২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প


যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড পেতে বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলারের ফেরতযোগ্য বন্ড নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিদ্যমান আইনের আওতায় এ ধরনের বন্ড ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব কি না, তা পর্যালোচনা করছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, সব আবেদনকারীর জন্য একই অঙ্কের বন্ড নির্ধারণ করা হবে না; বরং আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা, অভিবাসনের ধরন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির ভিত্তিতে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হতে পারে। সর্বোচ্চ অঙ্ক হিসেবে ১ লাখ ডলারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে চান, তাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। তিনি জানান, নতুন আইন প্রণয়ন ছাড়াই বিদ্যমান আইনের আওতায় কীভাবে এ ধরনের বন্ড ব্যবস্থা চালু করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে প্রশাসন। প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী নিজে অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তার আত্মীয়স্বজন এ বন্ড জমা দিতে পারবেন। গ্রিনকার্ডধারী পরবর্তী সময়ে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। সাধারণভাবে গ্রিনকার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে অন্তত পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়, যদিও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে।

গ্রিনকার্ডের ক্ষেত্রে বন্ড চালুর ধারণাটি একেবারে নতুন নয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন পর্যটক ও স্বল্পমেয়াদি ভিসা আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে একটি বন্ড কর্মসূচি চালু করে। প্রথমে আফ্রিকার মালাউই ও জাম্বিয়ার নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হতো। কোনো ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে অথবা পর্যটক ভিসায় প্রবেশ করে পরে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) বা অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধার আবেদন করলে ওই বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হতো। পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ৫০টি দেশে প্রয়োগ করা হয়, যার অধিকাংশই আফ্রিকার দেশ।

প্রস্তাবিত বন্ড ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিবাসন অধিকারকর্মীরা। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, এ নীতি কার্যত একটি পে-ফর-প্লে বা অর্থের বিনিময়ে অভিবাসনের ব্যবস্থা তৈরি করবে। তার মতে, এর ফলে কেবল ধনী ব্যক্তিরাই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন কিংবা উন্নত জীবনের সুযোগ পাবেন। সীমিত আয়ের মানুষ বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতো বড় অঙ্কের বন্ড বাধ্যতামূলক করা হলে বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের সুযোগ হারাতে পারে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। তবে ১ লাখ ডলারের বন্ড ব্যবস্থা এখনো নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিমালা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হবে কি না, হলে কোন শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে এবং বন্ডের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা আসেনি।

শেয়ার করুন