০৬ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:২৭:৫১ পূর্বাহ্ন


মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-০৮-২০২৬
মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক সোসাইটি অব টালসার চেয়ারম্যান সৈয়দ নেওয়াজ


মসজিদ ও বহুমুখী কমিউনিটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য রিজোনিং আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগে ৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেছে ইসলামিক সোসাইটি অব টালসা (আইএসটি)। গত সোমবার টালসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, তারা আদালতে যেতে চাননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অনুমোদনের অপেক্ষায় থেকেও কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইএসটির রিজোনিং আবেদন ও সংশ্লিষ্ট অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে ব্রোকেন অ্যারো সিটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ব্রোকেন অ্যারো সিটি ইসলামিক সোসাইটি অব টালসার জমিকে ধর্মীয় উপাসনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং শুধুমাত্র তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অন্যদের তুলনায় ভিন্নভাবে আচরণ করেছে। সংগঠনটির দাবি, একই ধরনের অন্যান্য প্রকল্পের তুলনায় তাদের আবেদনের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে কঠোর প্রকৌশল, ট্রাফিক ও প্রমাণগত মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কাছাকাছি কয়েকটি গির্জা, আবাসন প্রকল্প ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন প্রকল্প একই ধরনের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও অনুমোদন পেলেও মসজিদ প্রকল্পটি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

মামলায় আরো বলা হয়েছে, জনশুনানির সময় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আবেদনকারীদের দাবি, সেই জনচাপ ও ধর্মীয় বিদ্বেষই শেষ পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ব্রোকেন অ্যারো সিটি রিলিজিয়াস ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনালাইজড পারসনস অ্যাক্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও চতুর্দশ সংশোধনী এবং ওকলাহোমা রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে। সংগঠনটির মতে, এসব আইনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমান আইনি সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হয়েছে।

আদালতের কাছে ইসলামিক সোসাইটি অব টালসা ব্রোকেন অ্যারো সিটির সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা, মসজিদ ও কমিউনিটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য রিজোনিং আবেদন ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশ, ক্ষতিপূরণ, দণ্ডমূলক ক্ষতিপূরণ এবং মামলার আইনগত ব্যয় পরিশোধের আদেশ চেয়েছে।

ইসলামিক সোসাইটি অব টালসার বোর্ড চেয়ারম্যান সৈয়দ নেওয়াজ বলেন, তারা এই আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেও তাদের উদ্দেশ্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করা নয়। বরং ব্রোকেন অ্যারোতে বসবাসরত মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য একটি উপাসনালয়, শিক্ষা ও সামাজিক সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করাই তাদের লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসলিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডের ডেপুটি লিটিগেশন ডিরেক্টর গাদেইর আব্বাস বলেন, শহর কর্তৃপক্ষ চাইলে আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে পারে। অন্যথায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে ব্রোকেন অ্যারো সিটি কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতো দাবি করেছে, তাদের সিদ্ধান্তে ধর্মীয় পক্ষপাতের কোনো ভূমিকা ছিল না। তাদের মতে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব, পানির মান এবং শহরের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পটির সামঞ্জস্য বিবেচনা করেই আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

তবে ইসলামিক সোসাইটি অব টালসার আইনজীবীরা দাবি করেন, সিটির অভ্যন্তরীণ ই-মেইল আদান-প্রদানে কিছু নির্বাচিত কর্মকর্তার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তারা শহরে একটি মসজিদ নির্মাণে অনাগ্রহী ছিলেন। এসব যোগাযোগ মামলার প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ব্রোকেন অ্যারো সিটির সিদ্ধান্ত ধর্মীয় ভূমি-ব্যবহার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্ত শুরু করেছে। ইসলামিক সোসাইটি অব টালসার আইনজীবীদের মতে, ফেডারেল আদালতের মামলা এবং বিচার বিভাগের তদন্ত পৃথকভাবে চলবে।

শেয়ার করুন