১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:৪৬:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইমাম নিহতের ঘটনায় টার্নারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ম্যানহাটনে মুসলিম মহিলাকে ছুরিকাঘাত, আলবার্টকে ১১ বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ট্রাম্পের কড়াকড়িতে অভিবাসী শ্রমিক কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের বেকারত্ব বেড়েছে ওয়াশিংটনের ন‍্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে সভা মধ্যবর্তী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম বদলাতে মরিয়া ট্রাম্প জামায়াতের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে নানা গুঞ্জন এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি বাংলাদেশ গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশের সঙ্গেও ক্রিকেটে ভারতীদের ভূ-রাজনীতি


ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পেলেন মাসুমা খান
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-১১-২০২৫
ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পেলেন মাসুমা খান কন্যা রিয়ার সঙ্গে মাসুমা খান


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৩১ দিন পর গত ৫ নভেম্বর মুক্তি পেলেন বাংলাদেশি মাসুমা খান (৬৪)। মাসুমা খানের অভিবাসন মর্যাদা সমন্বয়ের (স্ট্যাটাস এডজাস্টমেন্ট) জন্য আবেদন করেছিলেন তার স্বামী ইশতিয়াক খান। আবেদনের পর লস অ্যাঞ্জেলেসস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে ৬ অক্টোবর হাজিরা দিতে গেলে তাকে আটক করে ক্যালিফোর্নিয়া সিটি ডিটেনশন সেন্টারে রেখেছিল আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা। 

এমন ঘটনার পর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মাসুমা খানের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয় এলাকার কংগ্রেসওম্যান জুডি চু এবং ইউএস সিনেটর অ্যাডাম শেফ। একই সঙ্গে মাসুমা খানের কন্যা অ্যাটর্নি রিয়া খানও ইমিগ্রেশন কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকেও জটিল রোগে আক্রান্ত মাসুমা খানের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল। 

এরপর ফ্রেসনো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট মাসুমা খানকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। ১৪ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজিরার জন্য বলা হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত আইসসহ ইমিগ্রেশনের সকল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসুমা খানকে গ্রেফতার না করার জন্য। 

মাসুমা খানের মুক্তির পর অ্যাটর্নি রিয়া খান ক্ষোভের সঙ্গে জানান, লস অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি একটি দুষ্ট চক্রের খপ্পড়ে পড়েছিলেন আমার মা। তারা মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিল গ্রিনকার্ডের সবকিছু করে দেওয়ার। সেটি ১৯৯৭ সালের কথা। সে সময় আমার মা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ট্যুরিস্ট ভিসায়। 

জানা গেছে, চক্রটি মাসুমা খানের নাম পরিবর্তন করে ‘নূরজাহান’ নামে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছিল। মাসুমা খানকে বলা হয়েছিল যে, সবকিছু হয়ে যাবে রীতি অনুযায়ী। মাসুমা খান ইউএস সিআইএসের কোনো নোটিশ বা তার সেই ভুয়া নামে করা আবেদন যে নাকচ হয়েছে সেটিও জানতে পারেনি। এর মধ্যেই তার স্বামী (যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন) ইশতিয়াক খান তার জন্য স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদন করেন ২০২০ সালে। এই আবেদনের পর মাসুমা খান জানতে পারেন যে, তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি হয়েছে। এরপর বহিষ্কারাদেশ উঠিয়ে নিতে দুবার আবেদন করেছিলেন। দুবার নাকচ করা হলেও ইউএসসিআইএস (যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস) মাসুমা খানের স্ট্যাটাসের ব্যাপারটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী বছরে অন্তত একবার করে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে হাজিরার প্রক্রিয়ায় ছিলেন তিনি। গত ৬ অক্টোবর হাজিরা দিতে গিয়ে ট্রাম্পের চলমান অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার কর্মসূচিতে আটক হয়েছিলেন তিনি।

এমন অবস্থায় মাসুমা খান ন্যায়বিচার চেয়েছেন এবং তার মুক্তির জন্য যারা সচেষ্ট ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। 

শেয়ার করুন