০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৩:১৪:১৩ অপরাহ্ন


জুলাই সনদ অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না : হাইকোর্টের রুল
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৩-২০২৬
জুলাই সনদ অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না : হাইকোর্টের রুল বাংলাদেশের হাইকোর্ট


বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। মামলার বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, গাজী কামরুল ইসলাম প্রমুখ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। 

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট করেন। গত সপ্তাহে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম অপর একটি রিট করেন।

রেদোয়ান-ই-খোদার করা রিট আবেদনে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এছাড়া মাহবুব আলমের রিটে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যের শপথের ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা চাওয়া হয়। 

জামায়াতের প্রতিবাদ 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, গণভোটের বিষয়টি সংসদের হলেও এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডভোকেট শিশির মনির।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে যাতে ফ্যাসিবাদী শাসন আর ফিরে না আসে, এজন্য সংস্কারের প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে। এটা এখন জাতীয় সংসদের বিষয়। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। সেখানে সংসদ সদস্যগণ, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এ বিষয়টি আলোচনা করবেন। এখন এ বিষয়টি আদালতের কাঁধে রেখে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যারা চেষ্টা করছেন, আমরা মনে করি সেটা সঠিক নয়। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আহ্বান জানাতে চাই যে বিষয়টি জাতীয় সংসদের, তা জাতীয় সংসদ সদস্যদেরই পালন করতে দেয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও জাতীয় সংসদের কিছু বিষয় আদালতের কাঁধে ভর করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখন সঙ্কট আরো বেশি ঘনীভূত হয়েছে এবং জাতীয় বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিশেষ করে আপনারা জানেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার কারণেই বিগত ১৬ বছর দেশে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুক তা আমরা আর দেখতে চাই না। তাই জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়টি জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া উচিত। বিষয়টি যেহেতু গণভোটে পাস হয়েছে, তাই আমরা অবিলম্বে এটি কার্যকর দেখতে চাই। 

এনসিপি’র সারজিস আলম 

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন তারেক রহমান। এর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করা জনগণের সমর্থন তিনি ও তার দল (বিএনপি) পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, এখন একদল বিএনপিপন্থী আইনজীবী আদালতকে ব্যবহার করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করাতে চাচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আফসোস ক্ষমতার মোহ আমাদের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়! এই আত্মঘাতী রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে ঠেকাবে?”

সারজিস আলম আরও উল্লেখ করেন, আদালতকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার নজির অতীতেও ভালো হয়নি, বর্তমান এবং ভবিষ্যতেও ভালো হবে না।

শেয়ার করুন