০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৭:৩৪:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


বিএনপি নেতা তুহিনের মুক্তি দাবিতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের বিক্ষোভ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-০৫-২০২৫
বিএনপি নেতা তুহিনের মুক্তি দাবিতে জাতীয়তাবাদী ফোরামের বিক্ষোভ বক্তব্য রাখছেন গিয়াস আহমেদ


নিউইয়র্কে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ফোরামের এক প্রতিবাদ সমাবেশে অন্তর্র্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলা হয় যে, ১/১১ তে গঠিত মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের আমলে দায়েরকৃত রাজনৈতিক প্রহিংসাপরায়ন মামলা থেকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও নীলফামারি-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। গত ৩ মে অপরাহ্নে জ্যাকসন হাইটসে ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ আরো অভিযোগ করেন, মামলা-হামলার আতঙ্কে ১৭ বছর আগে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক এসেছিলেন সাবেক এই এমপি তুহিন। তার অনুপস্থিতিতেই সাজানো মামলায় শাস্তি দিয়েছে মঈন-ফখরুদ্দীনের কথিত আদালত। দীর্ঘদিন পর গত সপ্তাহে স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে ফিরেই এমপি তুহিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গিয়াস আহমেদ অভিযোগ করেন, প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড়বোনের ছেলে, এটাই কি তার অপরাধ? একই ধরনের সাজানো মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত অনেকেই স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশের আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এমপি তুহিনের অপরাধ কোথায়? একই ধরনের মামলায় মুক্তি পেয়েছেন জামাত নেতা আবু তাহের।

জাতীয়তাবাদী ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম এম হায়দার মুকুট ও সাবেক সভাপতি সরোয়ার খান বাবু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাফেল তালুকদার। এ সময় আরো বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা এম এ সবুর, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন, আশরাফুজ্জামান, মনিরুল ইসলাম মনির, দেওয়ান কাউছার, শাহাদাত হোসেন রাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ আলী মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে এমপি তুহিনের বিনাশর্তে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

রাফেল তালুকদার বলেন, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অধিকাংশই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে মামলাগুলোর বিচার এখনো চলছে। অথচ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই মামলাগুলো প্রত্যাহার হওয়ার কথা ছিল। তিনি আরো বলেন, তুহিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থাকালে বিএনপির বহু অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এমনকি কোটা সংস্কার আন্দোলনেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি আরো বলেন, আমরা বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলন করেছিলাম কিন্তু এখনো দেখছি বৈষম্য রয়েছে। তিনি অবিলম্বে তুহিনের মুক্তি দাবি করেন।

প্রফেসর রফিকুল ইসলাম তুহিনকে জেলে পাঠানোর তীব্র সমালোচনা করেন বলেন, এই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে অবিলম্ব নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে না তারা দ্রুত নির্বাচন দেবেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত নির্বাচন দিয়ে মানে মানে কেটে পড়ুন। তা না হলে আপনাদের কপালেও দুর্ভোগ আছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলেও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এখনো তার দোসরেরা ঘাপটি মেরে রয়েছে বলেই বিএনপির এই নেতাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া না হলে প্রবাস থেকেই দুর্বার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন বক্তারা। 

শেয়ার করুন