২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ০৫:৩১:১৩ অপরাহ্ন


যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে আশ্রয় আবেদন নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা করলো আপিল আদালত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৪-২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্তে আশ্রয় আবেদন নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা করলো আপিল আদালত ইউএস-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীরা


যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট কোর্ট অব আপিলস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্তে আশ্রয় বা এসাইলাম আবেদন নিষিদ্ধ করার নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। গত ২৪ এপ্রিল দেওয়া ২-১ ভোটে এ রায়ে আদালত জানায়, অভিবাসন আইন অনুযায়ী মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের আশ্রয় চাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট এককভাবে সে অধিকার বাতিল করতে পারেন না। 

ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের রায়ে বলা হয়, বিদ্যমান অভিবাসন আইন কোনোভাবেই প্রেসিডেন্টকে তার নিজের তৈরি ‘সংক্ষিপ্ত নির্বাসন প্রক্রিয়া’ ব্যবহার করে আশ্রয় আবেদনকারীদের অধিকার বাতিল করার ক্ষমতা দেয় না। আদালত আরো জানায়, প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মানুষকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তারা নির্যাতনের মুখে পড়তে পারে। 

এই রায় অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনকে ভবিষ্যতে দক্ষিণ সীমান্তে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ শুরু করতে হতে পারে। যদিও রায়টি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না, প্রশাসনের কাছে ৪৫ দিন সময় রয়েছে পুরো আপিল আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য। এছাড়া বিষয়টি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারে, যেখানে সীমান্তে আশ্রয় আবেদন ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আলাদা একটি মামলা ইতোমধ্যে বিচারাধীন। 

মামলার সূত্রপাত হয় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিন স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী ঘোষণার মাধ্যমে। ওই ঘোষণায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে ‘আক্রমণ’ চলছে বলে দাবি করেন এবং বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নির্বাহী শাখার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। এর পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নির্দেশনা জারি করে জানায়, শুধুমাত্র নির্ধারিত প্রবেশপথ ছাড়া কেউ আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবে না। পাশাপাশি আবেদনকারীদের জন্য নতুনভাবে কঠোর নথিপত্র, যেমন চিকিৎসা ও অপরাধমূলক ইতিহাস জমা দেওয়ার শর্তও আরোপ করা হয়। 

এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক র‍্যান্ডলফ ডি মস এ নীতি স্থগিত করেছিলেন, তবে আপিল আদালতের একটি প্যানেল আগস্ট মাসে সেই স্থগিতাদেশ আংশিকভাবে বাতিল করে দেয়। ফলে ট্রাম্পের সীমান্ত নীতি কার্যত তখনো বহাল ছিল। 

বর্তমান রায়ে বিচারক জে মিশেল চাইল্ডস এবং বিচারক কর্নেলিয়া পিলার্ড সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দেন, যারা যথাক্রমে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বারাক ওবামার মনোনীত বিচারক। তারা বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত এবং কংগ্রেসের তৈরি আইনকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে আশ্রয় ব্যবস্থা বন্ধ করা যায় না। অন্যদিকে বিচারক জাস্টিন আর ওয়াকার, যিনি ট্রাম্পের মনোনীত, আংশিক ভিন্নমত দেন। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকের এতো বিস্তৃত রায় দেওয়ার এখতিয়ার ছিল না, তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা দেশে কাউকে ফেরত পাঠানো যাবে না। 

মানবাধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন-এর আইনজীবী লি গেলেরেন্ট এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি মানবিক অধিকার ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, আদালত স্পষ্ট করেছে যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের তৈরি আইন এককভাবে বাতিল করতে পারেন না। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানান, প্রশাসন এ রায়কে ত্রুটিপূর্ণ মনে করে এবং এর বিরুদ্ধে আরো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার যুক্তরাষ্টের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। 

শেয়ার করুন