ফ্লোরিডা গভর্নও রন ডেস্যান্টিস
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসকে গত ৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে ফ্লোরিডা গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের ‘অসাংবিধানিক’ নির্বাহী আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং ক্ষমতার বিভাজন নিয়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই নির্বাহী আদেশকে “প্রকাশ্যভাবে অসাংবিধানিক” অ্যাখ্যা দিয়ে গভর্নরের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার), কেয়ার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড, মুসলিম লিগ্যাল ফান্ড অব আমেরিকা, সাউদার্ন পভার্টি ল’ সেন্টার এবং আইন ফার্ম আকিল অ্যান্ড ভ্যালেন্টাইন যৌথভাবে এই মামলাটি দায়ের করেছে গত ১৫ ডিসেম্বর সোমবার ফ্লোরিডার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতে।
মামলার মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর যখন গভর্নর রন ডেস্যান্টিস নির্বাহী আদেশ নম্বর ২৫-২৪৪ জারি করেন। ওই আদেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কেয়ার-কে একতরফাভাবে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে ফেডারেল সরকারের। বিশেষ করে পররাষ্ট্র দপ্তর ও বিচার বিভাগের হাতে। কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই।
নির্বাহী আদেশে ডেস্যান্টিস শুধু কেয়ার-কে লক্ষ্য করেই থেমে থাকেননি। তিনি ফ্লোরিডার সব নির্বাহী ও মন্ত্রিসভা-সংক্রান্ত সংস্থা, এমনকি কাউন্টি ও সিটি ও টাউনগুলোকে নির্দেশ দেন যেন তারা কেয়ার বা কেয়ার -এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি, চাকরি, অনুদান, সুবিধা ও সরকারি সম্পর্ক বাতিল করে। আরও গুরুতর বিষয় হলো, এই আদেশে কেয়ার -কে যেকোনো ধরনের “ম্যাটেরিয়াল সাপোর্ট” দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়, যার মধ্যে ‘বিশেষজ্ঞ পরামর্শ’ বা সহযোগিতামূলক মতামত পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই আদেশ কার্যকর হলে তা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানে।
নির্বাহী আদেশে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল’ এনফোর্সমেন্ট এবং ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোলকে কেয়ার -এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে কী ধরনের ব্যবস্থা, কোন আইনি প্রক্রিয়ায়, বা কোন অভিযোগের ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে আদেশে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। মামলাকারী আইনজীবীদের মতে, এই অস্পষ্টতা ইচ্ছাকৃত এবং তা একটি ভয়ভীতি ও দমনমূলক পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, গভর্নর ডেস্যান্টিস একাধিক সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করেছেন। প্রথমত, তিনি ফেডারেল সরকারের একচেটিয়া ক্ষমতা দখল করে নিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার বিভাজন নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। দ্বিতীয়ত, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি আইনসম্মত অলাভজনক সংস্থাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ডিউ প্রসেস বা ন্যায্য বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। তৃতীয়ত, কেয়ার এবং এর সমর্থকদের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রথম সংশোধনীর অধীনে সুরক্ষিত বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে।
মামলায় প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘনের অভিযোগটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কেয়ার দাবি করেছে, গভর্নর ডেস্যান্টিস এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন মূলত রাজনৈতিক প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার, ইসলামোফোবিয়া বিরোধী প্রচারণা এবং মুসলিম নাগরিক অধিকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রো-প্যালেস্টাইন ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে গভর্নরের আগের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কেয়ার ফেডারেল আদালতে মামলা করেছিল-যার পরিপ্রেক্ষিতেই এই আদেশকে প্রতিশোধমূলক বলে দাবি করা হয়েছে।
ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার), কেয়ার-ফ্লোরিডা এবং তাদের সহযোগী মানবাধিকার সংগঠনগুলো আদালতের কাছে একাধিক নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রতিকার চেয়েছে। মামলায় আদালতের নিকট গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের নির্বাহী আদেশ ২৫-২৪৪ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও ফেডারেল আইনের পরিপন্থী হওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ একান্ত জরুরি।
প্রথমত, মামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ২৮ ইউএসসি ১৯৮৮, ২৮ ইউএসসি ২২০১ অনুযায়ী আদালতের কাছে একটি ঘোষণামূলক রায় চেয়েছেন। তারা চান আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিক যে নির্বাহী আদেশ ২৫-২৪৪ অবৈধ, অসাংবিধানিক, বাতিলযোগ্য এবং এর কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই।
দ্বিতীয়ত, মামলাকারীরা জরুরি ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছেন। এই আদেশের মাধ্যমে আদালত যেন গভর্নর ডেস্যান্টিস, তার প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সবাইকে নির্বাহী আদেশ ২৫-২৪৪ কার্যকর করা, বাস্তবায়ন করা, প্রকাশ করা বা এর ওপর নির্ভর করা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন।
তৃতীয়ত, মামলার বিচার চলাকালীন পুরো সময়ের জন্য একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী আদেশটি কার্যকর থাকলে কেয়ার ও এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে, যা পরবর্তীতে কোনো আইনি প্রতিকারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে না।
চতুর্থত, মামলার চূড়ান্ত রায়ে আদালতের কাছে একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে গভর্নর ডেস্যান্টিস এবং ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কোনো সংস্থা বা কর্মকর্তা যেন ভবিষ্যতেও নির্বাহী আদেশ ২৫-২৪৪ কার্যকর করতে, প্রয়োগ করতে বা এর ওপর নির্ভর করতে না পারে-সে বিষয়ে স্থায়ী নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
পঞ্চমত, মামলাকারীরা আদালতের কাছে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনামূলক আদেশ প্রার্থনা করেছেন। এই আদেশে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে: এক. নির্বাহী আদেশ ২৫-২৪৪ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার ও বাতিল করতে হবে। দুই. ওই নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে তৈরি বা আরোপ করা সব ধরনের রাজ্য-পরিচালিত শ্রেণিবিন্যাস, লেবেল, তালিকা বা ঘোষণা-বিশেষ করে কেয়ার ও কেয়ার-ফ্লোরিডা-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা সব তথ্য, ফ্লোরিডা সরকারের সব প্রকাশনা, ডাটাবেস, ওয়েবসাইট এবং জনসম্মুখে ব্যবহৃত নথি থেকে অপসারণ করতে হবে। তিন. ভবিষ্যতে কোনো সরকারি উদ্দেশ্যে এসব বক্তব্য, তালিকা বা ঘোষণার ওপর আর কোনোভাবেই নির্ভর করা যাবে না-এ মর্মে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ দিতে হবে। ষষ্ঠত, মামলাকারীরা আদালতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ঘোষণা চেয়েছেন, যাতে বলা হবে, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের কাছে ফ্লোরিডা আইন বা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অধীনে কোনো দেশীয় অলাভজনক সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই।
মামলায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আইন ৪২ ইউএসসি ১৯৮৮ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় যুক্তিসংগত আইনজীবী ফি ও মামলার খরচ আদায়ের আবেদন জানানো হয়েছে। মামলাকারীরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এই মামলা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসন রক্ষার জন্য। সবশেষে, আদালতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো অতিরিক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও উপযুক্ত প্রতিকার আদালত প্রয়োজন মনে করলে তা প্রদানের জন্য।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার এই প্রেয়ার ফর রিলিফ অংশটি শুধু একটি নির্বাহী আদেশ বাতিলের দাবি নয়; বরং এটি ভবিষ্যতে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর যেন রাজনৈতিক বা আদর্শগত বিরোধের কারণে নাগরিক অধিকার সংগঠনকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারেন। সে বিষয়ে একটি শক্ত সাংবিধানিক সীমারেখা নির্ধারণের প্রয়াস।
