০২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৯:৩৮:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অ্যাডভান্সড প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি ইসলামবিদ্বেষী গ্রাফিতি ঘিরে মুসলিম কম্যুনিটিতে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদের হার ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ইসরায়েল ডে প্যারেড বর্জনের ঘোষণা জোহরান মামদানির ওজনপার্ক মসজিদ আল-আমানের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থা, বললেন রুবিও নিউইয়র্কে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ আবেদন শুরু ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসনের পরিকল্পনা ঘোষণা মেয়রের উপকূলের ১৯ জেলার প্রাণ-প্রকৃতি ঝুঁকিতে


দেশকে তৌকীর আহমেদ
চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে বইপত্র ঘাটতে হয়েছে
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-১০-২০২৩
চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে বইপত্র ঘাটতে হয়েছে তৌকির আহমেদ


তৌকীর আহমেদ। নন্দিত অভিনেতা ও নির্মাতা। সম্প্রতি দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’। এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকায়। এ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রবাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আলমগীর কবির

প্রশ্ন: লম্বা বিরতির পর অভিনয় করলেন। তাও ঐতিহাসিক ছবিতে। অভিজ্ঞতা কেমন?

তৌকীর আহমেদ: সিনেমার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। কারণ মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটি খুবই পরিকল্পিত। আর গুছানো যে কোনো কিছুই আমার ভালো লাগে। 

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করে এই সিনেমাটি হিট সিনেমার তকমা পাবে?

তৌকীর আহমেদ: সিনেমাকে ঠিকঠাকভাবে প্রচার করা বা আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারলে হিট না হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটা সিনেমা হিট হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে সেই সিনেমার ভালো বা খারাপ হওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।

প্রশ্ন: এই সিনেমায় নাকি তাজউদ্দীন আহমেদের চরিত্রে অডিশন দিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর করেছেন?

তৌকীর আহমেদ: আমি এ ছবিতে শুধু কাজ করতে চেয়েছিলাম। যখন শুনলাম তাজউদ্দীনের পরিবর্তে আমাকে সোহরাওয়ার্দী চরিত্রে অভিনয় করতে হবে, তখন আমি এটিকে প্রমোশনই মনে করেছি। কেননা, সিনেমায় তাজউদ্দীন সাহেবের চরিত্রের ব্যাপ্তির চেয়ে সোহরাওয়ার্দীর চরিত্রটির ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব বেশি। আমি আমার জায়গা থেকে সেরাটা করার চেষ্টা করেছি। এখন দর্শকরা আমার অভিনয়ের জন্য অনেক ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। এটি ভালো লাগছে। 

প্রশ্ন: এমন একটি চরিত্র ফুটিয়ে তোলা কতটা কঠিন ছিল?

তৌকীর আহমেদ: আসলে শিল্পের যে কোনো কাজই একটি চ্যালেঞ্জ। ঐতিহাসিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা আরও কঠিন। কারণ, সেটি মানুষের পারসেপশনে আছে, ইতিহাসের পাতায়ও আছে। সুতরাং সেটিকে যেনতেনভাবে উপস্থাপন করা যায় না। তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে এবং ভেবেচিন্তে কাজটি করতে হয়েছে। 

প্রশ্ন: এই চরিত্রের জন্য আপনার প্রস্তুতি কী রকম ছিল?

তৌকীর আহমেদ: অভিনেতা হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর চরিত্র ধারণ করা যে কারও জন্যই আনন্দের। আমাদের দেশ ও রাজনীতির ইতিহাসে তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক চরিত্র। আমাদের দেশের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা অনেক। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে তাঁর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যময়। সুতরাং একটি বড় পরিসরে প্রস্তুতি তো নিতেই হচ্ছে। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে নানান বইপত্র ঘাটতে হয়েছে আমাকে। মূলত সোহরাওয়ার্দীর জীবনী এবং তাঁর ওপর লেখা বিভিন্ন বই আমাকে দারুণ সাহায্য করেছে। কিছু ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকেও তথ্য পেয়েছি, যারা তাঁকে দেখেছেন। অনেকের স্মৃতিচারণের মধ্য থেকেও তাঁর সম্পর্কে জেনেছি। তাঁর ইন্টারভিউর কিছু ফুটেজ দেখেছি। সেগুলো কাজে লেগেছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী আমাদের একটি ব্রিফ দিয়েছিলেন। তিনি আমায় বলেছিলেন, উনি কিন্তু ভালো বাংলা বলতে পারেন না। ইংরেজি, উর্দু এসব মিলিয়েই চরিত্রটিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের কী বক্তব্য ছিল?

তৌকীর আহমেদ: শ্যাম বেনেগাল অনেক গুণী নির্মাতা। তিনি একজন অভিনেতার ওপর নির্ভর করেছিলেন। মনে আছে, তিনি আমাকে কোথাও ডিকটেক করেননি। প্রতিটি দৃশ্যের চিত্রায়ণের পর উৎসাহ দিয়েছেন। 

প্রশ্ন: মঞ্চে কাজের অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লেগেছে?

তৌকীর আহমেদ: অভিনয় তো অভিনয়ই। তা যে মাধ্যমেই হোক না কেন। এর পরও মঞ্চের অভিজ্ঞতা আমার সব সময় কাজে লাগে। কারণ, আমার বিদ্যাপীঠ তো মঞ্চ। যা শিখেছি, মঞ্চ থেকেই শিখেছি। এরপর সেগুলোর অনুশীলন করেছি। এখনও করছি। ভালো লেগেছে। লোকেও ভালো বলছেন।

শেয়ার করুন