছে। ডেমোক্র্যাটরা একই সঙ্গে বন্দুক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ ও কমিউনিটি বিনিয়োগ এবং অপরাধের মূল কারণ মোকাবিলার পরিকল্পনা তুলে ধরছে।

নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে তার অনুমোদন হার প্রায় ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে গেলে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে।তবে রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি হতাশাজনক নয়। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কমলেও তাঁর নীতি ও রাজনৈতিক বার্তা এখনও রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশকে সক্রিয় করে তুলছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন ও অপরাধের মতো বিষয় রিপাবলিকান ঘাঁটিতে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে পারে বলে দলটির নেতারা আশা করছেন।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের বহু আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। এবারও সেই ঐতিহাসিক প্রবণতা রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন ও অপরাধ এই বিষয়গুলো ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে দুই দলের কৌশলেও পার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে। রিপাবলিকানরা আইন ও শৃঙ্খলা, সীমান্ত এবং অভিবাসনকে সামনে রেখে ভোট চাইছে। ডেমোক্র্যাটরা অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এখন শুধু কংগ্রেসের কয়েকটি আসনের লড়াই নয়। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বড় জাতীয় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ভোটাররা দুই দলের নীতি ও অবস্থান বিবেচনা করে আগামী ৩ নভেম্বর তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন। এক মাসেরও কম সময়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন অপরাধ, অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দলের অবস্থানই ভোটারদের সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন