প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
বাংলাদেশে সর্বত্র স্বস্তির নিশ্বাস। বিএনপি, জামায়াত বা আওয়ামী লীগ- সবাই এক অস্বস্তি থেকে ফেলছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষে মানুষ এমন অভিব্যাক্তি প্রকাশ করছেন। তবে একেক জনের অভিব্যক্তি প্রকাশের ধরন একেক রকম। বিএনপি, জামায়াত বা আওয়ামী লীগ সবারটা কখনোই এক রকম হয় না। তবু তিন ধরনের লোকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কমন স্থানটা একই রকম। মানুষ ফেলছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। অনেকেই বলছেন অতীতে ফিরতে চাই না। নতুন শুরু হোক। আর সেটা তারেক রহমানের হাত ধরে। দেশের যখন ক্রান্তিলগ্ন, ঠিক তখন জিয়া পরিবারের কেউ না কেউ হাল ধরেছেন। শুরুটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপর বেগম খালেদা জিয়া। সে ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমান।
ফ্যাসিস্ট এক সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায় দেশের মানুষ প্রায় দেড় যুগ ধরে অশান্তি ও গণতন্ত্রহীনতায় ছিল সে থেকে মুক্ত হয় দেশ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে। প্রায় ১৪০০ তাজা মানুষের প্রাণ ও বহু মানুষের রক্তের বিনিময়ে হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসান ঘটায়। যার নেতৃত্বে ছিল দেশের তরুণ সমাজ। জেন জি। আজ সেই জেন জি’র রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা পেল গণতন্ত্র। যার হাল ধরলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন নেত্রী, গণতন্ত্রে ‘মা’ খ্যাত প্রয়াত খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী তারেক রহমান। আজ দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে যাত্রা শুরু করছে। এ সূচনা গণতন্ত্রের। এ সূচনা জেন জি’র রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বৈরাচারমুক্ত বদলে যাওয়া বাংলাদেশের নতুন সূচনা। কারণ যে সংস্কারে হাত দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার সেটার বাস্তবায়ন এ সংসদে। বিএনপিরও রয়েছে ৩১ দফার সংস্কার। ফলে এটা সত্যিকার অর্থেই এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা করছে তারেক রহমান।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশী-বিদেশী প্রায় ১২০০ আমন্ত্রিত অতিথির সামনে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পাঠ করান। তারেক রহমান দেশের ১১ তম প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তিতে তারেক রহমান’কে বাংলাদেশ সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপণে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আজ তারেক রহমানকে সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে নিয়োগদান করেছেন। প্রজ্ঞাপনটি আজ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
বিভিষীকাময় সেই অতীত
অনেকটাই গণতন্ত্রহীন আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছর। তিন তিনটি নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠান করে যে স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। সেটাই ছিল বিভিষীকাময় সেই অতীত। মানুষ অতীষ্ঠ্য হয়ে মাঠে নামার মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘঠানো হয় ২০২৪ এর ৫ আগস্ট। এরপর প্রফেসর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলটা সুখকর হওয়ার কথ থাকলেও সেটা হয়নি। বিপ্লব পরবর্তি একটা সরকার যেভাবে দেশ চালাবেন ভাবা হয়েছিল, সেটা হয়নি। মানুষের মধ্যে ছিল ভয়! দীর্ঘ দেড় বছরে চলে মব সন্ত্রাস। এ সময়টাও মানুষের কেটেছে নিদ্রাহীন, ভয়ে। আইনের শাসন মোটামুটি নিষ্কিয় ছিল। আইনশৃংখলাবাহিনী মনোনিবেশ করতে পারেনি কাজে। এতে মানুষের দুশ্চিন্তার আর অন্ত ছিল না। বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, চারদিকে মব সন্ত্রাস, ত্রাসের রাজত্ব, কথায় কথায় রাস্তায় নেমে পড়া, রাস্তা অবরোধ, হাজার হাজার ইস্যুতে আন্দোলন। মানুষকে জিম্মি করে ফেলা। সচিবালয় থেকে শুরু করে স্কুল। সর্বত্র মানুষকে জিম্মি করে যে আন্দোলন, কোথাও কোথাও উপায়ান্ত না দেখে দমনে গিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ, জল কামান ব্যবহার করে অস্থির করে তোলা। সাথে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, পুরানো ক্ষমতায় থাকা দলের সঙ্গে মিলে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য কন্ট্রোল করে ফ্যাসিস্ট আমলের সিস্টেম জারি রাখা- এসবের প্রায় সবই ছিল। নির্দিষ্ট কোনো দলের লোক এরা নয়। এরা বিভিন্ন দলের ব্যানার ব্যবহার করে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রেখে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে। বাজার সিন্ডিকেট থেকে শুরু সর্বত্র। সেটা সরকারি প্রতিষ্ঠান হোক আর হাটবাজার, কলকারখানা সর্বত্রই ছিলনা কোনো কন্ট্রোল। এ যেন এক অন্য দুনিয়া।
মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। মানুষের মুখ থেকে অস্পষ্ট স্বরে বের হতে থাকে- নির্বাচনটা কবে হবে? যে দলই আসুক। একটা নির্বাচিত দল এলে এসব আর থাকবে না। কারণ নির্বাচিত দল মানুষের ভোট নিয়ে এসে থাকে। মানুষের কাছে জবাবদীহীতা থাকে তাদের। তারা এলে এসবের অনেকটাই হ্রাস পাবে।
তারেক দেশে ফেরার সাথে সাথে নেমে আসে স্বস্তি
দেশে বহু নেতা ছিলেন। দেশের শাসন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধীকার ফিরিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকৃত বন্ধু বেছে নেয়া সহ হাজারো প্রতিশ্রুতি। কিন্তু দেড় বছরের অস্বস্তি মুছে দিয়ে কেউই স্বস্তি ফেরাতে পারছিল না। কিন্তু ২০২৫ এর ডিসেম্বরের শেষের দিকে যখন তারেক রহমান দেশে পা রাখলেন। গোটা বাংলাদেশে যেন এক বিদ্যুৎ ছড়িয়ে দিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। নেতা ফিরেছেন। নেতা এসেছেন। দেশের নেতৃত্ব দিতে তিনি এসেছেন। আর কোন ভয় নেই- এমন এক স্বস্তির পরশ সর্বত্র। মানুষ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর যে নেতৃত্বশুণ্য বিরাজ করছিল, হাহাকার বিরাজ করছিল সে শূন্যস্থান পূরণ করলেন তারেক রহমান। মব সন্ত্রাস থেকে শুরু যাবতীয় গণবিরোধী কার্যক্রম মুুহূর্তেই বিলীন। এ যেন অলিক এক যাদুর ছোঁয়া।
এরপর খালেদা জিয়ার পরলোকে চলে যাওয়া মানুষ শোকে মুহ্যমান। এর মধ্যদিয়ে ভোটের কার্যক্রম চলে আসা। এবং অনুষ্ঠিত হলো বহুল আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই ভোট।
বহুল আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দীর্ঘ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে লড়াই ছিল বাংলাদেশ, সেটাই বাস্তবায়িত হলো। বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছে। যাতে ভোটারের উপস্থিতি ৬০ শতাংশের মত। এত বিশাল সংখ্যক ভোটার ভোট দিতে গিয়ে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ছাড়াই নির্ধিদ্বায় ভোট দিলেন। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত করেছেন সেটা ছিল অসাধারণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সুষ্ঠু ভোটের মধ্যে সেরা।
এতে ২১২ আসন নিয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করলো। হিসেব মত বিএনপির আরো আসন লাভের কথা। কিন্তু ব্যাপক পরিমাণ বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে সেটা সম্ভবপর হয়নি। এরপর বিএনপির বিদ্রোহীদের মধ্যে সাত জন স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়ে জিতে এসেছে। এদেরকে বিএনপি দলভুক্ত করবে কি না সে সিদ্ধান্ত এক্ষুণিই নেয়নি।
অপরদিকে জামায়াত ইসলামী ও মিত্র জোট ৭৭ আসন লাভ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ইতিহাসে সর্বাদিক আসন প্রাপ্তি এটা। ভোট সংখ্যাও তাদের ব্যাপক বেড়েছে। এরমধ্যে এনসিপির ৬ আসন রয়েছে। ফলে এবারের সংসদ হবে নতুন পুরাতন, নবীন অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে।
তারেকের নেতৃত্ব বিএনপির নব সূচনা
মায়ের মৃত্যুর পর চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছেন তারেক রহমান। দেখতে দেখতে ৬০ বছরে পা রাখা তারেক রহমান এবারই প্রথম অংশ নিলেন জাতীয় নির্বাচনে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপরিচালনা বা বিরোধী দলের ভূমিকা বা ওই সময়ে তারেক রহমান মায়ের পাশে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েছেন। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামল হয়তো মনেই নেই তেমন কিছু। অত ছোট্ট বয়সে বাবা হারানোর স্মৃতিটাই তার খুব বেশি মনে থাকার কথা। তার বেশি কিছু না। ফলে তারেক ছোট্ট বেলা থেকেই বাংলাদেশের পলিটিক্সের ভেতর দিয়ে বা রাজনীতির ঘর থেকে শিখে এ পর্যায়ে এসেছেন। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসন থাকাকালীন মায়ের কারাগারে থাকা ও অসুস্থতার জন্য তারেক নিজেই বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্র দেখভাল করে সংগঠন টিকিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে প্রধান পতিপক্ষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ যেভাবে বিএনপিকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে, অমন পরিস্থিতিতে জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, সাহস যোগানো ও পথ নির্দেশকের ভূমিকা রেখে তারেকের কাছে বিএনপির একজন তৃণমূলের নেতারও একসেস রয়েছে। ফলে বিএনপির কোথায় কী দুর্বলতা বা সফলতা সেটা তারেকের চেয়ে বিএনপির আর কেউ জানে না।
