১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ০৪:১৩:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডে মাহমুদ খলিলের আপিল খারিজ


বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অকৃত্রিম এক বন্ধুর বিদায়
মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম আরিফ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-১০-২০২৪
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অকৃত্রিম এক বন্ধুর বিদায় বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে রিচার্ড টেলর (লাল জামা)


১৯৭১ সালের গ্রীষ্ম ও শরৎকালে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানি সামরিক শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পূর্ববাংলার জনগণের ওপর চলমান গণহত্যাকে সমর্থন করেছিল। তবে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে রিচার্ড টেলরের নেতৃত্বে একদল আমেরিকান এ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। তারা পূর্ব উপকূলের বন্দরে পাকিস্তানি শিপিং বন্ধ করতে সচেষ্ট হয় এবং মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখেন। ‘ব্লকেড’ হলো ক্যানো ও কায়াকের একটি ‘অহিংস বহর’-এর গল্প, যারা মার্কিন সরকারের নীতিকে পাল্টানোর জন্য লড়াই করেছিল।

বিশেষভাবে শোক জানাতে চাই যে, ১৯৭১ সালের এই অবরোধের অন্যতম কৌশলবিদ রিচার্ড টেলর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী, সাহসী এবং ন্যায়বিচারের প্রতি আপসহীন যোদ্ধা। রিচার্ডের বিনয়, যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান প্রদানের ক্ষমতা এবং তার অটল নেতৃত্ব তাকে সবার প্রিয় করে তুলেছিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় রিচার্ড আমাদের অবিচ্ছেদ্য বন্ধু ছিলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তার নেতৃত্বে পাকিস্তানে অস্ত্র চালান বন্ধে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করে। এই কিংবদন্তি যোদ্ধার স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

১৯৭১ সালের জুলাই মাসে রিচার্ড টেলরের নেতৃত্বে একটি দল বাল্টিমোর বন্দরে ক্যানো ও কায়াক নিয়ে ‘পদ্মা’ নামের পাকিস্তানি জাহাজকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল, যা সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল। যদিও এই অবরোধ পুরোপুরি সফল হয়নি, এটি পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। ফিলাডেলফিয়ার ডক শ্রমিকরাও প্রতিবাদে যোগ দিয়ে পাকিস্তানি জাহাজগুলো লোড করতে অস্বীকৃতি জানান। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থন বজায় রাখে। তবে কয়েক মাসের ধারাবাহিক আন্দোলনের পর, অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে অস্ত্র রফতানি বন্ধ করে দেয়।

৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ তার বহু আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা অর্জন করে।

শেয়ার করুন