কেয়ার লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডের লিটিগেশন ডিরেক্টর লেনা মাসরি এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো রাজনীতিবিদের এমন অধিকার নেই যে তিনি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবেন এবং নিজের অপছন্দের একটি আমেরিকান সংগঠনকে অপরাধী ঘোষণা করে তার সমর্থকদেরও শাস্তির মুখে ফেলবেন। এটি এখনো আমেরিকা,যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায্য বিচার ও সাংবিধানিক অধিকার মূল্যবান। তিনি আরও বলেন, এই মামলা শুধু কেয়ার-এর জন্য নয়, বরং সব আমেরিকানের অধিকার রক্ষার লড়াই।
সাউদার্ন পভার্টি ল’ সেন্টারের লিগ্যাল ডিরেক্টর আর্থার আগো বলেন, ডেস্যান্টিসের নির্বাহী আদেশ আমেরিকান মুসলমানদের হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তার ভাষায়, এটি বহু দশক ধরে চালু থাকা মুসলিমবিদ্বেষী রাজনীতিরই ধারাবাহিকতা। আমরা কেয়ার এবং কেয়ার-ফ্লোরিডা -এর পাশে দাঁড়াব এবং নিশ্চিত করব যেন তারা তাদের নাগরিক অধিকার ও আন্তঃধর্মীয় কাজ অব্যাহত রাখতে পারে।
মুসলিম লিগ্যাল ফান্ড অব আমেরিকার লিগ্যাল ডিরেক্টর মারিয়াম উদ্দিন এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ভাবে একসময় বর্ণবাদী গভর্নররা এনএসিসিপি-কে দমন করতে চেয়েছিল, ঠিক সেভাবেই আজ ডেস্যান্টিস কেয়ার-কে লক্ষ্য করেছেন। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে ,এ ধরনের অবৈধ ও বিদ্বেষপ্রসূত প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
আইন ফার্ম আকিল অ্যান্ড ভ্যালেন্টাইন একে ‘আইনের শাসনের জন্য ঐতিহাসিক লড়াই’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এই মামলা কেয়ার-এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নয়; বরং এটি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে-কোনো সরকারি কর্মকর্তা কি আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করতে পারেন?
কেয়ারএবং কেয়ার-ফ্লোরিডা -এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা এই মামলা করেছি গভর্নর ডেস্যান্টিসকে স্মরণ করিয়ে দিতে যে তিনি ফ্লোরিডার গভর্নর, ফ্লোরিডার রাজা নন। তারা জানান, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সংগঠনটি ফ্লোরিডার মুসলিম ও অমুসলিম সব নাগরিকের অধিকার রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে।
এই মামলার আগে এই মামলার আগে কেয়ার গভর্নরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়, যেখানে নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, গভর্নরের কোনো এখতিয়ার নেই আমেরিকান নাগরিক বা সংগঠনকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার। চিঠিতে কেয়ার তাদের তিন দশকের ইতিহাস তুলে ধরে জানায়, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বর্ণগত সমতার পক্ষে কাজ করে আসছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কেয়ার শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, বরং ইসলামিক স্টেটস-এর মতো সংগঠনের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে কথা বলেছে।এমনকি ইসলামিক স্টেটস তাদের নেতৃত্বকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল। একই সঙ্গে কেয়ার হামাসের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলারও নিন্দা করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে গভর্নর ডেস্যান্টিসের ইসরায়েলপন্থী অবস্থান এবং ফ্লোরিডার সরকারি সম্পদ বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। এতে বলা হয়, ডেস্যান্টিস ফ্লোরিডার জনগণের চেয়ে একটি বিদেশি সরকারের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফ্লোরিডার এই মামলা একক ঘটনা নয়। এর ঠিক আগের মাসেই টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে ফেডারেল মামলা করা হয়। সেখানেও কেয়ার -এর টেক্সাস শাখাকে “বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন” আখ্যা দিয়ে নাগরিক জরিমানার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্য বনাম ফেডারেল ক্ষমতার সীমারেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি নির্ধারণ করবে। কোন পর্যায়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনে পরিণত হয়। এই মামলার রায় শুধু কেয়ার বা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং আইনের শাসনের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।