বিদ্যুৎ লাইন
জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জোট। সরকার গঠনের পরই তারেক রহমান পাচ্ছে রমজান মাস। নিবিড় সেচ কাজও শুরু হয়েছে, গ্রীষ্মও চলে আসছে। দেশের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সেক্টর জ্বালানি বিদ্যুৎ খাত নিয়ে কী কিছু ভেবে রেখেছে বিএনপি? এবারের গ্রীষ্ম কাল ২০২৫-এর মতো অপেক্ষাকৃত মৃদু। তাহলে বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। সবাই জানে গ্রিড অফ গ্রিড মিলে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকট, বিদেশ থেকে গ্যাস, কয়লা, তরল জ্বালানি আমদানির জন্য অর্থ সংকট এবং বিপুল সংকট দেনার দায়ে পঙ্গু বিপিডিবি আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে ব্যাপক লোডশেডিং করতে বন্ধ হতে পারে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিব্রত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশক্সকা প্রকাশ করেছেন।
জ্বালানি সংকট বিশেষ করে গ্যাস সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ২০০০ থেকেই বিএনপি নেতৃত্বের জোট সরকার, আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি কৌশলের ধারাবাহিকতায় সংকট মেটানোর কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্থানীয় জ্বালানিসম্পদ আহরণ, উন্নয়নের কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিজেদের কয়লা উত্তোলন বা জলে-স্থলে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধির দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুরুতে জ্বালানি বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের বিপুল বকেয়া পরিশোধের কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের বকেয়ার পরিমাণ সাত-আট মাসের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিলের সমপরিমাণ দাঁড়িয়েছে।
একে তো বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যক্তিখাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা ব্যবসায়িক পুঁজি সংকটে তদুপুরি বিপুল বকেয়া থাকায় ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তদুপরি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠাগুলোর সংগঠন (বিআইপিপিএ) সম্প্রতি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) সংস্থানের শর্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিপিডিবি সম্প্রতি বেসরকারি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর অযাচিতভাবে লিকুইডেটেড ড্যামেজ আরোপ করেছে।
৯-১০ মাসের বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ বিপিডিবি। অথচ লিকুইডেটেড ড্যামেজ আরোপিত উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর। বিপিপিআর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো দাবি করা হয়েছে বিপিডিবি স্থানীয় এবং বিদেশি আইপিপিগুলোর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। একই ব্যর্থতার কারণে ভারতের আদানি গ্রুপ নোটিশ দিয়ে বিদ্যুৎ রফতানি কমিয়ে দিলেও বিপিডিবি কিছু করতে পারেনি। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদনকারীদের বেলায় বিপিডিবি খড়গ হস্ত। একটি নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে এ ধরনের অযাচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নতুন সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র কি না সন্দেহ প্রকাশ করার যুক্তি রয়েছে।
আসন্ন মৌসুমে পিক চাহিদার সময় স্থানীয় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অন্তত ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতেই হবে। কিন্তু পুঞ্জীভূত বকেয়ার অন্তত ৬০ শতাংশ দ্রুত পরিশোধে ব্যর্থ হলে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। পরিণামে এবারের গ্রীষ্মকালে ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে দুঃসহ বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের আশক্সকা করা হচ্ছে। নতুন সরকার কিন্তু জাদুর কাঠি হাতে নিয়ে আসছে না। বিডিবিকে অবিলম্বে অর্থ পরিশোধ করে আইপিপিগুলোকে ব্যাংকে এলসি খুলে তরল জ্বালানি আমদানিতে সহায়তা দিতে হবে। তার পরেও পরিকল্পিত লোডশেডিং এড়ানো যাবে না, নতুন সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে।