০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মেডিকেইড হারানোর শঙ্কায় ৯ লাখ নিউইয়র্কবাসী নিউইয়র্কে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের ফাফসা ট্যাপ ও স্টেমের আবেদন শুরু লং আইল্যান্ডে তিন দিনের অভিযানে ৩৪ নিখোঁজ শিশু ও কিশোর উদ্ধার ৬০ মিলিয়ন শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলেছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা : বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার এআই নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স আইস সেজে নারীকে নির্বাসনের হুমকিতে আতিকুলের দোষ স্বীকার বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজনপার্কে খলিল বিরিয়ানি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে রিপাবলিকানরা


আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সরকারের সব উন্নয়ন কার্যক্রম
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সরকারের সব উন্নয়ন কার্যক্রম


নতুন সরকারের মন্ত্রী সাংসদরা প্রতিদিন মিডিয়ায় এসে আমলাদের প্রণয়ন করা সাজানো আকাশ ছোঁয়া পরিকল্পনার কথা বলছেন। মন্ত্রীদের আশ্বাস বাণীর কথা শুনলে মনে হবে কোথাও কোনো সংকট নেই। দেশে সুস্থ, সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ জ্বালানি, বাজার ব্যবস্থাপনা সর্বত্র চলছে অস্বস্তি, আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নাজুক, বিশেষজ্ঞরা বলছে সরকার আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় সর্বত্র চলছে সমন্বয়হীনতা। কোনোভাবেই সরকার স্বচ্ছতা আর জবাবহীনতা নিশ্চিত করতে পারছে না। 

দেশ জুড়ে এখনো হাম, ডেঙ্গু আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলেছে। নানা কারণে মুদ্রা স্ফীতির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চলছে অস্থিরতা। নুন আনতে পান্তা ফার্নাও জনজীবনে অস্থিরতা। তেল সঙ্কট, গ্যাস বিদ্যুৎ সঙ্কটের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে এলপিজি সরবরাহ সংকট। সরকার বলছে দেশে সংকট নেই, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলারেটরি কমিশন নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না। সড়ক চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, উড়াল সড়ক মহানগরীতে স্বস্তি আনতে পারেনি। প্রতিদিন ঢাকার কোনো না কোনো অংশে কোনো কারণে সৃষ্ট ঘটনার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। অপচয় হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা, জ্বালানি অপচয়, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যানজট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রতিদিন নানা আকাশ চুম্বি পরিকল্পনার কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এখনো দেশে চলছে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মবসন্ত্রাস। মিডিয়া শুনলেই খুন, শিশু, নারী ধর্ষণ, দুর্নীতির কাহিনী শোনা যাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কারো কারো কোথায় হতাশার চিত্র ফুটে উঠছে। আট মাস হয়ে গেলো নতুন সরকারের। সংসদে এবং বাইরে সরকার এবং বিরোধী দল নানা ইস্যুতে এখন মুখোমুখি অবস্থায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে বেধেছে গোল। এমনি অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ প্রধান ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় দেশজুড়ে অস্থিরতা দৃশ্যমান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসলে ডিসেম্বর নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

নানা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা সহনীয় করা হলেও এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এমনি অবস্থায় নতুন করে এলপিজি সংকট দেখা দেওয়ায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দারুণভাবে ফুটে উঠছে। ডিজেল পেট্রোল অকটেন কেরোসিনের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি চক্রাকারে সর্বক্ষেত্রে আরেক দফা মূল্যবৃদ্ধি করেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সিন্ডিকেট সব ক্ষেত্রে সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সরকার প্রধানের উচিত সরকারের মন্ত্রীদের কার্যক্রম বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করে সঠিক ব্যাক্তিদের সঠিক দায়িত্বে নিয়োগ, প্রশাসনে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শংকর করে গতিশীল করা, সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সরকারকে নিজেদের নেতা-নেত্রীদের ওপর নিরংকুশ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা জরুরি।

সরকার দ্রুত আমলা নিমন্ত্রণ মুক্ত হয়ে পেশাদারদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পার উন্নয়ন কার্যক্রম বেগমান করতে ব্যর্থ হলে অচিরেই বিপদে পড়বে সরকার।

শেয়ার করুন