বিএনপি এ নির্বাচনে সে সাংগঠনিক কর্মকান্ডের রেজাল্ট পেয়েছে। বিএনপির ইতিহাসে এতটা সফল ও নিরপেক্ষ ও দেশ বিদেশে সুনাম লাভ ও বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এক নির্বাচনে এত বিপুল পরিমাণ আসনে জয়লাভ এবং বাকি সব আসনে অলমোষ্ট নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যে সফলতা দেখিয়েছে সেটা বিরল কোনো ঘটনা।
ফলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের তুলনায় তারেক রহমানের সুচনা যে মোটেও পিছিয়ে নয়, তার ইঙ্গিত দিলেন জিয়া পরিবারের যোগ্য সন্তান।
মন্ত্রিপরিষদ গঠন
১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকল নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রথম বিএনপি ও বিএনপি জোট। এরপর জামায়াত ও এনসিপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই শপথ বাক্য পাঠ করান।
পরক্ষণেই বিএনপির সংসদীয় সদস্যরা বৈঠকে বসে সবার সর্বসম্মতিতে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এরপর বিরোধী দলের নেতা হিসেবে জামায়াত ও তাদের জোট ডা. শফিকুর রহমানকে নির্বাচিত করেন। ডা. তাহের হন বিরোধী দলীয় উপনেতা ও হুইপ হন নাহিদ ইসলাম।
বিএনপিও বসে ছিল না। ৪৯ সদস্যের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন। এবং তাদের শপথ বাক্যও পাঠ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশ বিদেশের বহু মেহমান। যাদের মধ্যে ছিল সরকার প্রধান, স্পিকারসহ অনেকে।
১৭ ফেব্রুয়ারির এ দিনেই সব কার্যক্রম শেষ করে বুধবার থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যার যার দফতরে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবারই তার সচিবালয়স্থ অফিসে যাবেন বলে জানান দিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ তাদের শেষ কার্যদিবসের সকল কাজ শেষ করে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নেন।
স্বস্তি সর্বত্র
এমন সফল সমাপ্তিতে কে খুশী নন?
আসি সেই সূচনার কথায়। গত দেড় বছরে চরম অস্বস্তিতে ছিল আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন। এখনও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল। দেশের বিভিন্ন স্থানে যে মব চলে তার বেশিরভাগ এ আওয়ামী ঘরনার মানুষের উপরই। কারণ তাদের অতীত কর্মকান্ডে মানুষ ছিল চরম অস্বস্তিতে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় দুটি অপশন ছিল আওয়ামী পন্থীদের কাছে। জামায়াতকে ভোট দেয়া বা বিএনপিকে। অনেক ভেবে-চিন্তে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল বিএনপিকেই বেছে নেন তারা। আওয়ামী লীগের বিশ্বাস একজন প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের সন্তান তারেক রহমান। তার কাছে এ দেশ নিরাপদ। তার কাছে দেশের মানুষও নিরাপদ। কিন্তু যার উল্টাটা হতে পারে জামায়াত ক্ষমতায় এলে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দলবেঁধে ভোট দিয়েছেন তারা ধানের শীষে। স্বস্তি খুঁজছেন তারেক রহমানের। ধানের শীষের (২১২ সিট) জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস। মুখে হাসি। অনেক কষ্টের পর ওই হাসির মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা।
জমায়াতও খুশী। দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারে সংসদে যাচ্ছে তারা বিপুল জয় নিয়ে। তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন ৭৭ টি। এটা জামায়াতের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আত্মবিশ্বাসে ভরে উঠেছে তাদের মন প্রাণ। জামায়াত যে ক্ষমতার লড়াই দিতে পেরেছিল বিএনপির চোখে চোখ রেখে, এটাই তাদের সবচে বড় প্রাপ্তি মনে করছে। স্বস্তিটা তাদের এ বিস্ময়কর উত্থানে।
বিএনপি তো এমনিই খুশী। বিগত ১৭ বছরে যত অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীকে। এরপরও তারা অটল ছিলেন দলীয় শৃংখলে। আজ তাতে সফলতা এসেছে বিপুল আসনে জয়। মানুষ তাদের বিশ্বাস করেছে। আস্থা রেখেছে। তারেককে প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে এটাও বড় এক আত্মতৃপ্তি, এটা কী আর বলার অপেক্ষা রাখে?