০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০১:২১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটের‌্যান্সের সভায় বক্তারা
আজ রাজাকাররা সংসদে, এতে আমাদের রক্তক্ষরণ হয়
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৪-২০২৬
আজ রাজাকাররা সংসদে, এতে আমাদের রক্তক্ষরণ হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজাকারদের ক্ষমা করে ভুল করেছিলেন। তিনি যদি রাজাকারদের ক্ষমা না করতেন, তাহলে আজকে আমাদের এই অবস্থায় পড়তে হতো না, বা এ অবস্থা দেখতে হতো না। আজকে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং রাজাকাররা জাতীয় সংসদে। আমরা যারা দেশ স্বাধীন করেছি, এটা আমাদের রক্তক্ষরণ করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাজাকারদের বিচার শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তাকেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটের‌্যান্স ১৯৭১ ইউএসএ ইনকের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আনোয়ার খান বাবলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আনসারী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক ফজলুর রহমান, সাংবাদিক মুজাহিদ আনসারী, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন, জাতির হোসেন বাচ্চু, কবি হুমায়ুন কবীর ঢালি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, শহিদ উদ্দিন, খান শওকত, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম সেলিনা রিতা প্রমুখ।

ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে কোন মঞ্চ ছিল না। মঞ্চে ছিলেন শুধু একজন তিনি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা, ছিল সঙ্গীত, ছিল কবিতা। আলোচনায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু, গানে ছিলেন বঙ্গবন্ধু, কবিতায়ও ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পুরো অনুষ্ঠানটি যেন বঙ্গবন্ধুময় হয়ে ওঠে। হলভর্তি অডিটোরিয়ামে যেন সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এক দুই জায়গায় একটু ব্যত্যয় ঘটলেও পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল চমৎকার। যে কারণে কয়েক ঘন্টার অনুষ্ঠানটি মানুষ ঠাঁয় বসে উপভোগ করেছেন মধ্যরাত পর্যন্ত।

সংগঠনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ বলেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজাকারদের ক্ষমা করে ভুল করেছিলেন। তিনি যদি রাজাকারদের ক্ষমা না করতেন তাহলে আজকে আমাদের এই অবস্থায় পড়তে হতো না, বা এই অবস্থা দেখতে হতো না। আজকে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং রাজাকাররা জাতীয় সংসদে। আমরা যারা দেশ স্বাধীন করেছি, এটা আমাদের রক্তক্ষরণ করে। যারা আমাদের দেশের বিরোধিতা করেছিলেন তারাই দেশ চালাচ্ছে। যে কারণে জাতীয় সংসদে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধদের নামে শোক প্রস্তাব আনা হয়। এজন্য তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছি। সংসদ সদস‍্য যারা জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীত অসম্মান করায় তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করছি। নিন্দা জানাই স্পিকারকে। তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা। আমরা একদিন শেষ হয়ে যাবো কিন্তু শেষ হবার আগেই আমাদের শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাজাকারদের বিচার শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তাকেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি। দেশবিরোধীদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়েছে, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে তারা কীভাবে রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করে? তবে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেতে চাই- মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশে রাজাকারদের বিচার হতেই হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিচার আন্দোলন করেছি, ইমডেমনিটি বিল করার পরও আন্দোলন করেছি, লড়াই করেছি। আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে। তবে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মনে রাখবেন, এদিন দিন নয়, আরো দিন আছে..।

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সে আওয়ামী লীগ আজ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। ২৬ মার্চে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নামে স্লোগান দেওয়া যায় না, এজন্য কী আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। তিনি বলেন, এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। 

সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন অনুষ্ঠানকে সফল এবং সার্থক করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতরায় বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান। 

স্বাধীনতা দিবসের এ আয়োজনে দেশের গান গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, দিনাত জাহান মুন্নি, আলামিন বাবু। কবিতা আবৃত্তি করেন মুমু আনসারী, কবি সালেহা ইসলাম, সৈয়দ হাসমত আলী, ড. সেলিনা রিতা।

শেয়ার করুন