প্রতীকী ছবি
মব সহিংসতা বা মব জাস্টিস হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে একদল উত্তেজিত ও উচ্ছৃঙ্খল জনতা দেশের আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা বিচার ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মারধর, নির্যাতন বা হত্যা করে। গত আগস্ট মাসে দেশে এই মব সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। দেখা গেছে,আগস্টে মব সহিংসতায় ৩৫ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৭৪ জন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য, নিজস্ব মানবাধিকার মনিটরিং এবং স্থানীয় মানবাধিকার রক্ষাকারীদের মাধ্যমে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। এমএসএফ পক্ষ থেকে বলা হয় যে, জুলাই-আগস্ট ২০২৬ সময়কালের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি, গ্রেফতার, হেফাজতে মৃত্যু, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সীমান্ত পরিস্থিতি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার এবং অন্যান্য মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
জুলাই ও আগস্ট ২০২৬-এর তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট মাসে কিছু সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিতে কিছু প্রবনতা অব্যাহত রয়েছে যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে মব সহিংসতা, রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং বিশেষ অভিযানে ব্যাপক গ্রেফতার যে হারে অব্যাহত রয়েছে মানবাধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসনের জন্য গুরুতর প্রশ্নের উদ্রেক করে।
এমএসএফ জানিয়েছে যে, মব সহিংসতা আগস্ট মাসে আরও তীব্র হয়েছে। জুলাইয়ের ৩১ জনের তুলনায় আগস্টে মব সহিংসতায় ৩৫ জন নিহত এবং আহতের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, মাদক ব্যবসা, বাকবিতন্ডাা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ, চাঁদাবাজি, জমি বিরোধ এবং অন্যান্য স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনার উদ্ভব হয়েছে। ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করেও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে জনতার হাতে আইন তুলে নেয়ার প্রবণতা, আইনের শাসনের প্রতি আস্থার সংকট ও অশ্রদ্ধা এবং নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকারের জন্য গুরুতর হুমকি নির্দেশ করে।
রাজনৈতিক সহিংসতা আগস্ট মাসে বিশেষভাবে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা জুলাইয়ের ৯৫ জন থেকে আগস্টে ২৬৭ জনে উন্নীত হয়েছে। যদিও নিহতের সংখ্যা ৭ থেকে ৫-এ কমেছে, আহতের ব্যাপক বৃদ্ধি রাজনৈতিক সংঘাতের বিস্তারর ও তীব্রতার বিষয় আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে এমএসএফ মনে করে। বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ এবং বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় সংঘর্ষ এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।