০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৮:৩২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


অকার্যকর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন?
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০১-২০২৩
অকার্যকর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন?


বিদ্যুতের খুচরা বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বার্ক) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গণশুনানি সবে শেষ করেছে। অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বার্ক প্রথমত মূল্য নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু সেই বার্ক কী মূল্য নির্ধারণ করার দায়িত্বটা পালনে সক্ষম হলো? বার্ক যখন সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছিল ঠিক তার আগে হঠাৎ তড়িঘড়ি করে সরকারি আদেশ দিয়ে আরেকদফা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা মনে করছে সচেতন মহল। এখানে সরকার মানেই আমলা। যাদের ভুল নীতির কারণেই আজ দেশে জ্বালানি সংকট এটা আর নতুন কী। 

এমনিতেই এখন দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত। শীত মৌসুমের কারণে চাহিদা কম থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছু স্বস্তি। তাও গ্রামগঞ্জে বিদ্যুৎ লোডশেডিং হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন জ্বালানি সরবরাহে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান না থাকায় আগামী মার্চ-এপ্রিল থেকেই তীব্র জ্বালানি সংকট হতে পারে। সরকার যখন মানসম্পন্ন জ্বালানি বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ, সেখানে বার্ককে উপেক্ষা করে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা কিছুটা হঠকারিতা বলা একেবারে ভুল হবে না। নতুবা কেন তাড়াহুড়ো? কেন অস্থিরতা? 

জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে সরকারি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে বার্ক অ্যাক্টের মাধ্যমে সৃষ্ট কমিশন সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যেই ধীরে ধীরে জ্বালানি বিদ্যুৎ সেক্টরে কর্মরত কোম্পানিসমূহের জবাবদিহিতা উন্নয়ন করছিলো। অনস্বীকার্য বার্ক অর্পিত দায়িত্ব সম্পূর্ণ সঠিকভাবে পালন করেনি। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কেন সরকার অ্যাক্ট সংশোধন করে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ক্ষমতা জবরদখল করলো? সরকার মানেই আমলা- এটা বলছি আবারো। আমলাদের ভুলেই আজ জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট আর তাদেরই সাজানো ফাঁদে পা দিয়ে জনতার সরকার। জনতার ভোটে পাস করা সরকার আজ সেই জনতার সাথে প্রতারণা হলো কি-না এটা এখন বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। 

নিজেদের ভ্রান্ত পরিকল্পনা, দুর্বল প্রকল্প বাস্তবায়ন আর সীমাহীন দুর্নীতির কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ভঙ্গুর এ কথা বহুবার আলোচিত হয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটে মৃত্যু পথযাত্রী দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত। এমনিতে মুহূর্তে কীভাবে সংকট থেকে রেহাই মিলবে সেটাই হওয়া উচিত-মুখ্য। সরকার প্রধানও সম্ভবত অমন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টজনদের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে অস্বচ্ছ পথে মূল্যবৃদ্ধি রীতিমতো হঠকারিতা।

এমতাবস্থায় সরকার একটু ঠান্ডা মাথায় সুদূরপ্রসারি চিন্তাভাবনা করে এগুলো বার্কের মূল্য নির্ধারণ জন্য অপেক্ষা করা যথার্থ ছিল, কিন্তু সেটা হলো কোথায়? এখন যে পথে হাঁটছে দেশের বিদ্যুৎখাত, সেখানে বার্ক চালু রাখা যুক্তিহীন। এটা বলতে দ্বিধা নেই যে, সংশ্লিষ্টরা বার্কের পিঠে ছুরি মেরে মারাত্মক আহত করলো। সরকারের আদেশ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা প্রশ্নসাপেক্ষ করবে। বার্ক নিশ্চিত বিলুপ্তির পথে হাঁটবে।

শেয়ার করুন