১৩ মে ২০২৬, বুধবার, ০৬:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন


পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনের প্লাবনের ঢেউ বাংলাদেশে আছড়ে পড়বে কি?
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০৫-২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনের প্লাবনের ঢেউ বাংলাদেশে আছড়ে পড়বে কি? পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জয় পেয়েছে বিজেপি


সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে উগ্র হিন্দু ধর্মালম্বী দলের বিপুল বিজয় ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ঐতিহ্যগতভাবে পশ্চিম বাংলায় দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টি বা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় ছিল। এবারের নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উগ্র হিন্দু ধর্মাবলম্বী দল বিজেপি জয়ী হয়ে মমতা ব্যানার্জি সরকারের পতন ঘটায়। ভারত-বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্পর্কের রসায়ন পাল্টে যাবে। বিজেপি হিন্দু বা মুসলমান বাঙালি বলতেই ধরে নিচ্ছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। এবারের নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন নানা অজুহাতে ৯০ লাখ মুসলমানকে ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলে। 

অনেকের মতে, এবারের নির্বাচনে এ ভোটার তালিকায় পরিবর্তন এককভাবে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘ ১৫ বছর শাসনকালেও অনেক দুর্নীতি হয়েছে, অনেক বাড়াবাড়ি হয়েছে। নানা কারণে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্ক শীতল করেছে। মমতার কারণেই ভারতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদিত হয়নি, এটা বহু পরীক্ষিত। বাংলাদেশের অনেকেরই এজন্য ক্ষোভ এখনো। বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস করে অনেক সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী পশ্চিম বাংলায় অভয় আশ্রয় পেয়েছে। এসব কিছুর পরিণতি মমতার পতন।

অনেকেই বলছেন বিজেপি ক্ষমতায় আসায় হয়তো পশ্চিমবঙ্গ বা সীমান্তসংলগ্ন অন্যান্য প্রদেশ থেকে বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইন হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে যারা ভারতে অবস্থান করছে তাদের বৈধভাবে ফিরিয়ে দিলে কিছু বলার নেই। কিন্তু ঢালাওভাবে বাঙালি হলেই বাংলাদেশে পুশ করা হবে, সেটি কখনো সমর্থনযোগ্য হবে না।

আশা করি, ভারত সরকার উভয় দেশের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে অনিষ্পত্তিকৃত নানা সমস্যা নিরসনে আন্তরিক হবে।

দুদেশেরই শীর্ষ পর্যায়ে সম্মতি হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদিত হবে এবার। আরো আশা করবো, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। কেন দুটি প্রতিবেশী দেশের জলসীমায় বিষাক্ত সাপ বা কুমির ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হবে? কেন একটি দেশ প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কারণে-অকারণে নাক গলাবে? 

দুনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে উপমা দেওয়া যায়, কীভাবে প্রতিবেশী দেশগুলো নিজেদের সম্পদ, সামর্থ্য, টেকনোলজি যৌথভাবে কাজে লাগিয়ে লাগসই উন্নয়ন করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তাকারী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সুদৃঢ় হবে না? দুদেশের সুস্থ্য চিন্তাধারার নাগরিক সমাজকে এগুলো ভাবতে হবে।

তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ভারত সূচনা থেকেই একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির কথা বলে আসছে। যার প্রতিফলনও দেখা গেছে। বাংলাদেশের নতুন সরকারকে ভারত অভিনন্দন জানিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে গেছেন। ফলে কেন্দ্রের সে সম্পর্ক পশ্চিমবঙ্গ রেজাল্টে নতুন কোনো প্রভাব ফেলবে। 

সর্বোপরি, পশ্চিমবঙ্গে বা বাংলাদেশ সীমান্ত-সংলগ্ন প্রদেশগুলোতে বিজেপির জয় দুদেশের সম্পর্কে খুব একটা পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।

শেয়ার করুন