১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৫:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিভাবে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে - বিএনপি মঙ্গলবার কর্মব্যস্ততায় সময় কেটেছে তারেক রহমানের সাফ বাংলাদেশের সেরা মহিলা ফুটবললাররা কেন ব্রাত্য হয়ে আছে? আমরা দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে - ডা. শফিকুর রহমান বাবার জন্য ভোট চাইলেন জাইমা রয়টার্সকে তারেক রহমান- জাতীয় সরকার নয় বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করবে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বিএনপির ইশতেহার, মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই চেতনায় দেশ গড়াসহ যুগোপযগী সহ নানা প্রতিশ্রুতি ওয়ারেন্ট ছাড়া বাড়িতে প্রবেশের গোপন নীতি আইসের উবার ও লিফট চালকদের অধিকার রক্ষায় ডিঅ্যাকটিভেশন বিল পাস


একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিভাবে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে - বিএনপি
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০২-২০২৬
একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিভাবে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে - বিএনপি


একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিভাবে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে  এমন অভিযোগ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার সকালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিঙে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ গত ২২শে জানুয়ারি থেকে আজ সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণার উৎসবমুখর এই সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফলাফল, বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য, ইনশাআল্লাহ।”

 

‘‘ এই বাস্তবতা উপলদ্ধি করে, একটি নির্দিষ্ট দল ক্রমাগত অপপ্রচার ছড়াচ্ছে; সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করে ভোট চাইছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে। জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের অপকৌশলই তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।”

মাহদী আমীন বলেন, ‘‘ যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই বিষয়ে খোদ দলীয় প্রধানের(শফিকুর রহমান) আসন ঢাকা-১৫ তে তার জন্য দাড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন এবং ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, সেই ভিডিও ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।”

‘‘ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা  নির্বাচনি আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে, তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে? যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে, দুর্নীতির মাধ্যমে, টাকা ছড়িয়ে, দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী এভাবেই জনগণের ভোট কিনতে চায়, তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কী হতে পারে? “

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও  রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষন করে দ্রুততম সমেয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।

‘খুলনা-১ আসনেও সেই দলের প্রার্থী ভোটারদের মাঝে নিজ হাতে টাকা বিলাচ্ছেন যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে’ বলেন মাহদী আমীন।

 

কুমিল্লা-১৪ আসন এবং বগুড়া-৪ আসনে একটি রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘ আমরা জানতে পেরেছি, সেই দলের একজন শীর্ষ নেতার আসন, কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রামে ওই দলের সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতামাঝ গ্রামে গতকাল(সোমবার) রাতে উক্ত দলের সাজাপ্রাপ্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্মীদের দ্বারা স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালানো হয়, অনেকেই গুরুতর আহত হন এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যা জনমনে চরম ভীতি সৃষ্টি করেছে।আমরা এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায়, অতি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন তথা রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃংখলাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

‘‘ বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় নস্যাৎ করতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতাই করা হোক না কেন, গণতান্ত্রকামী জনগণ তা রুখে দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, ইনশাআল্লাহ।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমীন বলেন, ‘‘ আমরা প্রত্যাশা করি, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। ”

‘‘ তবে আমরা অন্তবর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রত্যেকের ওপর আস্থা রাখতে চাই। আমরা সবাই মিলে প্রতিটি রাজনৈতিক দল যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে তাহলে নির্বাচনে সহিংসতা থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে আমরা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব। গণঅভ্যুত্থানের আকাংখা ছিলো সেটি.. সবাই মিলে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”

নির্বাচনে ভোট নিয়ে আপনারা কী ভাবছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘ আমরা আশাবাদী জনগণ এখানে স্বাভাবিকভাবে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেন নাই।”

‘‘ প্রত্যেকের মধ্যে একটি উৎসবমূখর অবস্থা রয়েছে। সহিংসতা না শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে সেটি আমাদের প্রত্যাশা। বিএনপি সব চাইতে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে যেন ইতিবাচক পরিবেশ থাকে এবং সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান কবর যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা রাখবে।” 

শেয়ার করুন