০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৩:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা সম্ভাবনার দরজা খুলছে
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা সম্ভাবনার দরজা খুলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে টয়োটার ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি


বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা জানিয়েছে জাপানের অন্যতম শীর্ষ ব্রান্ড টয়োটা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে টয়োটা তুশো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদল এ কথা জানায়। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (এইচইভি) কারখানার কাজ শুরু হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।

প্রতিনিধিদল আরও জানায়, সব বিভাগীয় পর্যায়ে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে এবং তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের আশ্বাস দেন, পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী টোকিও সফর করবেন, যেখানে বিনিয়োগ ও জ্বালানি অন্যতম আলোচ্য বিষয়। ফলে এ খবর বাংলাদেশে গাড়ি ব্যাবহারকারী ও ভবিষ্যতে যারা গাড়ি ব্যাবহার করতে মনস্থির করেছেন তাদের জন্য উৎসাহযোগ্য। 

কেন উৎসাহজনক

প্রথমত, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে টয়োটার ব্যবহৃত (রিকন্ডিশন্ড) গাড়ির বড় বাজার। সেই বাজারে সরাসরি স্থানীয় উৎপাদন এলে ক্রেতা ও ব্র্যান্ড দুই পক্ষের জন্যই নতুন সুযোগ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, হাইব্রিড বেছে নেওয়া জ্বালানি আমদানি ও ডলার-চাপের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে। তৃতীয়ত, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ জনবল তৈরির যে প্রতিশ্রুতি এসেছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়নে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

ক্রেতার জন্য কী বদলাতে পারে

গাড়ির দাম হাতের নাগালে আসার সম্ভাবনা আছে, তবে তা এখনই নিশ্চিত নয়। বর্তমানে আমদানিকৃত গাড়িতে করের বোঝা অনেক বেশি। ফলে স্থানীয় উৎপাদনের দাম কত কম হবে, তা নির্ভর করবে যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক, স্থানীয়করণের হার, উৎপাদনের পরিমাণ ও সরকারের প্রণোদনা নীতির ওপর। দাম কমবে কি না, তার উত্তর এখনো কেউ দিতে পারে না, কারণ বিনিয়োগের পরিমাণ, কারখানার অবস্থান ও বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারনা করা হচ্ছে বর্তমানের তুলনায় বাংলাদেশে চাহিদার শীর্ষে থাকা ব্রান্ড টয়োটার দাম কমই হবে। 

রপ্তানিও হতে পারে

বাংলাদেশের শ্রমশক্তি কাজে লাগিয়ে টয়োটা উৎপাদন বাড়িয়ে বাইরে রপ্তানি করতে পারে, এ সম্ভাবনা যুক্তিসংগত। তবে বৈঠকের তথ্যে রপ্তানির কথা আসেনি। এটি কেবল বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার পর্যায়ে আছে। রপ্তানিমুখী গাড়ি উৎপাদনের জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল, বন্দর সক্ষমতা, বাণিজ্য চুক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক খরচ দরকার, যা গড়ে তুলতে সময় লাগবে।

যে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

প্রথমত, এটি এখনো পরিকল্পনা, চূড়ান্ত চুক্তি নয়। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সময়সীমা রক্ষা করতে ভূমি, বিদ্যুৎ-গ্যাস, শুল্কনীতির ধারাবাহিকতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটানো লাগবে। দ্বিতীয়ত, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির খাতে প্রায় তিন লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে বারভিডার দাবি। স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীতিগত ভারসাম্য দরকার হবে।

শেষ কথা

টয়োটার ঘোষণা বাংলাদেশের জন্য শিল্পায়নের ইতিবাচক সংকেত। তবে এর সুফল ক্রেতার হাতে পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের নীতি-সিদ্ধান্ত ও বিনিয়োগের বাস্তবায়নের ওপর। টোকিও সফরে এই প্রতিশ্রুতি কতটা চুক্তির রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন