০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৮:৩১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারি কর্মজীবীদের বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আগে টিআইবির শর্ত মানার আহ্বান রোগীর সুস্থতায় পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বালিয়াড়ি ধবংস করলে প্রাকৃতিক উপকূলীয় সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে ইসরায়েলের সমালোচনা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার অসাংবিধানিক রাজু হত্যার অভিযুক্ত আতোস্তা গ্রেফতার নিউইয়র্কে মাদকে মৃত্যু ৪৫ শতাংশ কমেছে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে স্বীকৃতি দিতে বিল পাস মসজিদে তিন মুসলিম হত্যাকাণ্ড : লিন্ডসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উল্টো পথে আসা গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি মা-মেয়ে নিহত আশ্রয়প্রার্থী শতাধিক অভিবাসীকে আফ্রিকার ৮ দেশে পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র


কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে টেনেসির রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস


যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি স্টেটের এক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একাধিক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ‘মুসলমানরা আমেরিকান সমাজে থাকার যোগ্য নয়।’ এ মন্তব্যকে মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো বিপজ্জনক ও বিভাজনমূলক বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে।

টেনেসি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস, যিনি মার্কিন কংগ্রেসের রক্ষণশীল জোট হাউস ফ্রিডম ককাসের সদস্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে একাধিক পোস্টে মুসলমানদের লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ওই পোস্টগুলোতে তিনি লিখেন- মুসলমানরা আমেরিকান সমাজে অন্তর্ভুক্ত নয়, একই সঙ্গে তিনি আরো মন্তব্য করেন যে, মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস না করে ইসলামি আইনে পরিচালিত দেশগুলোতে চলে যাওয়া উচিত। ওই পোস্টের সঙ্গে তিনি সোমালিয়া ও সেনেগালের নাগরিক বলে দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তির মাগশট ছবিও শেয়ার করেন এবং অভিবাসন ও অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে মুসলিম সম্প্রদায়কে সমালোচনা করেন।

এ মন্তব্য প্রকাশের পরপরই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা, মানবাধিকার সংগঠন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন গোষ্ঠী কঠোর সমালোচনা করে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো কংগ্রেসম্যানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে ‘মুসলিমবিরোধী চরমপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির মতে, মুসলমানদের ‘বহিরাগত’ হিসেবে উপস্থাপন করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের মূলনীতিকে দুর্বল করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ লাখ মুসলিম বসবাস করেন এবং তারা সরকার, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামরিক বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভূমিকা পালন করছেন।

এ মন্তব্যের পর ডেমোক্র্যাট দলীয় অনেক আইনপ্রণেতা ও জননেতা প্রকাশ্যে কংগ্রেসম্যানের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, তাই কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি পুরো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দেশের জন্য অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন, তা আমেরিকান মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমসহ আরো কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ইতিহাসে দেখা গেছে এ ধরনের মুসলিমবিরোধী ভাষণ অনেক সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসলামবিরোধী বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে কিছু রাজনীতিবিদ ইসলামকে আমেরিকান মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন বা মুসলিম সম্প্রদায়কে চরমপন্থার সঙ্গে একাকার করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে অনেক সময় রাজনৈতিক বক্তব্যেও ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোকে নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি দেখায় যে, মুসলিমবিরোধী ভাষা ধীরে ধীরে মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় প্রবেশ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।

ডেমোক্র‍্যাট আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে এই মন্তব্যের প্রকাশ্য নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি। একজন নাগরিক অধিকারকর্মী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি দেশ। কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি কখনোই বলতে পারেন না যে কোটি কোটি মানুষ তাদের ধর্মের কারণে এ

 দেশে থাকার যোগ্য নয়। মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনের মতে, এ ঘটনাকে ঘিরে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া, নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলেছে।

শেয়ার করুন