০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ০৮:৪১:৪৪ অপরাহ্ন


ব্যাংক জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নেয়ামত গ্রেপ্তার
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৩-২০২৬
ব্যাংক জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নেয়ামত গ্রেপ্তার নেয়ামত উল্লাহর গাড়ির ভেতর থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার নগদ, স্বর্ণমুদ্রা ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ


ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেটের আপশুর কাউন্টি শেরিফস ব্যাংক জালিয়াতি, প্রতারণা চাঁদাবাজি ওস্প্যাম কল জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নেয়ামত উল্লাহ (৩১), তিনি বাফেলো-এর বাসিন্দা। অভিযানে তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ডলারেরও বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা এবং একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। বর্তমানে তাকে টাইগার্ট ভ্যালি রিজিওনাল জেল-এ ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নগদ জামিনে আটক রাখা হয়েছে।

শেরিফ মাইক কফম্যান জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি স্থানীয় ব্যাংক থেকে সন্দেহজনক লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি প্রতারক চক্র নিজেদের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তারা দাবি করত যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনলাইনে অনৈতিক বা বেআইনি কনটেন্টে প্রবেশ করেছেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এভাবে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাকহ্যাননের মাউন্টেন রিজ রোড এলাকার ৮৩ বছর বয়সী এক নারী এ প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি ফোন ও কম্পিউটারের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে তার কম্পিউটারে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয়। পরে দূরবর্তীভাবে কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০ ডলারের একটি লেনদেন জালিয়াতির মাধ্যমে ২০ হাজার ডলারে পরিবর্তন করা হয়। এরপর ওই নারীকে বিশ্বাস করানো হয় যে তিনি কম্পিউটারে অবৈধ কিছু দেখেছেন এবং এর ফলে তিনি আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন। আতঙ্কিত হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি নগদ অর্থ দিতে সম্মত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ওই বৃদ্ধাকে ১৮ হাজার ডলার নগদ অর্থ অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়ে বাড়িতে আসা এক ব্যক্তির হাতে দিতে বলা হয়। প্রতারকেরা একটি নির্দিষ্ট “পাসওয়ার্ড” ঠিক করে দেয়, যাতে সেই ব্যক্তি সঠিক লোক কি না তা নিশ্চিত হয়ে তিনি টাকা তুলে দেন। পরদিন আবার তাকে ২০ হাজার ডলার ব্যাংক থেকে তুলতে বলা হয়। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে শেরিফের দপ্তরে খবর দেন। এরপর সার্জেন্ট টাইলার এ. গর্ডনের নেতৃত্বে একটি ফাঁদ বা স্টিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। প্রতারক ফোনে নির্দেশ দেয় ২০ হাজার ডলার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মুড়ে, কাগজের ব্যাগে রেখে ডাকটেপ দিয়ে ভালোভাবে সিল করে তার ছবি তুলে পাঠাতে। প্রথমে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা নিতে আসার কথা থাকলেও পরে খারাপ আবহাওয়ার অজুহাতে সময় পরিবর্তন করা হয়। তদন্তে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তখন কাছাকাছি এলাকায় পেনসিলভানিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও নিউইয়র্কের পশ্চিমাঞ্চলে খারাপ আবহাওয়া ছিল ।

২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে একটি সাদা টয়োটা সেডান গাড়ি বাড়ির সামনে এসে থামে এবং চালক গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে এগোতেই তাকে আটক করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তিনি একটি অঙ্গরাজ্যের বাইরের নম্বরে ফোনে কথা বলছিলেন এবং আরবি ভাষায় কথা বলছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়। তাকে নেয়ামত উল্লাহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। গাড়ি তল্লাশি করে একটি জুতার বাক্সে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার নগদ অর্থ পাওয়া যায়। এছাড়া আরও একটি মোবাইল ফোন ও তার মানিব্যাগে প্রায় ১,৯০০ ডলার উদ্ধার হয়। নেয়ামত উল্লাহ স্বীকার করেছেন যে তিনি পেনসিলভানিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার ডলার সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় এনেছেন।

নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মোট ১১টি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রবীণ বা অক্ষম ব্যক্তির আর্থিক শোষণ, অর্থপাচার, হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি, গ্র‍্যান্ড লারসেনি, কম্পিউটার জালিয়াতি, র‌্যানসমওয়্যার-সম্পর্কিত জালিয়াতি, চুরির চেষ্টা, প্রতারণামূলক স্কিম পরিচালনা এবং অন্য অঙ্গরাজ্যে চুরি হওয়া সম্পদ এই অঙ্গরাজ্যে আনা বা লেনদেনের অভিযোগ। ২ মার্চ আপশুর কাউন্টি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে তার প্রাথমিক শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।

শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, তারাওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলস অফিস-এর তদন্তকারীদের পাশাপাশি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক ফোনকল বা লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন