১৯ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মামদানি ও তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক যে কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত টহল প্রধান গ্রেগ অবসরে যাচ্ছেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা ফিল্মিস্টাইলে ডাকাতির কৌশলে ইমিগ্রেশন সুবিধা : ১১ ভারতীয় গ্রেফতার ঢাকা কলেজের ৮৫ প্রাক্তনদের ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত মার্কিন প্রতিবেদনে আরএসএস ও র’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ নিউইয়র্কে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে কংগ্রেসম্যানের মুসলিমবিরোধী মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী আজ


তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ
মাসউদুর রহমান
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৮-০৩-২০২৬
তারেক রহমানের ম্যাজিক কর্মসূচিতে মুগ্ধ মানুষ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করছেন তারেক রহমান


ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন চলার এক সময় ফ্রন্টলাইন প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ কী একটা ইস্যু নিয়ে নিজেদের মধ্যে খুনসুটি, হাসাহাসি। তাদের মুখে ছিল পরম ভালবাসা ও স্বস্তির নিঃশ্বাস। বাম কোনে বসা তারেক রহমান মুগ্ধতার সঙ্গে ওই তিন সিনিয়র নেতার কথাবার্তাগুলো শোনার চেষ্টা করছিলেন ও পরিবেশটা মিটি মিটি হেসে বুঝতে চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ে মাঠের ওই সৈনিক মির্জা ফখরুল, আমির খসরু। লন্ডনে থাকলেও মুহূর্তের জন্যও কোনো দেশে ঘটে যাওয়া কোনো কিছুই দৃষ্টি এড়ায়নি দলের তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। এরা মিলে মিশেই বহু বাধাবিপত্তি পেরিয়ে দেশের মানুষকে নিয়ে এখন ওই স্বস্তির রেশ যেন গোটা দেশের জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। তারেক রহমান দেশে পা রাখার পর থেকে অদ্যাবদি যা করেছেন- তা এক কথায় ড্যাম স্মার্টলী হ্যান্ডেল বলা ছাড়া উপায় নেই। এতেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ওই স্বস্তি নিঃসন্দেহে! 

তারেক রহমান সত্যিই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন- এমন কথা এখন তার ঘোর শত্রুরাও বলতে শুরু করেছেন। অথচ এ তারেককে নিয়ে ব্যাপক উৎকন্ঠা ছিল তার দলের মধ্যেও অনেকের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় শোনানো হতো- বিএনপির প্রধানমন্ত্রী হবেন কে? সেখানে এমন সব প্রশ্নের অবতারণা ঘটতো, এবং তারেক রহমানকে এমনভাবে উপস্থিত হতো যেন তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন অযোগ্য। বয়সে কম। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি ছিলেন বয়সে ছোট, মা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ শাসনামল ও রাজনৈতিক জীবনেও তারেক রহমান কখনও ছিলেন না সরকারের কোনো পার্ট। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতায় ঘাটতি। এরপর দীর্ঘ দেড় যুগ সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান। এমন একজন লোক বিএনপির কর্ণধার হওয়া নিয়েও আওয়া প্রপাগান্ডায় দ্বিধাগ্রস্থ ছিল দলের অনেকে! এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে দেশের মানুষ কিভাবে গ্রহণ করবেন এটা নিয়েও ছিল বড় প্রশ্ন। 

কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তারেক রহমান যে এক বড় আস্থা ও ভরসাস্থল সেটা টের পাওয়া গেল তার দেশের মাটিতে পা রাখার পর থেকে। যেন বিদ্যুৎ গতি ছড়িয়ে যায় মানুষের মধ্যে। মুহূর্তে জনস্রোত, বিমানবন্দর থেকে তার জন্য নির্মিত কুড়িল বিশ্বরোডে তার জন্য নির্মিত বিশেষ সমাবেশস্থলে। এর পর থেকেই প্রতিটা পদক্ষেপ তার মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। তার প্রতিটা সিদ্ধান্ত, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কৃতজ্ঞতাবোধ জানানো, খালেদা জিয়ার জানাজায় বর্ষিয়ান পলিটিশিয়ান নজরুল ইসলাম খানকে দিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বাবা ও মায়ের সঙ্গে রাজনীতি করা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকে সম্মান দেখানো মানুষের মুখে মুখে।

