ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস
ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণ আরো ধীর হয়ে পড়েছে। ইমিগ্রেশন ফাইলিং ট্রেন্ডস ড্যাশবোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন ও পিটিশনের সংখ্যা কমলেও জমে থাকা মামলার সংখ্যা, সিদ্ধান্ত পেতে অপেক্ষার সময় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য বলছে, ইউএসসিআইএসের সামনে এখনো ১ কোটি ১৩ লাখের বেশি আবেদন ও পিটিশন ঝুলে আছে। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৭ লাখ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাকলগ বেড়েছে ১৬ লাখের বেশি বা ১৬.৫ শতাংশ।
একই সময়ে ইউএসসিআইএসে নতুন আবেদনও কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নতুন আবেদন ও পিটিশন গ্রহণ ৩৩.৬ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এর চেয়েও উদ্বেগজনক হলো, সংস্থাটি একই সময়ে সম্পন্ন করেছে ৪০.৮ শতাংশ কম মামলা। এর ফলে আবেদন কমলেও ব্যাকলগ কমেনি; বরং আরো বেড়েছে।
টানা ১১ প্রান্তিকে আবেদন নিষ্পত্তির চেয়ে নতুন আবেদন বেশি
ইউএসসিআইএসের কার্যকারিতা পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো কতটি আবেদন গ্রহণের বিপরীতে কতটি মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সংস্থাটি প্রতি ১০০টি নতুন আবেদনের বিপরীতে মাত্র ৮৬টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। এটি এমন একটি ধারার অংশ, যেখানে টানা ১১টি প্রান্তিকে ইউএসসিআইএসের এ কার্যকারিতা অনুপাত ১-এর নিচে রয়েছে। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে যত আবেদন জমা পড়ছে, তার চেয়ে কম মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। এর ফলে নতুন আবেদন কমে গেলেও পুরোনো মামলার জট কমছে না।
ওয়ার্ক পারমিটের ব্যাকলগ বেড়েছে ৩৮ শতাংশ
কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র বা ইএডির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ফরম আই-৭৬৫-এর অধীনে জমে থাকা আবেদন ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫০টি, অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।
অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের আবেদন চলমান থাকা ব্যক্তিদের ইএডি আবেদনের ব্যাকলগ প্রায় তিনগুণ হয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ ধরনের ঝুলে থাকা আবেদন ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬৯টি। এক বছর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৮৮৪টিতে। অথচ দুই সময়ে নতুন আবেদনের সংখ্যা প্রায় একই ছিল। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আবেদন পড়েছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪২টি এবং ২০২৬ অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬৩টি।
কিন্তু নিষ্পত্তির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে যেখানে ১ লাখ ৭০ হাজার ২৫৬টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছিল, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৮৬ হাজার ৭৫৬টিতে। ফলে এ ক্যাটাগরির কার্যকারিতা অনুপাত প্রায় ১.০৪ থেকে কমে ০.৫৩ হয়েছে।
শরণার্থীদের গ্রিনকার্ড আবেদনে আরো বড় ধস
শরণার্থীদের অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস বা ফরম আই-৪৮৫ আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াকরণে বড় ধস দেখা গেছে। এ ক্যাটাগরিতে নতুন আবেদন ১৬ হাজার ৭২৫ থেকে বেড়ে ২৫ হাজার ৭৪৬টিতে উঠলেও নিষ্পত্তি ১৭ হাজার ৭৫৬ থেকে কমে মাত্র ৩ হাজার ৫৩৬টিতে নেমে এসেছে। ফলে প্রতি ১০০টি আবেদনের বিপরীতে ইউএসসিআইএস মাত্র ১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে।
সিদ্ধান্ত পেতে অপেক্ষার সময় প্রায় দ্বিগুণ
ব্যাকলগ বাড়ার পাশাপাশি অভিবাসন আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সব ধরনের ইউএসসিআইএস ফর্ম মিলিয়ে গড় ব্যাকলগ নিষ্পত্তির সময় ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে যেখানে ৯.৪ মাস ছিল, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে হয়েছে ১৮.৬ মাসÑঅর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ। ক্যালেন্ডার বছর হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে গড় ব্যাকলগ নিষ্পত্তির সময় ছিল ৮.৯ মাস। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১৪.৪ মাসে পৌঁছেছে। এক বছরে বৃদ্ধি ৬১.৮ শতাংশ।
কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে পরিস্থিতি আরো গুরুতর। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফরম আই-৪৮৫ আবেদনের ব্যাকলগ নিষ্পত্তির সময় ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৭.৭ মাস থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৭০.৬ মাসে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সময় বেড়েছে আট গুণেরও বেশি।
বেড়েছে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার
শুধু বিলম্ব নয়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হারও বেড়েছে। সব ধরনের আবেদন ও পিটিশন মিলিয়ে সামগ্রিক প্রত্যাখ্যানের হার ৮.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২.২ শতাংশে উঠেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। সব ধরনের ইবি-১ পিটিশনের প্রত্যাখ্যানের হার ১৩.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০.১ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ক্যাটাগরিতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, গবেষক, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা এবং বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা আবেদন করেন। বিশেষভাবে ইবি-১এ এক্সট্রাঅর্ডিনারি অ্যাবিলিটি পিটিশনের প্রত্যাখ্যানের হার ২৫.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ পিটিশনের প্রত্যাখ্যানের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩৭.৩ শতাংশ থেকে ৫৭.৪ শতাংশে উঠেছে।
হিউম্যানিটেরিয়ান প্যারোলেও প্রত্যাখ্যান বেড়েছে
মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বা হিউম্যানিটেরিয়ান প্যারোল আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রত্যাখ্যানের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে যেখানে এ ধরনের আবেদনের ৫২.৯ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, ২০২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৮৮.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। প্যারোল ইন প্লেস আবেদনের প্রত্যাখ্যানের হার ১৮.৪ শতাংশ থেকে ৪৫.৮ শতাংশে এবং অ্যাডভান্স প্যারোলের ক্ষেত্রে ২৯.৯ শতাংশ থেকে ৪৬.৭ শতাংশে বেড়েছে।
একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের বিশ্লেষণ বলছে, ইউএসসিআইএসের ধীরগতি শুধু একটি প্রান্তিকের সাময়িক ওঠানামা নয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বার্ষিক তথ্য তুলনা করলেও একই প্রবণতা দেখা যায়Ñনতুন আবেদন কমেছে, কিন্তু প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে, ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা বেড়েছে এবং সিদ্ধান্ত পেতে অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়েছে।
ফলে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, আবেদনকারী, পরিবার এবং নিয়োগকর্তাদের জন্য অনিশ্চয়তা আরো বাড়ছে। বিশেষ করে ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিনকার্ড, কর্মসংস্থানভিত্তিক পিটিশন এবং মানবিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবেদনগুলোর দীর্ঘ বিলম্ব আবেদনকারীদের চাকরি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।