১৩ মে ২০২৬, বুধবার, ০৮:৫১:৬ অপরাহ্ন


জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল ইন্টেরিম সরকার
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০৫-২০২৬
জনস্বাস্থ্যের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত ছিল ইন্টেরিম সরকার


গত ১২ মে মঙ্গলবার সকালে মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির উদ্যোগে সারাদেশে হাম মহামারীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মহামারী প্রতিরোধে সরকারের উদাসীনতা ও অবহেলার প্রতিবাদ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল। স্মারকলিপি পাঠ করেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। বিক্ষোভ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য লাকী আক্তার। সেখানে আগামী ১৯ তারিখের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। অন্যথায় অবস্থানসহ ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না বলেন, সারাদেশে হাম মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৪ শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে, তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। বিপুল সংখ্যক পরিবার সন্তান হারিয়ে শোকাহত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য দায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নেওয়ার পরও স্বাস্থ্য খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা থাকার কথা বলা হলেও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা কেনা হয়নি। কারণ সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়ে নিজেদের সুবিধা আদায়, অনিয়মের মামলা প্রত্যাহার ও ব্যক্তিস্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল। এমনকি ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা কিনলে কমিশন পাওয়া যাবে না-এই কারণে টিকা কেনা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি অবহেলা ও ব্যর্থতার নির্মম ফল। দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় জনগণ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লূনা নূর বলেন, বর্তমান সরকার মহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। মহামারী প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর কোনো সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুরা এখনো প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না; বিশেষ করে প্রান্তিক ও দুর্গত অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাম নিয়ে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় কোনো প্রচার-প্রচারণাও দেখা যাচ্ছে না।

সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে সারাদেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থা দূর করা এবং শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

শেয়ার করুন