মায়ের জানাজায়, দেশীয় রীতিতে শুধু মা’কে মাফ করে দেয়ার আকুতি ও তার কাছে কেউ কোনো দেনা পাওয়ানা থাকলে তার কাছে জানালে পরিষোধের প্রতিশ্রুতিতে শেষ বক্তব্য- এসব উপস্থিত অগনিত মানুষের মন জয় করেছে। সেই শুরু, এরপর দলের সিনিয়রদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দলের মনোনয়ন, নির্বাচনের ক্যাম্পিংয়ে ভিন্নতা থেকে শুরু করে তারেকের প্রতিটা পদক্ষেপ ছিল প্রশংসনীয়। নির্বাচন পরবর্তিতে প্রতিপক্ষ প্রধান দুই দলের নেতার বাড়িতে যাওয়া ওই দলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। এরপর রাষ্ট্রক্ষমতায় এ পর্যন্ত যা যা করেছেন প্রথম মাসে- এতে মানুষ ‘হা’ করে শুধু দেখছেনই। 

এত দ্রুত এতসব কাজ করে ফেলা, কোনো কাজ ফেলে না রাখা, নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শামিল হন তিনি। তার মাত্র এক মাসের এ কর্মযজ্ঞকে অনেকটাই তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন মানুষ। ১৬ মার্চ বাবার কার্যকরি পদক্ষেপ খাল খনন কর্মসূচির উদ্ধোধন করেন তারেক রহমান। ঠিক বাবার মতই কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ওই কাজের সূচনা করেন তিনি। ৪৫ বছর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াও এভাবেই খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। 

এদিকে তারেক রহমানের কর্মকান্ড নিয়ে বেকায়দায় তার বিরোধী দল জামায়াত ইসলামও। দলটি ক্ষমতায় গেলে যেসব কাজ করবে বা যেসব কাজ দলটির কাছে প্রত্যাশা করছিল, তার সবটা তারেক রহমানের বিএনপিই করে ফেলছে। যার অন্যতম, বাংলাদেশের জাকাত ব্যাবস্থার পূর্ণগঠন, ইমাম মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপসনালয় পরিচালনাকারীদের সহায়তাকরণ। 

জাকাত ব্যবস্থা

গত ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা যায় সেই সম্ভাবনা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জাকাত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানা গেছে, কার্যকর জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও বৈঠকে জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নেতৃত্বে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কারা থাকবেন, আগামী দশদিনের মধ্যে সেই নাম প্রস্তাব করবে ধর্ম মন্ত্রণালয়। জাকাত ব্যবস্থাপনা ও জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের বিষয়ে এই কমিটি শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের সুপারিশ পেশ করবে।

এর আগে ৭ মার্চ আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সুষ্ঠু জাকাত ব্যবস্থাপনা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

তারই পরিপ্রেক্ষিতে হয় ওই বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। 

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী 

দেশের মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের পুরোহিত ও যাজকসহ ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতকে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রকল্পের আর্থিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।

অন্যদিকে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোর জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মন্দিরের পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। একইভাবে বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং খ্রিস্টান চার্চের পালক বা যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ধর্মের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যামিলি কার্ড 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ দুইয়ের বাইরে যে কর্মসূচিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, সেটা ফ্যামিলি কার্ড। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছাড়াও দেশে ফিরে তিনি যে প্রত্যাশার কথা রেখেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ তার অন্যতম একটি এ ফ্যামেলি কার্ড। 

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের ২০ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কার্ডের আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান প্রতিটি পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা দেবে সরকার। গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কয়েকজন নারীর হাতে কার্ড তুলে দেন তিনি। 

পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলো। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার (পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সংগৃহীত তথ্যগুলো ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির মাধ্যমে অধিকতর যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিলো। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকরি বা পেনশনের মতো বিষয়গুলো যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এ ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে কোনও ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানানো হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে। এতে কোনও ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা বিলম্বের সুযোগ থাকবে না। পাইলটিং পর্যায়ে আগামী জুনের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং বাকি টাকা অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতির কাজে ব্যয় হবে। কর্মসূচিটি পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার।

দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি 

১৬ মার্চ দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরায় খনন করা হবে, যাতে সেচব্যবস্থা উন্নত হয় এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো যায়। এছাড়া মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার কথা ভাবছে সরকার।

খাল পুনরুদ্ধার হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধায় উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমে আসা এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের জন্য পানির সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম খাল খননের উদ্যোগ নেন। জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গৃহীত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। তার উদ্যোগে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়, যা স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত ‘সবুজ বিপ্লব’-এর অংশ ছিল।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সেজন্য এসব সংকট নিরসনে সরকার খাল খননের উদ্যোগ নেয়। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৩টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ 

প্রায় ২৭,০০০ কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, নতুন উদ্যমে চাষাবাদে সহায়তা। দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করবে সরকার। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষিঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে কিছু শর্ত দিয়ে এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কৃষকদের এ ঋণের দায় সরকার পরিশোধ করবে বলে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়সংক্রান্ত কোনো মামলা থাকলে ব্যাংকগুলো তা প্রত্যাহার করবে এবং কৃষক যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে হবে। মামলা প্রত্যাহারের অগ্রগতি প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানাতে হবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষিঋণ মওকুফে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চাঁদাবাজ ও চাদাঁবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ 

বাংলাদেশে চাঁদাবাজি মহামারি আকার ধারণ করেছে। এতে অতিষ্ঠ্য এক শ্রেণীর মানুষ। এ নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন। একে অপরকে দোষারোপ করছে চাঁদাবাজি নিয়ে। এবার এ থেকে পরিত্রাণ পেতে তারেক রহমানের সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন নির্দেশনার পর ইতোমধ্যে তথ্য উদ্ঘাটনে ডিজিএফআই, এনএসআই ও পুলিশের এসবিসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহে মাঠে নেমেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করছেন। নেপথ্যের গডফাদারসহ চাঁদাবাজদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই তালিকা চাওয়া হয়েছে। ঢাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আলোচিত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও চলে এসেছে চাঁদাবাজিতে।

পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকির সম্প্রতি বলেন, চাঁদাবাজিকে ‘জিরো টলারেন্স’। স্পষ্ট বার্তা চাঁদাবাজির সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালীই হোক তাকে পাকড়াও করা হবে। এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর তালিকা সংগ্রহ চলছে। হাতে পেলেই অভিযান শুরু হবে। এ ব্যাপারে পুলিশের প্রত্যেকটা ইউনিটকে সজাগ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আসলে চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। এরা সব সময় নিজেদের সুবিধা আদায়ে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে। অতীতের তালিকাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করবে।

সরকারের এমন উদ্যোগে মানুষের মধ্যে স্বস্থি ফিরতে শুরু করেছে। কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন ও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা শুরু হলে এ ক্ষেত্রে মানুষ অবশ্যই সুফল লাভ করবে। কেননা চাদাবাজদের মানুষ ও সমাজ চেনে ও যানে। এখানে আড়াল করার কিছু নেই। শুধু প্রয়োজন কার্যকরি পদক্ষেপ, যেটা ইতিমধ্যে শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রী। 

কৃষক কার্ড 

আগামী পহেলা বৈশাখ ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১টি উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষী ও খামারিদের এ কার্ড দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন। 

এর বাইরেও অনেক উদ্যোগ 

এর বাইরেও তারেক রহমান পরিবর্তনের আভাস দিতে সক্ষম হয়েছেন। তার অন্যতম প্রশাসনে। ১৪ মার্চ শনিবারও অফিস করছেন তিনি। আর অফিস উপস্থিতি? সেটা তিনি নিজেই ৯টায় যেয়ে হাজির সচিবালয়ে। ফলে কার সাধ্য এরপরে অফিস এন্ট্রি দেয়ার? যদি চেয়ারে বসেই অমুক সচিব, তমুক সচিবকে নাই পেলেন, তাহলে তার অবস্থা? অর্থাৎ নটার অফিস ৯টায়ই হাজির এখন বাধ্যতামুলক। প্রতিদিনিই তিনি গাড়িতে যান সচিবালয়ে। ফিরছেনও। কিন্তু রাস্তার সকল ট্রাফিক সিগনাল মেনে। তার জন্য ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস পেয়েছে। ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে যান। মানুষ এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থাৎ কাছাকাছি দাঁড়িয়ে সেলফি তুলেন। হাত নাড়েন। এ যেন অভূতপূর্ব কোনো দৃশ্য। এতে জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

এর আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়ানো থাকতেন মন্ত্রী উপদেষ্টাবৃন্দ। সেটা সীমিত। ওই সময় উপস্থিত থাকবেন একজন সিনিয়র মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ব্যাস। বাতিল করে দেন তিনি এমপিদের বিশেষ সুবিধা। যেমনটা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।

এছাড়াও বেশ কিছু উদ্যোগ তিনি গ্রহন করেছেন। বাজার মনিটরিং আগেও ছিল, তবে সেটাতে কঠোরতা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণে দৃষ্টি, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু ও পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্ভর্তি ফি বাতিল ও লটারি সিস্টেম বাতিল, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ৯,০০০ শিক্ষক নিয়োগ যার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষিত বা ধর্মীয় শিক্ষকদের চাকরির ব্যবস্থা। ক্রীড়া উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণে ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসা কেন্দ্র চালুকরণ। স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।

এছাড়াও সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি, অপচয় রোধে ইফতার সীমিত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ, উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ ইত্যাদি। 

সবশেষ 

সবচে বিস্ময়ের ব্যাপার, তারেক রহমান যে ১৭ বছর দেশে ছিলেন না, সেটা তার চলাফেরা, কথাবার্তা আচার আচারণ, কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তার স্মার্টভাবে হ্যান্ডেলকরণ দেশের মানুষকে দারুণভাবে আকর্ষণ করেছে। এত অল্প সময়ে তিনি এত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কোনো সেক্টরের মানুষকে তিনি বাদ দেননি। সবার জন্যই আশার আলো তিনি ইতিমধ্য দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। এ যেন উড়ন্ত এক সূচনা তার। দেশে বহু রাষ্ট্রপ্রধানের আমল দেখেছেন মানুষ। কিন্তু এতটা সাবলীল ও বিতর্কহীন ও দ্রুত সময়ে সবকিছু সামলে সূচনা ও বিভ্রান্ত হওয়া মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিকরণ এটার কৃতিত্বের দাবিদার তারেক রহমান। 

শুধু তার কর্মপরিকল্পনাই নয়, তার কাজের মধ্যে রয়েছে সুক্ষè পলিটিক্সও। প্রতিপক্ষ দলকে কিভাবে ছক কষে আটকে দেয়া যায়, কোথায় কার কী দুর্বলতা সে অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ। দুর্বল স্থানে তার সক্রিয়তা ও তার ও তার দলের সমালোচনার পথ রুখে দেয়ার মত স্মার্ট কর্মপন্থায় সবাই অনেকটাই নিস্কৃয়তা দেখাচ্ছেন। বর্হিবিশ্বের সঙ্গেও তার উদার ও দেশের স্বার্থের পক্ষে থেকে যে পররাষ্ট্রনীতি ও দায়িত্ব গ্রহণের পরই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাতে জ¦ালানি সঙ্কট মুুহূর্তে সমাধানকরণ সব কিছুই যেন তারেক রহমান মুহূর্তে করে ফেলছেন। 

তার উপদেষ্টামন্ডলীতে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীর লোক। বিশেষ করে কাকে কোন স্থানে বসিয়ে কিভাবে ফল আদায় করা যায় সে কাজটাই তিনি করছেন। সেখানে তিনি কোথাও বিএনপি, কখনও সমমনা, কখন ভিন্নমতাদর্শ লোকজনকে একস্থানে রেখেছেন। 

লন্ডনে থাকতেই তিনি বলেছিলেন, সবাইকে নিয়েই তিনি দেশ পরিচালনা করবেন যদি ক্ষমতায় যেতে পারেন। তারেক সেটাই যেন মনে রেখে বাস্তবায়ন করছেন। ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষ বলতে শুরু করেছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশে পুরুষ কোনো প্রধানমন্ত্রী পেল। তারেকও সেই স্মার্টনেসটা দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন প্রথম একমাসেই। কথায় আছে, দিনটা কেমন যাবে সকালের সূর্য দেখলেই আন্দাজ করা যায়। মানুষ তারেক রহমানকে নিয়ে তেমনটাই আশাবাদ রাখতে শুরু করেছেন। যেহেতু বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মা বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক। বহু কাঠ খড় পুড়িয়ে আজ এই খানে। ওয়ান ইলেভেন কোনোমতে বেঁচে ছিলেন নিদারুণ অত্যাচারিত হয়ে। এরপর হারিয়েছেন, ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে। মা’কেও তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে দেখেছেন। নিজের দল বিএনপির নেতাকর্মীর উপর নির্যাতনের খড়গ চলেছে ১৭ বছর ধরে। সবকিছু সামনে রেখেই দেশের মানুষের কল্যাণে আবারও নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। কী করবেন কী হবে সেটা পরের কথা। শুরুটা তিনি দুর্দান্ত করেছেন এটা এখন ১৮ কোটি মানুষের মুখে মুখে। এমনকি তার ঘোরতর শত্রুর মুখেও। এভাবে তিনি চললে দেশ এগিয়ে যাবে সেটা আশার আলো ইতিমধ্যে তিনি দেখিয়েছেন সেটা বলে দেয়া যায় অনায়াসে। যেটা নানা প্রেক্ষাপটে দ্রুত ও চৌকষ বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে খুব অল্প সময়ে দেখিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজও মানুষের মনে বড় একটা স্থান তার জন্য। যেখানে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও তার জন্য অফুরন্ত দোয়া মানুষের এখনও।

শেয়ার করুন