ব্যানারটিতে দুর্বৃত্তরা বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি স্প্রে করে
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের শার্লিতে নির্মাণাধীন ইসলামিক সেন্টার অব শার্লি ম্যাস্টিক মসজিদে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি স্প্রে করে লেখার ঘটনায় সাফোক কাউন্টি পুলিশের হেট ক্রাইম ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে। উইলিয়াম ফ্লয়েড পার্কওয়ের পাশে নির্মাণাধীন মসজিদটির সাইটে থাকা একটি ব্যানারে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর লেখা দেওয়া হয়। ব্যানারটিতে আগে লেখা ছিল, ‘নিউ মস্ক কামিং সুন! হোয়্যার ফেইথ অ্যান্ড কমিউনিটি কাম টুগেদার।’ গত শনিবার বিকাল ৩টা ৪৩ মিনিটে ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানানো হয়।
মসজিদের অন্যতম নেতা ইমাম মেহদাদ ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। তবে এ ধরনের ভয়ভীতি বা বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড মসজিদ নির্মাণের কাজ থামাতে পারবে না। তিনি বলেন, তারা ভয় পাচ্ছেন না এবং নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকবে। সাফোক কাউন্টি এক্সিকিউটিভ এডওয়ার্ড পি. রোমেইন ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শার্লিতে নতুন ইসলামিক সেন্টারের নির্মাণস্থলে গ্রাফিতি পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সাফোক কাউন্টিতে ঘৃণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বৈষম্যের কোনো স্থান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত জুনে মসজিদটির গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নির্মাণকাজ শুরু হয় জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে। ইমাম মেহদাদ ইসলাম সাফোক কাউন্টি পুলিশ বিভাগের সরকারি চ্যাপলিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
নিউইয়র্কের কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার ঘটনাটিকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কেয়ার নিউইয়র্কের নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাশের বলেন, মসজিদ নির্মাণস্থলকে বিদ্বেষমূলকভাবে লক্ষ্য করা পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা।
মসজিদটির আয়তন হবে প্রায় ৩৪ হাজার বর্গফুট। ইমাম ইসলামের মতে, এটি শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, পুরো স্থানীয় কমিউনিটির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে একটি বাস্কেটবল কোর্ট এবং ফুড প্যান্ট্রি থাকবে, যা স্থানীয় সব বাসিন্দা ব্যবহার করতে পারবেন।
মসজিদটি এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে হারিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের চরম আবহাওয়ার সময় এটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। মসজিদ নেতারা ভবিষ্যতে রেড ক্রসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে নিবন্ধনের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে এটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে প্রায় ২০০ পরিবার মসজিদটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে পদার্থবিদ, ফার্মাসিস্টসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। মসজিদের আরেককর্মকর্তা জেমস আবদুল লতিফ পুলোস একজন ইমাম এবং সাফোক কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ইয়াফাঙ্ক ও রিভারহেড সংশোধনাগারের সরকারি চ্যাপলিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।