০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৩:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


‘না’ ভোটের শঙ্কা অন্তর্বর্তী সরকারে
সালেক সুফী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০১-২০২৬
‘না’ ভোটের শঙ্কা অন্তর্বর্তী সরকারে প্রতীকী ছবি


যুগপৎভাবে জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে চতুর্মুখী সংকট ততই ঘনীভূত হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচন করতে না পেরে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট বয়কটের আহবান জানিয়েছে। তৃণমূলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ভোটার ব্যাঙ্ক থাকায় নির্বাচনে হয়তো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সন্দেহ নেই।

 নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত বিএনপি জোট এবং জামাত ইসলাম জোটের মধ্যে। যখন লিখছি তখনও নির্বাচনী প্রচার শুরু হয় নি। শুরু হবে ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে। তবুও দলগুলো বিশেষত প্রার্থীরা নানাভাবে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে জনসংযোগ করছে। নোমিনেশন পেপার পরীক্ষা, বাছাই এবং অনুমোদন নিয়ে কমিশনের দ্বিচারিতা বিষয়ে অভিযোগ এনেছে রাজনৈতিক দলগুলো। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করছে কমিশনের বৈষম্যমূলক আচরণের। রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে এবং নির্বাচন কমিশনের একচোখা সিদ্ধান্ত বিষয়ে সরকার প্রধানের কাছে অভিযোগ করেছে। নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ এবং কিছু টার্গেট কিলিং জনমনে শংকা সৃষ্টি করেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূলে প্রার্থী বাছাই নিয়ে মতবিরোধ থাকায় কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছে। এই সঙ্কট বেশি প্রকট বিএনপির ক্ষেত্রে। ওপর দিকে চরমোনাই পীরের দল জামাত জোটে যোগদান না করায় ইসলামী দলগুলোর ভোট বিভক্ত হয়ে যাবে। সুবিধা পাবে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট। 

দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণ খেলাপি অভিযোগ গুলো বিতর্ক সৃষ্টি করছে। এই বিষয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ আছে। প্রার্থীরা হলফ নামায় সত্যিকার তথ্য সবাই তুলে ধরেছেন বলে মনে হয় না। জুলাই আন্দোলনের নেতাদের একাংশের দল এনসিপি নির্বাচন কমিশনের একচোখা মনোভাবের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পরার অভিযোগ তুলে ইনকিলাব মঞ্চ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার হুমকি দিয়েছে।

সরকার জোরে সোরে গণভোটে হ্যাঁ বলার জন্য প্রচার শুরু করেছে। প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ‘হ্যা’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে করে বুঝাই যা সরকার বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায়। যদি ‘না’ জিতে যায়, তাহলে সমূহ বিপদ। জুলাই সনদ বিষয়টি বেশ জটিল। সাধারণ ভোটাররা খুব একটা বোঝেন বলে- সন্দেহ আছে। সরকার যতটা সংস্কার বিষয়ে আগ্রহী তার চেয়ও উদ্বিগ্ন না ভোট জয় যুক্ত হলে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে। যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দল জুলাই সনদ প্রণয়নে অংশীদার এবং সরকার স্বয়ং হ্যাঁ ভোটের অংশীজন তাই হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হবে বলাই যায়। না হলে কিন্তু বিশাল জটিলতার সৃষ্টি হবে।

আরো শংকা আছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। জুলাই আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনের সময় থানা এবং জেলখানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এবং গোলা বারুদের বিরাট অংশ উদ্ধার হয় নি। দণ্ডিত সন্ত্রাসী এবং দুস্কৃতিকারী অনেকেই জামিন পেয়ে দেশব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনকালে বর্তমান সময়ে অগোছালো আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্থাগুলো কতটুকু নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে সন্দেহ আছে। 

সবার কামনা শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। ভোটাররা নির্ভয়ে মুক্ত পরিবেশে ভোট দিয়ে সৎ যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনী করুক। বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্ত এবং স্থিতিশীল হোক সেই কামনা করি।

শেয়ার করুন