প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত ২০০০ ডলারের ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক বিতরণের পরিকল্পনা কার্যত ঝুলে গেছে। ৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত বলেছে, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট(আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট সীমাহীন বা অনিয়ন্ত্রিত শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প ঘোষিত সম্ভাব্য ২ হাজার ডলারের টারিফ ডিভিডেন্ড চেক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থাগুলো বলেছে, ২০০০ ডলারের টারিফ ডিভিডেন্ড চেক বিতরণের পরিকল্পনা কখনো আলোর মুখ দেখবে না।
গত বছরের নভেম্বরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, উচ্চ আয়ের মানুষ বাদে প্রত্যেকে অন্তত ২ হাজার ডলার করে টারিফ ডিভিডেন্ড পাবেন। তবে এরপর থেকে সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও হোয়াইট হাউস অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট দুজনেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ ধরনের অর্থ বিতরণে কংগ্রেসের আইন প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তিনি হয়তো কংগ্রেস ছাড়াই অর্থ পাঠাতে পারবেন যদিও কীভাবে তা সম্ভব, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব দিয়ে বলছে, ২ হাজার ডলারের চেক দিতে গেলে ব্যয় ৪৫০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই ব্যায় এক বছরের সম্ভাব্য শুল্ক আয়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি। ট্যাক্স ফাউন্ডেশন, কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ল্যাবসহ সবাই সতর্ক করেছে যে, এই অর্থ ব্যয় করলে জাতীয় ঋণ কমানোর পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৮.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি শুল্ক আদায় করেছে বা করতে যাচ্ছে। কিন্তু ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ২৫৩.৩ বিলিয়ন ডলার শুল্ক, কর ও ফি আদায় হয়েছে।
সার্বিকভাবে, সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং অর্থায়নসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ইকোনোমিস্টদের মতে, ২০০০ ডলারের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য হতে পারে, এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সহজ হবে না। একই সঙ্গে শুল্কনীতি নিয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনাও নতুন চাপে পড়েছে। ফলে ট্রাম্প ঘোষিত এই অর্থ সহায়তা কর্মসূচি আপাতত ঝুলে থাকলেও ভবিষ্যতে আইনি ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপরই এর ভাগ্য নির্ভর করবে। তবে, বাস্তবে ট্রাম্প তার ট্যারিফ ডিভিডেন্ড চেক বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে না।