১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৯:০০:৫৭ অপরাহ্ন


৩ লাখ ডলার বাজেট : এখনো আশাবাদী নেতারা
অর্থ সাশ্রয়ে সংবর্ধনা বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৯-২০২৬
অর্থ সাশ্রয়ে সংবর্ধনা বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর হওয়ায় এটিকে নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রবাসী নেতারা। তবে ২৫ সেপ্টেম্বর যে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল সেটি বাতিল করা হয়েছে। মূলত ৩ লাখ ডলার বাজেট দেখেই প্রধানমন্ত্রী এই সংবর্ধনা বাতিল করেছেন। জানা গেছে, এই বিশাল বাজেট জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন এবং নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পাঠিয়েছিলেন। এই বিশাল বাজেট দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের এই বিপুল অর্থ খরচ করে গণসংবর্ধনা নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। সময় থাকলে আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে দেখা হবে। অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ নিজেদের উদ্যোগে গণসংবর্ধনার আয়োজনের কথা বললেও সেখানে দেখা দেয় বিভক্তি। সেই বিভক্তির কারণে অপর সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল। আবার কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বার বার পরিবর্তন হচ্ছে, তার সফরের সময়ও পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার বাইলেটারাল বৈঠক বেশির কারণে সংবর্ধনার সময় বের করা যাচ্ছে না। তারপরেও আমরা আশাবাদী।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি না থাকায় নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণেও এ সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কারণ, কে আয়োজনে থাকবেন, কারা প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাবেন, কোন অঙ্গরাজ্য থেকে কতসংখ্যক নেতাকর্মী আনা হবে- এসব নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। তাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে যে টানাপড়েন রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সেটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রথমদিকে কন্স্যুলেট ও দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা আয়োজনের আলোচনা থাকলেও আপাতত সেটা হচ্ছে না। মূলত ৩ লাখ মার্কিন ডলার বাজেট চাওয়ার কারণে। টাকা সাশ্রয় করতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার ও কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এবিসিসিআই) এর চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ বলেন, নাগরিক সংবর্ধনার বিষয়টি এখনো কনর্ফাম হয়নি। কারণ, একটা অনুষ্ঠান করতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লক্ষ ডলার খরচ হয়। তাই প্রধানমন্ত্রী এত টাকা খরচ করে সংবর্ধনা নিতে চাচ্ছেন না। হয়তো দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে দেখা করবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরটি স্মরণীয় করে তুলতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। 

এদিকে সরকারি খরচে নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন বাতিল হলেও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিকল্প নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের চেষ্টা করছে কয়েকটি গ্রুপ। মূলত লন্ডনভিত্তিক বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন খোকনকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় তার সাথে নিউইয়র্ক বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন গ্রুপ আলাদাভাবে আয়োজনের চেষ্টা করছে। আনোয়ার হোসেন খোকন তার বলয়ে থাকা জিল্লুর রহমান জিল্লু, আব্দুল লতিফ সম্রাট ও মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টনসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে গ্রুপিং করার অভিযোগে অপর সিনিয়র কোনো নেতা তার সাথে কাজ করতে নারাজ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকতার হোসেনসহ একাধিক বিএনপি নেতা জানান, এই নাগরিক সংবর্ধনা শুধু একজন সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও সুযোগ। কিন্তু শুধুই কি অর্থ সাশ্রয়ের কারণেই কি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছে এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবার সাবেক যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল চৌধুরী লিটন বলেন, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এত অর্থ ব্যয় করার কোন অর্থ হয় না। একই অভিমত যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর এম আলম, শাহজাহান শেখসহ অন্যান্য নেতাদেরও। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট এবং মিজানুর রহমান মিল্টন ভূইয়া বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করছি।

প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সংগত কারণেই জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্যও আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এই ভাষণটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ দীর্ঘ ৪০ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সভাপতিত্ব করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এমন বাস্তবতায় ঠিকই প্রোগ্রামটি অনন্য বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বাড়ছে।

শেয়ার করুন