১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩৫:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ১৮ অক্টোবর মাইর শুরু হয়েছে কেবল, আসল মারই তো শুরুই হয়নি সাবওয়ে স্টেশন ঠান্ডা রাখতে নতুন পরিকল্পনা শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শতবর্ষী চেম্বারস স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সংস্কারে বড় প্রকল্প মুসলিম হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি, অভিযোগ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর হিজাব পরা নারীকে হামলার অভিযোগ : জোনাথন স্ট্রিপের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের মামলা ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্কের অগ্রণী গবেষক এস্পোসিতোর মৃত্যু মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভিনসেন্ট তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের


শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প


শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে গত সোমবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন নীতিতে শিশুদের ছোটবেলায় দেওয়া কয়েকটি টিকার সুপারিশ কমিয়ে আনা, টিকাদানের সময়সূচি দীর্ঘ করা এবং কিছু টিকা শুধু উচ্চঝুঁকির শিশুদের জন্য সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব পরিবর্তনের পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে শিশুদের টিকাদানের হার কমে যেতে পারে।

নতুন নির্বাহী আদেশে শিশুদের টিকাদানের সময়সূচিকে তিনটি ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সব শিশুর জন্য কিছু টিকা সুপারিশ করা হবে, কিছু টিকা উচ্চঝুঁকির জনগোষ্ঠীর জন্য রাখা হবে এবং আরো কয়েকটি টিকা চিকিৎসকের সঙ্গে অভিভাবকের আলোচনার ভিত্তিতে দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো এমএমআর টিকা। বর্তমানে হাম, মাম্পস ও রুবেলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে একসঙ্গে দেওয়া এমএমআর টিকাকে তিনটি আলাদা টিকায় ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এই তিনটি টিকা আলাদাভাবে বাজারজাত করা হয় না। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ-এইচএইচএস বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করে আলাদা টিকা বাজারে আনার উদ্যোগ নেবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা দেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, শিশুদের কম টিকা দেওয়া হবে এবং একবারে না দিয়ে কয়েকটি আলাদা চিকিৎসা-সাক্ষাতে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তার দাবি, টিকাগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ালে শিশুদের শরীর তা ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারবে। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের বর্তমান টিকাদান ব্যবস্থায় একসঙ্গে একাধিক টিকা দেওয়া নিরাপদ-এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে এবং ট্রাম্পের উল্লিখিত দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

নতুন নির্দেশনায় সব শিশুর জন্য হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, পোলিও, হিব, নিউমোকক্কাল রোগ, এইচপিভি এবং চিকেনপক্সের টিকা সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আরএসভি প্রতিরোধ, হেপাটাইটিস এ ও বি, মেনিনজোকক্কাল রোগ এবং ডেঙ্গুর মতো কয়েকটি টিকা বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মূলত উচ্চঝুঁকির শিশুদের জন্য সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া রোটাভাইরাস, মেনিনজোকক্কাল রোগ, ফ্লু ও কোভিড-১৯ টিকাসহ কিছু টিকার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও অভিভাবকের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের এ পরিবর্তন আনার মতো চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞতা নেই। ক্যাসিডির মতে, টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর এবং টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। তিনি আরো বলেন, এমএমআর টিকা ভেঙে আলাদা করলে একই সুরক্ষা পেতে শিশুদের বরং বেশি সংখ্যক ইনজেকশন নিতে হবে।

চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট কিছু টিকার সর্বজনীন সুপারিশ বাতিল হলে অভিভাবকদের অনেকের জন্য টিকার খরচ বাড়তে পারে। বর্তমানে সিডিসির টিকাদান কমিটির সুপারিশ করা টিকাগুলো সাধারণত স্বাস্থ্যবিমার আওতায় রোগীর জন্য অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই দেওয়ার বিধান রয়েছে। নতুন নীতির ফলে কোনো কোনো টিকা সেই বাধ্যতামূলক কভারেজের বাইরে চলে যেতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ জানুয়ারিতে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সংকুচিত করার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা। ওই পরিবর্তনকে চ্যালেঞ্জ করে চিকিৎসা সংগঠনগুলো আদালতে যায় এবং আদালত তাদের পক্ষে রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে টিকা-সংক্রান্ত নতুন উপদেষ্টা প্যানেলে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন নীতিকে বাস্তবায়নের জন্য তারা অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে সরাসরি কাজ করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত শিশু টিকাদান নীতিতে অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও পরিবর্তন আসতে পারে। ট্রাম্প ও স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র গত কয়েক মাস ধরে শিশুদের টিকাদান সূচি পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। একই সময়ে তারা টিকা ও অটিজমের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নতুন নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়েও এখনো বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে এমএমআর টিকাকে আলাদা তিনটি টিকায় রূপান্তর, স্বাস্থ্যবিমার কভারেজ এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর টিকাদান আইন পরিবর্তনের বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার করুন